X
সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে মুমিনুলদের নতুন শুরুর মিশন

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২১, ২১:৪৮

আইসিসির নতুন সংযোজন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসর একদমই ভালো কাটেনি বাংলাদেশ দলের। আজ শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছে মুমিনুল হকের দল। এবার ঘরে-বাইরে বাংলাদেশের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। সেই চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের সামনে প্রথম প্রতিপক্ষ শক্তিশালী পাকিস্তান। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুক্রবার সকাল দশটা থেকে ম্যাচটি শুরু হবে। যা সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টেলিভিশন, বিটিভি ও টি-স্পোর্টস।

কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশ দলের পয়মন্ত ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল সাগরিকা স্টেডিয়াম। কিন্তু আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ দুটি ম্যাচ হেরে সেই গৌরব হারিয়েছে সাগর পাড়ের এই স্টেডিয়ামটি। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের মতো নবীন টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে ২২৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ দল। সেই হারের ক্ষত শুকানোর আগেই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি নিশ্চিত জয়ের ম্যাচ হাতছাড়া করে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় অভিষিক্ত এক ব্যাটারের অবিশ্বাস্য ২১০ রানের ইনিংসের কারণে হারতে হয় মুমিনুলের দলকে। নিজেদের মাঠে এমন যখন পরিসংখ্যান, তখন অতীত পরিসংখ্যানে ভীত হওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকছেই। সেই সঙ্গে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচ বলে বাড়তি চাপ থাকবে মুমিনুলের কাঁধে।

হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে নতুন মৌসুমের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সবচেয়ে কম ১২ টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। অবনমন ঠেকাতে এবার এই সংস্করণে ভালো ক্রিকেট খেলার বিকল্প নেই বাংলাদেশ দলের সামনে। কিন্তু গত আসরের চেয়ে এবার আরও কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের পর ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ দল। কিন্তু এশিয়ার তিন শক্তিশালী দেশের বিপক্ষে স্লো-আর টার্নিং উইকেট বানিয়ে উপমহাদেশের দেশগুলোতে বধ করা সম্ভব নয়। এইসব দলগুলোরও আছে সামর্থ্যবান স্পিনার। ওদের বিপক্ষে স্পিন ফাঁদ পাততে গিয়ে উল্টো নিজেদের সেই ফাঁদে পড়ার শঙ্কা থাকছে। ফলে দেশের মাটিতেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পড়তে যাচ্ছে স্বাগতিকরা।

অন্যদিকে দেশের বাইরে খেলতে হবে নিউ জিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাকি ম্যাচগুলো খেলতে হবে। দেশে কিছুটা লড়াই করতে পারলেও দেশের বাইরে  টেস্ট  মানেই বাংলাদেশের জন্য বিভীষিকাময় অধ্যায়। বিরুদ্ধ কন্ডিশন, বিশ্বমানের বোলার ও নিজেদের নড়বড়ে আত্মবিশ্বাস মিলিয়ে কখনও পেরে উঠেনি মুমিনুলরা। সামনে পারবেন তার নিশ্চয়তা নেই।

অধিনায়ক মুমিনুলের কণ্ঠে অবশ্য চ্যালেঞ্জ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি, ‘নতুন চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হচ্ছে, দলটা তরুণ। অধিনায়ক হিসেবে কাজটা কঠিন। ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টি যেটাই হোক, টেস্টে সবসময় সিনিয়র ক্রিকেটারদের প্রয়োজন হয়। চ্যালেঞ্জ অবশ্যই থাকবে। তবে নতুন যারা আছে, তাদের জন্য দারুণ সুযোগ নিজেদের মেলে ধরার। বর্তমানে যে জায়গায় আছি আমরা, টেস্ট চ্যাম্পিয়ন যখন শেষ হবে, তখন এখান থেকে দুই-তিন ধাপ ওপরে উঠতে পারলে আমি খুশি।’

তবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের শেষে গিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান যাই থাকুক না কেন এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ভাবনায় কেবল পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। শুক্রবার জহুর আহমেদে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে মুমিনুল লক্ষ্যটা তেমনই।  বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ভুলে নতুন শুরুর আশা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেটি হয়নি। এবার ভিন্ন ফরম্যাটে সেই বদলের সুরই বাজছে জহুর আহমেদের আকাশে!  টি-টোয়েন্টির মতো এই দলটিতে এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন। মাহমুদউল্লাহর অবসরের পর তামিম-সাকিব-তাসকিনের না থাকাটা দলে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারপরও নতুন শুরুর প্রত্যাশায় মুমিনুল, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই প্রথম নয়, আগেও কয়েকবার হয়েছে এরকম। সবসময়ই এখান থেকে বের হয়েছি। আমরা বাইরের কথাগুলি অনেক বেশি নেই। আমি চেষ্টা করেছি যে বাইরের কথায় বেশি কান না দিয়ে নিজের কাজের জায়গায় বেশি মনোযোগ দেওয়ার। দিনশেষে আমাদের নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য নিজের কাজটাতে মনোযোগ দেওয়া উচিত।’ 

পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একাদশ কেমন হবে? সেই আলোচনা সর্বত্র। বিশেষ করে ওপেনিং জুটিতে সাদমানের সঙ্গী হচ্ছেন কে? সাইফ হাসান নাকি যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের টপ অর্ডার ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়। দুজনের মধ্যে চলছে প্রতিযোগিতা। কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন ও ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স জয়কে নিয়ে আলাদা করে কাজ করেছেন। আজ প্রিন্স জয়কে নিয়ে শর্ট বল মোকাবিলার অনুশীলন করেছেন। সাইফ হাসানও ছিলেন সেখানে। কিন্তু জয়কে নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ খেটেছেন প্রচুর। জয়ও দারুণ অনুশীলনে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। সবমিলিয়ে জয়ের অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

জয়ের সঙ্গে অভিষেক হতে পারে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো ইয়াসির আলী রাব্বির। বৃহস্পতিবার পুরনো বলে স্পিনারদের বিপক্ষে লম্বা সময় ব্যাটিং সেশন করার পর থ্রো ডাউনে পেস বল খেলেন রাব্বি। দুদিনই ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স এই তরুণের সঙ্গে কাজ করেন নিবিড়ভাবে। সাকিব আল হাসান না থাকায় বাংলাদেশকে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান নিয়ে নামতেই হচ্ছে। ছয় নম্বর ব্যাটিং পজিশন ফাঁকা। সেখানেই রাব্বির সুযোগ মিলতে যাচ্ছে।  

চট্টগ্রামে টেস্ট ড্র করার লক্ষ্যে লম্বা ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সাতজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানের সঙ্গে স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়া স্পিনার তাইজুল ইসলাম তো আছেনই। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সুযোগ মিলবে শেষ মুহূর্তে দলে ডাক পাওয়া পেসার খালেদ আহমেদের। তার সঙ্গে আবু জায়েদ রাহিতো আছেনই।

বাংলাদেশ দলটি তারুণ্যে গড়া হলেও পাকিস্তান দলটি বেশ শক্তিশালী। তাদের পেস আক্রমণ বিশ্বসেরা। হাসান আলী-শাহিন শাহ আফ্রিদি-ফাহিম আশরাফ মিলিয়ে দারুণ বোলিং আক্রমণ। এছাড়া নাঈম আলী-নুমান শাহ- সাজিদ খান মিলে স্পিন আক্রমণও দারুণ। বাংলাদেশের তরুণ ব্যাটিং লাইনআপের জন্য বেশ কঠিন ব্যাটিং লাইনআপই বলা চলে। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুমিনুলও সেটিই মনে করেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটেও পকিস্তান অনেক এগিয়ে আছে। আমার কাছে মনে হয়, বিশ্বের সেরা ও শক্তিশালী দলগুলির একটা। ওদের সঙ্গে খুব চ্যালেঞ্জিং হবে।’

/আরআই/এমআর/

সম্পর্কিত

করোনায় আক্রান্ত নারী দলের দুই ক্রিকেটার

করোনায় আক্রান্ত নারী দলের দুই ক্রিকেটার

ছুটি মঞ্জুর, নিউজিল্যান্ড যাচ্ছেন না সাকিব

ছুটি মঞ্জুর, নিউজিল্যান্ড যাচ্ছেন না সাকিব

কোনও বল না গড়িয়েই পরিত্যক্ত তৃতীয় দিন

কোনও বল না গড়িয়েই পরিত্যক্ত তৃতীয় দিন

বৃষ্টিতে শেষ প্রথম সেশন

বৃষ্টিতে শেষ প্রথম সেশন

quiz
সর্বশেষসর্বাধিক
© 2021 Bangla Tribune