X
শুক্রবার, ২৩ জুলাই ২০২১, ৮ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

বাংলা ট্রিবিউনকে শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ফরীদ আহমদ রেজা

জামায়াতের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে বলে মনে হয় না

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৬, ১২:০৪

ফরীদ আহমদ রেজা ফরীদ আহমদ রেজা। লন্ডনপ্রবাসী এই শিক্ষক বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল। ১৯৮২ সালে জামায়াতের অনুজ সংগঠনটির দ্বিতীয় শীর্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে, খুব বেশিদিন নিজ নিজ পদে বহাল থাকতে পারেননি তিনি ও তার সময়ের সভাপতি অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের।
সম্প্রতি ফরীদ আহমদ রেজা তার ব্যক্তিজীবন, কর্মজীবন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলসহ নানা বিষয়ে ফেসবুকে কথা বলেছেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে।

বাংলা ট্রিবিউন: এখন কী করছেন?

ফরীদ আহমদ রেজা:  দীর্ঘদিন শিক্ষকতায় ছিলাম। সম্প্রতি শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়েছি। তবে, একটি সরকারি বিভাগে খণ্ডকালীন কাজ করছি। কিছুদিন লন্ডনের একটি প্রাচীন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে সপ্তাহে কয়েকটি কোরআন সার্কেল পরিচালনা করি। পড়াশোনা ও লেখালেখি করি। পড়াশোনাটা বেশি করছি কোরআনকেন্দ্রিক। লন্ডনের বাংলা পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করছি। কয়েকবছর ‘কবিতা’ নামে একটি কবিতাবিষয়ক সাময়িকী সম্পাদনা করেছি।

বাংলা ট্রিবিউন:  আপনার পরিবারের সদস্যরা কী করছেন?

ফরীদ আহমদ রেজা: আমার স্ত্রী দেশে থাকতে শিক্ষক ছিলেন। এখানেও খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করছেন। আমার দুই ছেলে, দুই মেয়ে। ছেলেদের গ্র্যাজুয়েশন শেষ হয়েছে, এখন কাজ করছে। দুই মেয়ে ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে। এ বছর এক মেয়ের এবং আগামী বছর অন্য মেয়ের গ্র্যাজুয়েশন শেষ হবে।

বাংলা ট্রিবিউন:  শেষ কবে দেশে এসেছেন, আবার কবে আসবেন?

ফরীদ আহমদ রেজা: ২০০৩ সালে গিয়েছিলাম আম্মাকে নিয়ে আসতে। এরপর আর যাওয়া হয়নি। আবার কবে আসবো তা বলা কঠিন। তবে আমরা প্রবাসীরা ঘনঘন দেশে না গেলেও দেশ নিয়ে ভাবি।

বাংলা ট্রিবিউন:  আপনার কোনও বই প্রকাশিত হয়েছে?

ফরীদ আহমদ রেজা: দুটো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচিত কলাম নিয়ে একটি, নাম ‘বিপরীত উচ্চারণ’। অন্যটি কবিতার বই, ‘যিসাসের আগমন অনিবার্য’। প্রকাশ করেছে কৈতর প্রকাশনী। আরও কয়েকটি পাণ্ডুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায়।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার সঙ্গে কথোপকথনে গোলাম আযম বলেছিলেন, একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ নেই। আপনি এর উত্তরে কিছু বলেছিলেন কি? এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

