X
বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

শ্রীলঙ্কাকে হারাতে যা করতে হবে বাংলাদেশকে

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৪:৫৩

কঠিন সংগ্রাম করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে ওঠা বাংলাদেশের ‘আসল’ লড়াই শুরু হচ্ছে  শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে। আজ (রবিবার) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় শারজা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। ওয়ার্ম-আপে লঙ্কানদের বিপক্ষে হারলেও সুপার টুয়েলভের ম্যাচে বেশ কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের নাস্তানাবুদ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ছেড়ে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে দায়িত্ব নিলেন শ্রীলঙ্কার। তখন থেকেই আসলে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ম্যাচের উত্তেজনা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। দুই দলের লড়াইয়ে ঝাঁঝ আরও বাড়ে নিদাহাস ট্রফিতে। ভারত আর বাংলাদেশকে নিয়ে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি ট্রফি আয়োজন করেছিল শ্রীলঙ্কা। সেখানেই শ্রীলঙ্কার ২১৪ রান তাড়া করে জিতে যায় বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিমের ৩৫ বলে ৭২ রানের হার না মানা বিধ্বংসী ইনিংসে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডও গড়ে ফেলে। আজ আবারও সেই শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি। মঞ্চটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। তাই উত্তেজনা-উন্মাদনা আরও বেশি।

শারজায় ম্যাচ বলেই...

ম্যাচটি শারজায় হওয়ায় কারণে বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা অনেক অংশেই বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এখানকার উইকেটের আচরণ মিরপুরের মতোই দেখা গেছে। উইকেটে বল কিছুটা ধীরে আসে, ফলে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে কিছুটা অসুবিধা হলেও বোলারদের জন্য দারুণ সহায়ক উইকেট এটি। বিশেষ করে এই উইকেটে স্পিনারদের রাজত্ব থাকবে। এর মধ্যে ম্যাচটি স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় বলেও বাড়তি সুবিধা থাকছে। আগের ম্যাচগুলোর মতো সাকিব আল হাসান-শেখ মেহেদী হাসানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমে লঙ্কান ব্যাটারদের আটকে রাখা সম্ভব।

শারজার উইকেট মিরপুরের মতো বলেই আত্মবিশ্বাসী প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। সর্বশেষ দুটি সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে স্লো ও টার্নিং উইকেটে বেঁধে দিয়েছিল বাংলাদেশ। তাই তো আত্মবিশ্বাসী ডমিঙ্গো, ‘এই ধরনের কন্ডিশন আমাদের সঙ্গে যায়। শারজার পিচ ঢাকার মতোই। আশা করি, ম্যাচে এটি আমাদের সহায়তা করবে। এখানে বোলারদের জন্য করার মতো অনেক কিছুই থাকবে।’

মোস্তাফিজের উন্নতি

আইপিএলের শেষ দিকের কয়েকটি ম্যাচ থেকেই ফর্মহীনতায় মোস্তাফিজুর রহমান। তবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ভালো বোলিংয়ের পর মনে করা হচ্ছিল, ফর্মেই আছেন তিনি। কিন্তু ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে বোলিং দেখে মোস্তাফিজকে বেশ ক্লান্ত মনে হয়েছে। এ কারণে মূল পর্বে লড়াইয়ের আগে বাংলাদেশের মূল অস্ত্র মোস্তাফিজের ফর্ম নিয়ে কিছুটা চিন্তার মেঘ জন্মেছে। বিশেষ করে, পিএনজির বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ছন্নছাড়া বোলিং করেছেন কাটার মাস্টার। আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন কিছু হলে ভুগতে হবে বাংলাদেশকে। যদিও শারজায় খেলা বলেই মোস্তাফিজকে নিয়ে ভালো কিছুর প্রত্যাশা করাই যায়।

