X
সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

মাজারের দুই খাদেমের সঙ্গে কথা বলে কোরআন নিয়ে যান ইকবাল

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ২১:২১

কুমিল্লা শহরের নানুয়াদিঘির উত্তর পাড়ে পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখা সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইকবাল হোসেনকে নিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে ইকবাল হোসেন কারও প্ররোচনায় পূজামণ্ডপে কোরআন রেখেছিলেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। সেদিন মাজারের দুই খাদেমের সঙ্গে কথা বলে কোরআন নিয়ে যান ইকবাল। এমন একটি সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের কাছে রয়েছে। ওই ফুটেজ দেখে দুই খাদেমকে আটক করেছে পুলিশ। 

তারা হলেন ফয়সাল ও হাফেজ হুমায়ুন। তাদের আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পুলিশ। তবে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্র আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্র জানায়, নানুয়াদিঘির পাশেই শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজার মসজিদ। মাজার মসজিদ থেকে কোরআন এনে পূজামণ্ডপে রাখা হয়েছিল। মাজারের বারান্দায় দর্শনার্থীদের তিলাওয়াতের জন্য কোরআন রাখা হতো। ঘটনার দিন রাতে মাজারে ঢুকে দুই খাদেমের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন ইকবাল। এরপর একটি কোরআন শরিফ আলাদা করে রেখে চলে যান দুই খাদেম। কিছুক্ষণ পর ইকবাল ওই কোরআন নিয়ে মন্দিরে যান। ফুটেজ দেখে ফয়সাল ও হুমায়ুনকে আটক করা হয়।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ জানায়, ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে কোরআন নিয়ে পূজামণ্ডপে রাখেন ইকবাল। এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলা চালানো হয়।

প্রতিবেশী ও ইকবালের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ইকবাল মানসিক ভারসাম্যহীন। এক বছরের বেশি সময় ধরে ওই মাজারে যাতায়াত ছিল। পূজামণ্ডপ থেকে মাজার কাছাকাছি হওয়ায় যে কেউ তাকে দিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

অবশ্য বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ইকবাল হোসেন কারও প্ররোচনায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন। পলাতক ইকবাল হোসেনকে ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তাকে ধরতে পারলেই সবকিছু পরিষ্কার হবে।

ইকবালের নানির বাড়ির সংলগ্ন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ সোহেলের কয়েকজন কর্মীকে একটি ভিডিও দেখিয়ে ইকবালের বিষয়ে জানতে চেয়েছিল পুলিশ। কর্মীদের একজন মো. মাজেদুল হক বাদল বলেন, ভিডিওতে দেখা গেছে, ইকবালের হাতে দুই ব্যক্তি কোরআন তুলে দিচ্ছেন। তারা মাজারের খাদেম।

ইকবালের মা বিবি আমেনা বলেন, ‘পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ হওয়ার পর ইকবালের বাবা নূর আহমদ, ভাই সাফায়েত ও মামা তাজুল ইসলামকে পুলিশ পরিচয়ে বুধবার রাতে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় সাদা পোশাকধারীরা। এর আগে ইকবালের ছোট ভাই রায়হানকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ।’

তিনি বলেন, ‘ইকবাল মাদকাসক্ত। নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকায় নানার বাড়িতে বড় হয়েছে। ইকবাল ১৫ বছর বয়স থেকেই মাদক সেবন করে। বরুড়া উপজেলায় বিয়ে করেছে। মানসিক সমস্যা থাকায় স্ত্রীকে অত্যাচার করতো। সহ্য করতে না পেরে একমাত্র ছেলে তৌসিফকে নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যায় স্ত্রী আশা। স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে ইকবাল মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তারপর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার এলাকার কাদৈর গ্রামে বিয়ে করে। এই সংসারে তার এক মেয়ে। করোনা মহামারি শুরুর কিছুদিন আগে তাকে ছেড়ে চলে যায় দ্বিতীয় স্ত্রী রুমি। তারা এখন কাদৈর গ্রামে থাকে। দ্বিতীয় স্ত্রী-সন্তান চলে যাওয়ার পর পাগলের মতো আচরণ শুরু করে ইকবাল। তার পাগলামিতে অতিষ্ঠ প্রতিবেশীরা। করোনা শুরুর পর থেকে দারোগাবাড়ি মাজারে যেতে শুরু করে। লকডাউনের সময় ইকবাল নানির বাড়িতে থাকতো। তবে বেশিরভাগ সময় মাজারে থাকতো। এরপর বিভিন্ন জেলার মাজারে যেতে শুরু করে। এলাকার মানুষ তাকে পাগল বলেই জানে।’

ইকবালের ছোট ভাই রায়হান বলেন, ‘ইকবালকে খুঁজতে পুলিশের সঙ্গে গত শুক্রবার থেকেই আছি। ইকবাল ভালো কোরআন তিলাওয়াত করতে পারেন। তাকে দিয়ে যে কেউ মন্দিরে কোরআন রেখে কোরআনের অবমাননা করিয়েছে। সারাদেশে ধর্মীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় ইকবাল বিষয়টি বুঝতে পারেননি।’