ফরীদ আহমদ রেজা: অধ্যাপক গোলাম আযম আমার সঙ্গে কথোপকথনের সময় এ কথা বলেননি, বলেছেন ৮২ সালে ছাত্রশিবিরের বিরোধ-মীমাংসার রায় ঘোষণার সময়। আমার সেখানে কোনও কথা বলার সুযোগ ছিল না। আমি ছিলাম একজন দর্শক মাত্র। এ বিষয়ে আমার অভিমত ‘বিরাশি সালের কথকথা’র পর লিখিত পাদটীকায় আমি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি। আমার মতে, নৈতিক বা রাজনৈতিক কৌশল—কোনও বিচারেই ৭১ সালে তাদের ভূমিকা ঠিক ছিল না। তারা বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ইত্যাদি পালন করেন। অন্যদিকে, তাদের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা মানুষকে ভিন্ন বার্তা দেন। তারা সাংগঠনিকভাবে ৭১ সালের ভূমিকার ব্যাপারে শুরু থেকে নীরব ভূমিকা পালন করে আসছেন। এ নীরবতা রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্নবোধক হয়ে আছে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে স্বাধীনতা-উত্তর প্রজন্ম এটাকে রাজনৈতিক অস্বচ্ছতা হিসেবে বিবেচনা করে। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলব, আমার মতে, দুটো প্রসঙ্গ বাংলাদেশের রাজনীতির জন্যে অপরিহার্য, অর্থাৎ ‘নন-নেগোশিয়েবল’। একটি ইসলাম, অন্যটি মুক্তিযুদ্ধ। কোনও রাজনৈতিক দল এর কোনও একটির প্রতি উন্নাসিকতা বা বিরোধিতা করলে বাংলাদেশের জনগণ তাদের গ্রহণ করবে না।

বাংলা ট্রিবিউন:  আপনি বলেছেন, যাদের মুখের ভাষা এবং বুকের ভাষা এক নয়, তাদের সঙ্গে জীবন বাজি রেখে কাজ করা সম্ভব নয়। এখনও কি তাই মনে করেন?

ফরীদ আহমদ রেজা: এখন আরও অনেক কিছু মনে করি। তখন এ কথা বলার কারণে আমাকে অনেক সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। কোনও ব্যক্তির কথায় এবং কাজে স্বচ্ছতা না থাকলে এবং তা সমাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হলে সমাজ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু সামষ্টিক অস্বচ্ছতার দায় এর চেয়ে অনেক বেশি। এ অভিজ্ঞতা থেকেই আমি এ মন্তব্য করেছি। আমার মতে, সাংগঠনিক বক্তব্য ও জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকারের মধ্যে সাযুজ্য বজায় রাখা উচিত। সে সততা না থাকলে কোনও রাজনৈতিক দলের লিখিত ঘোষণাপত্র যতই আকর্ষণীয় হোক,  সে দলের লোকদের ব্যক্তিগত জীবন বা চরিত্র ‘ফুলের মতো পবিত্র’ হলেও বৃহত্তর জনগোষ্ঠী তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

বাংলা ট্রিবিউন:  ইবনে সিনার বৈঠকে আপনি ও আহমদ আবদুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলেছেন গোলাম আযম। কিন্তু সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিষয়টি আপনি আলোচনায় বলেছেন। সেখানে মতিউর রহমান নিজামীও ছিলেন। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। কারাগারে আছেন নিজামী। আপনার কি মনে হয়, এখনও তাদের প্রভাব আগের মতোই আছে?

ফরীদ আহমদ রেজা: আমার মনে হয়, তারা এখনও প্রভাবশালী। তাদের রাজনৈতিক চিন্তা ও সাংগঠনিক নির্দেশনা অনুযায়ী এখনও সংগঠন চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। সরকারের গ্রেফতার-নির্যাতন এবং গুম-হত্যা তাদের অনুসারীদের আরও সংহত এবং তাদের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করছে।

বাংলা ট্রিবিউন:  যাদের জন্য ছাত্র শিবির ছাড়তে হয়েছে, আপনাদের কমিটি বাতিল হয়েছে, তাদের সঙ্গে কি যোগাযোগ হয়? তারা কি অনুতপ্ত?

ফরীদ আহমদ রেজা: সাধারণত তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয় না। কারও কারও সঙ্গে ঘটনাচক্রে দেখা হয়ে যায়। দেখা হলে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। তারা অনুতপ্ত কি না, সে ব্যাপারে আমার কাছে সরাসরি কোনও তথ্য নেই। কারণ এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে কখনও আমার মতবিনিময় হয়নি। তবে আমার ধারণা, তারা মোটেই অনুতপ্ত নয়।

বাংলা ট্রিবিউন:   ছাত্রশিবির ছেড়ে জামায়াতে যোগ না দেওয়ায় সিলেটে বিভিন্ন চাকরিতে যোগ্য হয়েও আপনাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন বিদেশেও কি দলটির নেতাকর্মীরা আপনার পিছু নেন?

