X
মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

ওমানকে হারাতে যা করতে হবে বাংলাদেশকে

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৬:৫৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের সামনে আজ (মঙ্গলবার) কঠিন পরীক্ষায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। সুপার টুয়েলভের আশা বাঁচিয়ে রাখতে যেভাবেই হোক মাহমুদউল্লাহদের জিততেই হবে।

পরিস্থিতি এখন এমন যে শক্তি-সামর্থ্যে এগিয়ে থাকার পরেও টাইগারদের ঘিরে শঙ্কার কালো মেঘ দানা বেঁধেছে, যা মোটেও অমূলক নয়। কেননা, উদ্বোধনী দিনে আরেক সহযোগী সদস্য স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে সুপার-১২-তে যাওয়ার পথটা কঠিন করে ফেলেছে বাংলাদেশ। এমনিতে র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের ধারে-কাছেও নেই ওমান। কিন্তু স্কটল্যান্ড-বিপর্যয়ের পর বদলে গেছে বাস্তবতা। তাই তো ওমানকেও শক্ত প্রতিপক্ষ মনে হচ্ছে!

এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে অংশ নিতে হলে সবকিছু ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে হবে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। সহজ প্রতিপক্ষের সামনে কাজটা কঠিন মনে হলেও আদতে কঠিন নয়। মাঠে বেশ কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলে ওমানকে সহজেই হারানো সম্ভব।

উইকেট পড়তে পারা

প্রথমত, উইকেট ভালোভাবে পড়তে হবে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ উইকেট সম্পর্কে ভালো ধারণা নিতে পারেননি। যে কারণে টস জিতে বোলিং নিয়েছিলেন। ব্যাটিংবান্ধব উইকেট হলেও স্পিনারদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। উদ্বোধনী দিন পাপুয়া নিউগিনিকে স্পিন আক্রমণ দিয়েই কুপোকাত করেছিল ওমান। বাংলাদেশ সেখান থেকেও ধারণা নিতে পারেনি। মঙ্গলবার ওমানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে উইকেট জাজমেন্ট তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উইকেট পর্যালোচনা করেই একাদশ সাজাতে হবে। 

বুদ্ধি ও কৌশলে এগিয়ে থাকতে হবে

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বুদ্ধি ও কৌশলের মারপ্যাঁচে পড়েই মূলত হেরে গেছে বাংলাদেশ। ওমানের আল আমিরাত মাঠের স্কয়ার অব দ্য উইকেটের সীমানাটা বেশ বড়। সেই তুলনায় উইকেট বরাবর দুই প্রান্ত অনেক ছোট। ফলে সেখানে ওভার বাউন্ডারি মারা বেশ সহজ। বাংলাদেশ দল সেই চেষ্টা না করে স্কয়ার অব দ্য উইকেটে শটস খেলেই আউট হয়েছে বেশি। স্কটল্যান্ড বোলাররা কৌশলেই বাংলাদেশের ব্যাটারদের বাধ্য করেছিল স্কয়ার অব দ্য উইকেটে খেলতে। এখানেই স্কটল্যান্ডের বুদ্ধি ও কৌশলের কাছে হেরে গেছে বাংলাদেশ দল। ওমানের বিপক্ষে বিষয়টি মাথায় রেখেই মাঠে নামতে হবে।

ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলা

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই তো চার-ছক্কার ফুলঝুরি। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এই জায়গাতে ঘাটতি আছে প্রচুর। এমনকি প্রথম ৬ ওভারেও তারা যথেষ্ট রান তুলতে ব্যর্থ হন, হাতে উইকেট থাকার পরেও! ওমানের বিপক্ষে এমন কিছু করলে হার এড়ানো সম্ভব হবে না। প্রথম পাওয়ার প্লের সুযোগটা কাজে লাগিয়ে স্কোরবোর্ডে যথেষ্ট রান তুলতে হবে টপ অর্ডার ব্যাটারদের। সেটি হয়নি বলেই স্কটিশদের বিপক্ষে সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরা রান রেটের চাপটা নিতে পারেননি। মঙ্গলবার দুই ওপেনারকেই মূলত এই দায়িত্বটা নিতে হবে।