ইকবাল মাজারে কোন খাদেমের কাছে যেতেন জানতে চাইলে মা আমেনা বলেন, ‘আমি জানি না। তবে মাসুদ হুজুর নামে এক খাদেমকে একদিন বাসায় এনেছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কীভাবে ইকবাল কাজটি করেছে। তবে কোনও ঘটনা ঘটানোর পর ইকবাল আত্মগোপনে চলে যেতো। কিছুদিন পর ফিরে আসতো। এবার যতদিন ধরে নিখোঁজ, এর আগে এতদিন বাড়ির বাইরে থাকেনি।’

তবে বিবি আমেনার কথার সূত্র ধরে দারোগাবাড়ি মাজারে গিয়ে মাসুদ হুজুর নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। মাজারের বড় খাদেমের নাম মাশুক, যিনি মাশুক হুজুর নামে পরিচিত। খাদেম মাশুক বলেন, ‘আমি গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। গতকাল শুনলাম মাজারের দুই খাদেমকে আটক করে নিয়ে গেছে পুলিশ। তাদের আটকের বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।’

মাজারের খাদেম ফয়সাল ও হাফেজ হুমায়ুনকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-সার্কেল) সোহান সরকার বলেন, ‘কোনও ব্যক্তি ইকবালকে ব্যবহার করেছে কিনা তদন্ত করে দেখছি আমরা। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আটক করা হবে। তবে যারা আটক হয়েছেন, তাদের বিষয়ে পরে জানানো হবে।’

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ বলেন, ‘ইকবালের হাতে কোরআন তুলে দেওয়া দুই ব্যক্তি আমাদের নজরদারিতে আছে। তবে জেলা পুলিশের কোনও ইউনিট তাদের আটক করেছে কিনা তা আমার জানা নেই।’

গত ১৩ অক্টোবর ভোরে নানুয়াদিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া যায়। এরপরই দেশের কয়েক স্থানে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার জেরে ওই দিন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হিন্দুদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ জন নিহত হয়।

পরদিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে হিন্দুদের মন্দির, মণ্ডপ ও দোকানপাটে হামলা–ভাঙচুর চালানো হয়। সেখানে হামলায় দুই জন নিহত হন। এরপর রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু বসতিতে হামলা করে ভাঙচুর, লুটপাট ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এরইমধ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

/এএম/

সম্পর্কিত

জোর করে ভোট নিলে আমরা নেবো: চেয়ারম্যান প্রার্থী

জোর করে ভোট নিলে আমরা নেবো: চেয়ারম্যান প্রার্থী

সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের হোটেল ভাড়ায় ছাড়

সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের হোটেল ভাড়ায় ছাড়

হাতিয়ার সঙ্গে নৌ যোগাযোগ বন্ধ 

হাতিয়ার সঙ্গে নৌ যোগাযোগ বন্ধ 

নিজ কক্ষে ঝুলছিল ইমামের লাশ

নিজ কক্ষে ঝুলছিল ইমামের লাশ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

জোর করে ভোট নিলে আমরা নেবো: চেয়ারম্যান প্রার্থী

জোর করে ভোট নিলে আমরা নেবো: চেয়ারম্যান প্রার্থী

সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের হোটেল ভাড়ায় ছাড়

সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের হোটেল ভাড়ায় ছাড়

হাতিয়ার সঙ্গে নৌ যোগাযোগ বন্ধ 

হাতিয়ার সঙ্গে নৌ যোগাযোগ বন্ধ 

নিজ কক্ষে ঝুলছিল ইমামের লাশ

নিজ কক্ষে ঝুলছিল ইমামের লাশ

বৈরী আবহাওয়ায় গাছচাপায় পথচারী বৃদ্ধার মৃত্যু

বৈরী আবহাওয়ায় গাছচাপায় পথচারী বৃদ্ধার মৃত্যু

পুলিশ হেফাজত থেকে পালানো আসামি আবারও গ্রেফতার

পুলিশ হেফাজত থেকে পালানো আসামি আবারও গ্রেফতার

সিনহা হত্যা মামলা: ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ চলছে

সিনহা হত্যা মামলা: ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ চলছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই জন নিহত

কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই জন নিহত

ফেনী মুক্ত দিবস আজ

ফেনী মুক্ত দিবস আজ

সর্বশেষ

আফগানিস্তান ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো কাতার

আফগানিস্তান ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো কাতার

নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্যের বাজারজাত করতে হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্যের বাজারজাত করতে হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

আস্থা ভোটে টিকে গেলেন সলোমন দ্বীপপুঞ্জের প্রধানমন্ত্রী

আস্থা ভোটে টিকে গেলেন সলোমন দ্বীপপুঞ্জের প্রধানমন্ত্রী

জোর করে ভোট নিলে আমরা নেবো: চেয়ারম্যান প্রার্থী

জোর করে ভোট নিলে আমরা নেবো: চেয়ারম্যান প্রার্থী

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে মহিলা পরিষদের নিন্দা

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে মহিলা পরিষদের নিন্দা

© 2021 Bangla Tribune