ফরীদ আহমদ রেজা: ‘পিছু নেন’ বলতে আপনি কী বলতে চাচ্ছেন, আমার কাছে পরিষ্কার নয়। আমি তাদের কারও কাছে কোনওদিন কোনও সুবিধা বা আশীর্বাদ প্রত্যাশী হইনি। তাদের সাংগঠনিক বলয়ে আমার কোনও যাতায়াত নেই।  আড়ালে-আবডালে তারা যে সব কথা বলেন, তা মাঝে-মাঝে আমার কানে চলে আসে। এ থেকে বুঝতে পারি, সর্বত্র তারা সাফল্যের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ‘বার্তা’ গ্রহণযোগ্যভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের এখানকার কর্মীরা সাংগঠনিক ‘ওহি’র ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন এবং ইসলামী আন্দোলনের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনও কাজ করতে সব সময় প্রস্তুত আছেন।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার কমিটির সভাপতি আহমদ আবদুল কাদের শিবির ছেড়ে যুবশিবির করার পর চট্টগ্রাম কলেজে আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। আপনার ক্ষেত্রে এমন আচরণ করা হয়েছে কি না?

ফরীদ আহমদ রেজা: না, আমাকে দেশে-বিদেশে কখনও এ রকম অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়নি। নিচের পর্যায়ের অতিউৎসাহী কেউ-কেউ কখনও  বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মাত্র।  ‘বিরাশির কথকতা’ প্রকাশের পর কিছু গালি-গালাজ শুনতে হয়েছে। দুয়েকজন শুভানুধ্যায়ী সেজে সাবধানে চলাফেরা করতে বলেছেন।

বাংলা ট্রিবিউন: যুবশিবির গঠনের পর জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন ভাষায় সংগঠনটির বিরুদ্ধে কথা বলেছে। এটি অন্যান্য ধর্মভিত্তিক সংগঠনেও দেখা যায়। এর কারণ যদি ছোট করে বলেন?
ফরীদ আহমদ রেজা: আমার মতে এটা ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় বিরোধের সুত্রপাত হয়েছে রাজনীতিকে কেন্দ্র করে। প্রতিটি পক্ষ তাদের রাজনৈতিক বিরোধকে ধর্মীয় মোড়কে উপস্থাপন করে জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছে। এখনও  চলছে। ইসলামে রাজনীতি আছে এবং ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক বিধান আর ধর্মীয় বিধানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এ দুটোকে গুলিয়ে ফেলার মানসিকতা বা অভ্যাস বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক সব দলের মধ্যেই রয়েছে। বাংলাভাষীদের মধ্যে ধর্মীয় রাজনীতির প্রথম উদ্যোক্তা জামায়াত নয়। কিন্তু বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে অনেক বিষয়ে জামায়াতকে অনুসরণ করতে দেখা যায়। হতে পারে, এখানেও অন্যরা জামায়াতকে অনুসরণ করছে। 

বাংলা ট্রিবিউন: পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আপনারা চেয়েছেন। সর্বশেষ সাবেক জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কামারুজ্জামানও চেয়েছিলেন। আদৌ কি জামায়াতে এ ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে? পর্যবেক্ষক হিসেবে যদি বলেন?