লিটন-মুশফিকের ছন্দে ফেরা জরুরি

লিটন দাসের ফর্মহীনতা দুচিন্তায় ফেলেছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। বেশ কিছু ম্যাচ ধরেই সংগ্রাম করছেন লিটন। এছাড়া দলের ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিকুর রহিমও নেই ফর্মে। স্কটিশদের বিপক্ষে বড় ইনিংস খেললেও তার স্ট্রাইকরেট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওমানের বিপক্ষে আট নম্বরে নেমে ৬ রান করে আউট হন। আর পিএনজির বিপক্ষে ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই দুই ক্রিকেটারের ফর্মে ফেরা জরুরি। মুশফিক চাইলে নিদাহাস ট্রফিতে লঙ্কানদের বিপক্ষে খেলা ৩৫ বলে ৭২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি থেকে প্রেরণা নিতে পারেন।

মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্স

বড় মঞ্চে মাহমুদউল্লাহর কাছে অধিনায়কোচিত নৈপুণ্য প্রত্যাশা করবে দল। পিএনজির বিপক্ষে শেষ ম্যাচে বিস্ফোরক ব্যাটিং করে দলের স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে ব্যাটি, বোলিং, ফিল্ডিং ও অধিনায়কত্বে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। পিঠের ব্যথার কারণে কোয়ালিফায়ার ম্যাচে বোলিং করেননি তিনি। সুপার টুয়েলভে করবেন কিনা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে তার বোলিংও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে লঙ্কানদের বিপক্ষে।

সাকিব-মেহেদীর ধারাবাহিকতা

বিশ্বকাপে মেহেদী হাসান সেভাবে আলোচনায় না এলেও শেষ দুটি ম্যাচে জয়ের পথে তার অবদান অনেক। প্রতিপক্ষের রানের চাকা আটকানোয় মূল ভূমিকা পালন করছেন অফ স্পিনার। ৫ উইকেট নিলেও ওভারপ্রতি ৪.৪১ করে রান দিয়েছেন। শারজার স্পিনিং উইকেটে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবেন, এমটাই মেহেদীর কাছ থেকে আশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। পাশাপাশি সর্বশেষ দুই জয়ে ব্যাটে-বলে অবদান রাখা সাকিবেরও এই ম্যাচে ছন্দ ধরে রাখা জরুরি।

পাওয়ার প্লের সঠিক ব্যবহার

স্কটল্যান্ড ও ওমানের বিপক্ষে পাওয়ার প্লেতে ব্যাট হাতে সুবিধা করতে না পারলেও পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। প্রথম ম্যাচে ২ উইকেট ২৫ রান, দ্বিতীয় ম্যাচে ২ উইকেটে ২৯ রান করেছিল বাংলাদেশ দল। তবে পিএনজির বিপক্ষে ১ উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান নিয়ে নিজেদের উন্নতি দেখিয়েছিল তারা। পাওয়ার প্লেতে বোলিংয়ে পিএনজির বিপক্ষে ভালো করেছে বাংলাদেশ। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটিং-বোলিংয়ে প্রথম ছয় ওভার ভালো করতে পারলেই ম্যাচে এগিয়ে থাকতে পারবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

লঙ্কানদের বৈচিত্র্যময় বোলিং সামলানো

শ্রীলঙ্কার শক্তির মূল জায়গাটি হলো তাদের বোলিং। দুই পেসার দুষ্মন্থ চামিরা-লাহিরু কুমারার সঙ্গে মাহিশ থিকশানা ও ভানিন্দু হাসারাঙ্গার ঘূর্ণিতে প্রতি ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলেছে। যদিও এই ম্যাচে থিকশানার খেলার সম্ভাবনা কম। তার বদলে দেখা যেতে পারে আকিলা ধনাঞ্জয়াকে। তিনিও বাংলাদেশের জন্য ‘থ্রেট’ হয়ে উঠতে পারেন। সব মিলিয়ে তাই লঙ্কান বোলারদের ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটারদের।

/কেআর/

সম্পর্কিত

যেভাবে সাফল্য পেয়েছে পাকিস্তান

যেভাবে সাফল্য পেয়েছে পাকিস্তান

প্রশ্নটা শুনতেই মুমিনুল অবাক

প্রশ্নটা শুনতেই মুমিনুল অবাক

ভারতের ওয়ানডে অধিনায়কও রোহিত

ভারতের ওয়ানডে অধিনায়কও রোহিত

এভাবেও ইনিংস ব্যবধানে হারা যায়!

এভাবেও ইনিংস ব্যবধানে হারা যায়!

quiz
সর্বশেষসর্বাধিক
© 2021 Bangla Tribune