স্ট্রাইক রোটেট করা

স্ট্রাইক রোটেশন নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের সমস্যা পুরনো। অথচ কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে স্ট্রাইক রোটেট করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওভারে বাউন্ডারি না এলেও সিঙ্গেলস-ডাবলস নিয়ে পুষিয়ে দেওয়ার মানসিকতা থাকা জরুরি। শুরুতে ডট বল দিয়ে শেষে ঝড় তুলে পুষিয়ে দেওয়ার মানসিকতায় টপ অর্ডারের ৫ ব্যাটারের কেউ স্ট্রাইক রোটেট করতে পারেননি। ওমানের বিপক্ষে সেটি হলে ভয়ংকর পরিস্থিতিতেই পড়তে হবে মাহমুদউল্লাহর দলকে।

মিরপুরের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা

টানা দুই সিরিজে ধীর উইকেটে ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। ওমানেও অভ্যাসগত সেই ব্যাটিং থেকে তারা বের হতে পারেনি। কিন্তু স্বাগতিকদের বিপক্ষে আজ মিরপুরের ‘অভ্যাস’ ত্যাগ করতে হবে। টি-টোয়েন্টি সুলভ ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চড়াও হতে হবে। আগের ম্যাচে মাহমুদউল্লাহও স্বীকার করেছেন, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য পারফেক্ট ছিল, তারাই পারেননি।

২০১৬ বিশ্বকাপের অনুপ্রেরণা

ওমানের বিপক্ষে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ওমানকে বৃষ্টি আইনে ৫৪ রানে হারায় তারা। ব্যাট হাতে ৬৩ বলে ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন তামিম ইকবাল। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে এটিই একমাত্র সেঞ্চুরি। এবার সেই ওমানই সামনে। দলের ব্যাটারদের সামনে সুযোগ তামিমকে অনুসরণ করার পাশাপাশি ওই ম্যাচ থেকে প্রেরণা নেওয়া।

ওমানকে খাটো করে না দেখা

শক্তি-সামর্থ্য-ঐতিহ্য সবদিক থেকেই ওমানের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে বাংলাদেশ। কিন্তু বিশ্বকাপ ঐতিহ্য দিয়ে হয় না। তখন ক্রিকেটটা হয়ে দাঁড়ায় ‘ডিফারেন্ট বল গেম’। মাঠের সেরাটা যারা নিংড়ে দিতে পারেন, তারাই জয়ী হন। সবকিছুতে এগিয়ে থাকলেও ওমানের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ কয়েকটি জায়গায় পিছিয়ে। প্রথমত, স্বাগতিক হওয়ার কারণে কন্ডিশন সম্পর্কে তাদের ভালো জানাশোনা। যদিও আইসিসির ইভেন্ট বলে হয়তো বাড়তি সুবিধা নিতে পারবে না ওমান। কিন্তু সারা বছর ধরে এই মাঠে খেলেই অভ্যস্ত তারা। সেজন্য এই মাঠ হাতের তালুর মতোই তাদের চেনা। উদ্বোধনী দিনে তারা পাপুয়া নিউ গিনিকে যেভাবে উড়িয়ে দিয়েছে, তাতে নির্ভার থাকা যাচ্ছে কই? বিশেষ করে ওমানের বোলিং আক্রমণ বেশ ধারালো। ইদানীং ব্যাটিংটাও ভালো হচ্ছে। সব মিলিয়ে মরুর ‍বুকে জয়ের ফুল ফোটাতে হলে প্রতিপক্ষকে নিয়ে ভিন্নভাবেই ভাবতে হবে।

/এফআইআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ভারতকে ৫৩ রানে গুটিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

ভারতকে ৫৩ রানে গুটিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

অভিষেকে রঙিন গল্প লেখা হলো না জয়ের

অভিষেকে রঙিন গল্প লেখা হলো না জয়ের

শেষ বিকালে লন্ডভন্ড বাংলাদেশ

শেষ বিকালে লন্ডভন্ড বাংলাদেশ

আইসিসির মাস সেরার তালিকায় বাংলাদেশের নাহিদা

আইসিসির মাস সেরার তালিকায় বাংলাদেশের নাহিদা

quiz
সর্বশেষসর্বাধিক
© 2021 Bangla Tribune