ফরীদ আহমদ রেজা: আমার মতে, স্বাভাবিক অবস্থায় তাদের মধ্যে কোনও পরিবর্তন আসবে না। সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে প্রথমে তারা এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাবেন। আইনি লড়াইয়ে জিততে না পারলে তারা নতুন নামে আত্মপ্রকাশের চিন্তা করতে পারেন, এর আগে নয়। তবে সরকারের দমননীতি অব্যাহত থাকলে তারা গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এবং বিভিন্ন নামে পার্শ্বসংগঠন করে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। আরেকটি কথা এখানে স্পষ্ট করা দরকার। ‘আমরা নাম পরিবর্তন চেয়েছি’—কথাটা সরাসরি এ রকম নয়। জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ভূমিকা রেখেছে, এ ব্যাপারে জামায়াত বা জামায়াতবিরোধী কারও কোনও দ্বিমত নেই। বাংলাদেশের জনগণের কাছেও সেটা অস্পষ্ট নয়। আমাদের কথা ছিল, এমনি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ‘জামায়াতে ইসলামী’ নিজ নামে রাজনীতি করতে হলে ৭১ সালে তাদের ভূমিকার ব্যাপারে স্পষ্টভাবে কথা বলতে হবে। তাদের বলতে হবে, ‘আমরা ৭১ সালে সঠিক কাজ করেছি’ এবং সঙ্গে সঙ্গে এর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে হবে। নতুবা বলতে হবে, ‘৭১ সালে আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না।’ এটা করলে তারা রাজনৈতিক সততার পরিচয় দেবেন, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে যেকোনও রাজনৈতিক দলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। যদি এর কোনওটাই তারা করতে না চান তা হলে তাদের উচিত, পুরাতন নাম বাদ দিয়ে নতুন নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলা। তখন ব্যক্তিগত দায় বজায় থাকলেও ৭১ নিয়ে তাদের সাংগঠনিক কোনও দায়-দায়িত্ব থাকবে না। ঠিক এমনটি মাওলানা আব্দুর রহীমও চেয়েছিলেন।

বাংলা ট্রিবিউন: জামায়াতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

ফরীদ আহমদ রেজা: প্রথমে বলে দেওয়া ভালো, বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যে ভাষায় জামায়াত প্রসঙ্গে কথা বলেন, তাতে মনে হয়, তারা দলটিকে ক্ষমতার জোরে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। তারা বোঝেন না, কয়েকজন নেতাকে রাজনৈতিক আদালতের রায়ে ফাঁসি দিয়ে, অথবা জেল-মামলা-গুম করে জামায়াতে ইসলামীর মতো সংগঠনকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না। সরকারি নির্যাতনের কারণে বরং তাদের দলীয় কর্মীরা নতুন প্রেরণায় উজ্জীবিত হচ্ছে।  এছাড়া, এর ফলে যারা জামায়াতের রাজনীতি পছন্দ করেন না তাদের মধ্যেও জামায়াতের প্রতি সহানুভূতি বাড়ছে। এর মানে, আইনগত কারণে দল হিসেবে জামায়াতের নাম রাখার সুযোগ না থাকলেও জামায়াত যে রাজনৈতিক তত্ত্ব ধারণ করে তা এবং এর অনুসারীরা টিকে থাকবেন। টিকে থাকার মানে কিন্তু এ নয় যে তাদের রাজনৈতিক ভবিষৎ উজ্জ্বল। জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তি এবং আর্থিক ভিত অত্যন্ত মজবুত, এতে কোনও সন্দেহ নেই। মনে রাখা ভালো, মিছিল করার শক্তি বা জনসভার উপস্থিতি দেখে গণভিত্তি পরিমাপ করা যায় না। যে ধরনের জনসমর্থন থাকলে এককভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় তা থেকে তারা অনেক দূরে অবস্থান করছেন। এর কারণ অনেক। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল ২০০১ সালে। চারদলীয় জোটের কারণে ওই সময়  দলের প্রধান দুই শীর্ষনেতা মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন। তখন তাদের এমপি ছিলেন ১৮ জন এবং প্রাপ্ত ভোট ছিল মাত্র শতকরা ৬ ভাগের কাছাকাছি। পক্ষান্তরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাদের প্রাপ্ত ভোট ছিল শতকরা ৫ ভাগের মতো এবং তখন তাদের মাত্র দুজন এমপি নির্বাচিত হন। তাদের জনসমর্থন বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়েছে ধরে নিলেও তা বড় জোর শতকরা ৭ থেকে ৮ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ২০০১ সালের শুভ-সময়ে যারা জামায়াতের সঙ্গে সখ্য গড়েছেন তাদের শতকরা কতজন আগামী দিনে নিজ অবস্থানে টিকে থাকবেন, এর কোনও নিশ্চয়তা নেই। কারণ বাংলাদেশে কখনও সুযোগ সন্ধানী লোকের অভাব হয় না। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এবং আলেম সমাজের বিরোধিতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে।  বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে বলে মনে করার কোনও কারণ দৃশ্যমান নয়।

/এমএনএইচ /

সম্পর্কিত

হাতিরঝিল নিয়ে মিস প্ল্যান হয়েছে: মেয়র আতিক

হাতিরঝিল নিয়ে মিস প্ল্যান হয়েছে: মেয়র আতিক

লকডাউনে সীমিত পরিসরে চলবে হাইকোর্টের বিচার

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ২২:০৮

করোনার ভয়াবহ প্রকোপ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) চলাকালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত সীমিত পরিসরে পরিচালিত হবে। শুক্রবার (২৩ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ শুক্রবার (২৩ জুলাই) বিকাল ৫টায় বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে, করোনাভাইরাস জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার কর্তৃক ঘোষিত কঠোর লকডাউনের সময় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত সীমিত পরিসরে পরিচালিত হবে।

এ সময় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট, দেওয়ানি, ফৌজদারি, কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি (সমুদ্র-সংক্রান্ত বিষয়) সংক্রান্তে একটি করে মোট তিনটি বেঞ্চে হাইকোর্ট বিভাগের তিনজন বিচারপতি তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে অতীব জরুরি বিষয়ে শুনানি করবেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, ফুলকোর্ট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সকল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের টিকা গ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়াও সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য ফুলকোর্ট সভায় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

/বিআই/ইউএস/

সম্পর্কিত

বেতন ৩০ হাজার, ব্যাংকে লেনদেন শত কোটি টাকা!

বেতন ৩০ হাজার, ব্যাংকে লেনদেন শত কোটি টাকা!

দারুসসালামে ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার দুই বোন কারাগারে

দারুসসালামে ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার দুই বোন কারাগারে

তবুও বাইরে মানুষ

তবুও বাইরে মানুষ

ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাসায় ঘুরতে বেরিয়ে গুনতে হচ্ছে জরিমানা

ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাসায় ঘুরতে বেরিয়ে গুনতে হচ্ছে জরিমানা

বেতন ৩০ হাজার, ব্যাংকে লেনদেন শত কোটি টাকা!

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ২০:৪৬

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করেন তিনি। নন-এমপিও হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত তৃতীয় শ্রেণির এই কর্মচারী অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রশাসনিক কাজকর্মও করেন। সাকুল্যে বেতন পান তিনি ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া অতিরিক্ত কাজের জন্য আরও কিছু ভাতা পান তিনি। কিন্তু তার ব্যাংক হিসাবে একশ’ কোটি টাকারও বেশি লেনদেন। তাও একটি-দুটি নয়, ৯৭টি ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে তার। ঢাকায় একাধিক বাড়ি-ফ্ল্যাটের মালিক তিনি, ব্যবহার করেন দামি গাড়িও। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আতিকুর রহমান খান। স্কুলের ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থা ও নিজস্ব অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বিপুল এই সম্পদের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে আতিকুর রহমান খান প্রথমে কোনও মন্তব্য করতেই রাজি হননি। পরে নিজেই ফোন করে এই প্রতিবেদককে বলেন, আইডিয়াল স্কুলের চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই তিনি ব্যবসা করেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক থেকে তিনি প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো ঋণও নিয়েছেন। ব্যবসা করেই তিনি সম্পদ গড়েছেন।

আতিকুর রহমান খান ২০০৪ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ আছে, ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি ‘সোনার হরিণ’ হাতে পেয়েছেন। প্রতিবছর স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণিতে অবৈধভাবে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করানোর নামে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। এসব অর্থ দিয়েই গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের কালিগঞ্জের বাসিন্দা আতিকুর রহমানের বাবা একজন কৃষক। আইডিয়াল স্কুলে যোগ দেওয়ার আগে তিনি কনকর্ড নামে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আয়কৃত অর্থ দিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। রামপুরার বনশ্রী মসজিদ মার্কেটে বিশ্বাস লাইব্রেরি রয়েছে, আফতাবনগরে বি ব্লকে বিশ্বাস বাজার নামে একটি প্রতিষ্ঠান, রামপুরা বনশ্রী এলাকার ৫ নম্বর সড়কের ১২ নম্বর প্লটে ভিশন-৭১ নামে একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান, আফতাবনগরে চারটি বাড়ি এবং বনশ্রীতে আরেকটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। এছাড়া বনশ্রী এলাকায় খান ফিলিং অ্যান্ড এলপিজি, আফতাবনগরে ন্যাশনাল ফ্রায়েড কিচেন নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

দেশের ১৫টি ব্যাংকে আতিকুর রহমান খানের ৯৭টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংকগুলো হলো, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। এসব ব্যাংকে ২০০৭ সাল থেকে চলতি বছরের ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১১০ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৯২ টাকা লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে আতিকুর রহমানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, স্ত্রী নাহিদা আক্তার নীপা, বড় ভাই আব্দুস সালাম খান, ফজলুর রহমান খান ও শ্বশুর নুরুল ইসলামের নামেও লেনদেনও রয়েছে। আতিকুরের বড় ভাই আব্দুস সালাম মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বাংলা মাধ্যম দিবা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আতিকুর রহমান খানের মালিকানাধীন ন্যাশনাল ফ্রায়েড চিকেনের নামে সাউথইস্ট ব্যাংকে ২০১৫ সালে একটি হিসাব খোলা হয়। ওই হিসাবে প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। কিন্তু সরেজমিন আফতাবনগরে সেই প্রতিষ্ঠানের কোনও হদিস পাওয়া যায়নি। এছাড়া আতিকুর রহমান খানের মালিকানাধীন এইচ কে খান এন্টারপ্রাইজের নামে প্রাইম ব্যাংকের একটি হিসাবে ৮ কোটি টাকার লেনদেন পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় বনশ্রীর মসজিদ মার্কেটের বিশ্বাস লাইব্রেরি দেখা গেছে।

ভর্তি বাণিজ্য করেই বিপুল সম্পদ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ভর্তি বাণিজ্য করেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন আতিকুর রহমান খান। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শাখা ছাড়াও মুগদা ও রামপুরায় পৃথক দুটি শাখা রয়েছে। এই স্কুলে বাংলা মাধ্যমে প্রভাতী ও দিবা এবং ইংলিশ ভার্সনে প্রভাতী ও দিবা শাখায় প্রতি বছর অন্তত ৩ থেকে ৪ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে থাকে। প্রতিবছরই অর্থের বিনিময়ে এখানে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়ে থাকে। অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হলেন এই আতিকুর রহমান খান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন শাখায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। এরমধ্যে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী অর্থের বিনিময়ে ভর্তি করানো হয়েছে। প্রতি শিক্ষার্থীকে ভর্তির বিনিময়ে আতিকুল ইসলাম খান ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা নিতেন। এই প্রতিবেদকের কাছে তিন জন অভিভাবক অর্থের মাধ্যমে ভর্তি করানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এছাড়া একজন দালালের সঙ্গে ভর্তির বিষয়ে আতিকুর রহমান খানের কথোপকথনের কয়েকটি রেকর্ড রয়েছে এই প্রতিবেদকের কাছে।

অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করে আতিকুর রহমান খান বলেন, ‘তিনি অবৈধ এই ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন।’

তবে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। আতিকুর রহমানের ভাষ্য, ‘অবৈধভাবে যাদের ভর্তি করা হয়েছে তাদের লিস্ট এবং রেজুলেশন স্কুলে আছে। তারা কার সুপারিশে ভর্তি হয়েছে তা খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই।’

/ইউএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লকডাউনে সীমিত পরিসরে চলবে হাইকোর্টের বিচার

লকডাউনে সীমিত পরিসরে চলবে হাইকোর্টের বিচার

তবুও বাইরে মানুষ

তবুও বাইরে মানুষ

ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাসায় ঘুরতে বেরিয়ে গুনতে হচ্ছে জরিমানা

ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাসায় ঘুরতে বেরিয়ে গুনতে হচ্ছে জরিমানা

দুই দিনে ১১৪৮৩ টন বর্জ্য অপসারণ করেছে ডিএসসিসি

দুই দিনে ১১৪৮৩ টন বর্জ্য অপসারণ করেছে ডিএসসিসি

কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন ঢাকায় গ্রেফতার চারশতাধিক

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১৯:০৬

কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন রাজধানীতে ৪০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, লকডাউন অমান্য করে করে অহেতুক ঘোরাফেরা করায় ৪০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২০৩ জনকে এক লাখ ২৭ হাজার ২৭০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ৪৪১টি গাড়িকে ১০ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে।

প্রসঙ্গত, ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার।

 

/এআরআর/আইএ/

সম্পর্কিত

তবুও বাইরে মানুষ

তবুও বাইরে মানুষ

ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাসায় ঘুরতে বেরিয়ে গুনতে হচ্ছে জরিমানা

ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাসায় ঘুরতে বেরিয়ে গুনতে হচ্ছে জরিমানা

পোস্তার রাস্তায় পচা চামড়ার স্তূপ

পোস্তার রাস্তায় পচা চামড়ার স্তূপ

দারুসসালামে ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার দুই বোন কারাগারে

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১৯:০২

রাজধানীর দারুসসালাম এলাকা থেকে ১৭৮ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার দুই বোনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আসামিরা হলেন- মোছা. মিতু আক্তার (২৩) ও মোছা. রিতু আক্তার (২১)।

আজ শুক্রবার (২৩ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধীমান চন্দ্র মন্ডলের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দারুসসালাম থানায় দায়ের হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এ দিন আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে মহানগরীর দারুসসালাম থানার মাজার রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১৭৮ বোতল ফেনসিডিলসহ তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব।

উত্তরের জেলা জয়পুরহাট থেকে ফেনসিডিল বহন করে নিয়ে ঢাকায় আসা ওই দুই নারী সম্পর্কে বোন উল্লেখ করে র‌্যাব-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস জানান, র‌্যাব-৩ গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, একটি মাদক চক্রের কয়েকজন সদস্য আহাদ পরিবহনের একটি বাসে যাত্রী বেশে অবৈধ মাদকদ্রব্য ফেনসিডিলের চালান জয়পুরহাট থেকে ঢাকায় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বহন করে নিয়ে আসছে। খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের বাড়ি দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায়।

তাদের কাছ থেকে ১৭৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে উল্লেখ করে বীণা রানী দাস আরও জানান, তারা দুজনে বোরকা পরে ব্যাগ ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফেনসিডিলগুলো লুকিয়ে নিয়ে এসেছিল। দুবোনের মধ্যে রিতু বিবাহিত। তার স্বামীর নাম মহিনুল ইসলাম। এরা মূলত বাহক হিসেবে মাদক বহন করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অস্বচ্ছল পরিবারের দুই তরুণী নিয়মিত এমন মাদক বহনের কথা স্বীকার করে বলেছেন, সাংসারিক টানাপোড়েনে কিছু টাকার আশাতেই ঝুঁকি নিয়ে জয়পুরহাট থেকে ফেনসিডিল নিয়ে ঢাকায় এসেছেন তারা।

/এমএইচজে/ইউএস/

সম্পর্কিত

লকডাউনে সীমিত পরিসরে চলবে হাইকোর্টের বিচার

লকডাউনে সীমিত পরিসরে চলবে হাইকোর্টের বিচার

জয়পুরহাট থেকে ফেনসিডিল নিয়ে মিতু-রিতুর ঢাকা যাত্রা

জয়পুরহাট থেকে ফেনসিডিল নিয়ে মিতু-রিতুর ঢাকা যাত্রা

মগবাজার বিস্ফোরণ তিতাসের লিকেজ থেকেই: পুলিশ

মগবাজার বিস্ফোরণ তিতাসের লিকেজ থেকেই: পুলিশ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান ছিনতাই, আটক ১

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান ছিনতাই, আটক ১

ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১৮:৩৯

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের সবাই ঢাকার বাসিন্দা। এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ ৮০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। 

শুক্রবার (২৩ জুলাই)  স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য থেকে এসব জানা যায়।

এ বছরের জুলাই মাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। শুধু জুলাইয়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এদের ৯৯ শতাংশই ঢাকার।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৩৯০ জন রোগী ভর্তি আছে । এর মধ্যে ঢাকাতেই আছে  ৩৮৭ জন, আর বাকি ৩ জন ঢাকার বাইরে অন্য বিভাগে। এই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ছাড়া পেয়েছেন ১ হাজার ৭৭ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনার জন্য রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

/এসও/এমএস/

সম্পর্কিত

সরকারি সাত হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই

সরকারি সাত হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা নেই

করোনার টিকা নেওয়ার বয়সসীমা ১৮ করার ঘোষণা শিগগিরই

করোনার টিকা নেওয়ার বয়সসীমা ১৮ করার ঘোষণা শিগগিরই

জুলাইয়ের ২২ দিনেই হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী

জুলাইয়ের ২২ দিনেই হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী

জুলাইয়ে ৯৮৮ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত, ৯৯ ভাগই ঢাকার

জুলাইয়ে ৯৮৮ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত, ৯৯ ভাগই ঢাকার

সম্পর্কিত

‘২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে পিএইচপিতে’

‘২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে পিএইচপিতে’

বাবার লাশ আর সাদা হাতাকাটা গেঞ্জিই একমাত্র স্মৃতি: তাপস

বাবার লাশ আর সাদা হাতাকাটা গেঞ্জিই একমাত্র স্মৃতি: তাপস

হাতিরঝিল নিয়ে মিস প্ল্যান হয়েছে: মেয়র আতিক

হাতিরঝিল নিয়ে মিস প্ল্যান হয়েছে: মেয়র আতিক

সর্বশেষ

৫ বছর পর হার, কারণটা জানালেন মাহমুদউল্লাহ 

৫ বছর পর হার, কারণটা জানালেন মাহমুদউল্লাহ 

মাছের ড্রামের ভেতরে লুকিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন তারা

মাছের ড্রামের ভেতরে লুকিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন তারা

বৌদ্ধ অধ্যুষিত তিব্বতে চীনের প্রেসিডেন্ট!

বৌদ্ধ অধ্যুষিত তিব্বতে চীনের প্রেসিডেন্ট!

লকডাউনে সীমিত পরিসরে চলবে হাইকোর্টের বিচার

লকডাউনে সীমিত পরিসরে চলবে হাইকোর্টের বিচার

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

ঈদে হাজী দানেশের বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা

ঈদে হাজী দানেশের বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা

সংক্রমণ ঠেকাতে ফাইজারের কার্যকারিতা কমছে: ইসরায়েলের গবেষণা

সংক্রমণ ঠেকাতে ফাইজারের কার্যকারিতা কমছে: ইসরায়েলের গবেষণা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রিসোর্টে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন ২৫ জন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রিসোর্টে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন ২৫ জন

হেরাতে তালেবান ঠেকানোর লড়াইয়ের নেতৃত্বে সাবেক মুজাহিদিন কমান্ডার

হেরাতে তালেবান ঠেকানোর লড়াইয়ের নেতৃত্বে সাবেক মুজাহিদিন কমান্ডার

করোনার মাঝেও অলিম্পিকের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

করোনার মাঝেও অলিম্পিকের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

অলিম্পিক গেমস উপলক্ষে গুগলের ডুডল

অলিম্পিক গেমস উপলক্ষে গুগলের ডুডল

দ্বিতীয় ঢেউয়েও বাংলাদেশের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানো অব্যাহত: এডিবি

দ্বিতীয় ঢেউয়েও বাংলাদেশের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানো অব্যাহত: এডিবি

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

হাতিরঝিল নিয়ে মিস প্ল্যান হয়েছে: মেয়র আতিক

হাতিরঝিল নিয়ে মিস প্ল্যান হয়েছে: মেয়র আতিক

© 2021 Bangla Tribune