X
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

স্বামী-দু’সন্তানের ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতি মিলবে কবে?

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৬, ২১:০৮

স্বীকৃতি চান হালিমা খাতুন-২ স্বাধীনতা দিবস ফিরে এলেই নিজের অজান্তেই শিউরে ওঠেন হালিমা খাতুন। ৮০ বছরের এই বৃদ্ধার চোখের সামনে এখনও জ্বল জ্বল করে ভেসে ওঠে সেইসব দিনের একের পর এক ঘটনা। বড় ছেলেটা ছিল ভীষণ মেধাবী। যখন এই তল্লাটের ছেলেমেয়েদের বেশির ভাগই স্কুলে যেতো না, সেই সময়ে তার ছেলে এ কে এম আমিনুল ইসলাম ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (বর্তমানে বুয়েট) ছাত্র, ছোট ছেলে এ কে এম এছানুল ইসলামও স্কুলের ভালো ছাত্র ছিল। দুই ছেলেকে নিয়ে কতো স্বপ্ন দেখতেন তিনি ও তার স্বামী এ কে এম নুরুল ইসলাম। কিন্তু, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তার জীবনে নেমে আসে একের পর এক আঘাত। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করার অপরাধে পাকিস্তানি সেনারা চোখের সামনেই হত্যা করে তার স্বামীসহ দু’সন্তানকে। একইসময়ে হত্যা করা হয় তার ভাসুর, দেবরসহ আরও কয়েকজনকে। এমন শোকের মধ্যেই তার সম্ভ্রমও কেড়ে নেয় এক পাকিস্তানি সেনা।  এতো কষ্ট সয়ে ও ত্যাগ স্বীকার করে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার করলেও আজও তার স্বামী -সন্তানদের নাম ওঠেনি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের তালিকায়, এখনও তিনি পাননি ‘বীরাঙ্গনা’ বা শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি। আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে স্বাধীনতার সকালে তার আক্ষেপভরা প্রশ্ন, ‘দেশের জন্য এতো ত্যাগ স্বীকার করলাম, এতো কষ্ট সইলাম। কিন্তু, মৃত্যুর আগেও কি আমার স্বামী-দু’সন্তানদের স্বীকৃতি পাবো না?’       

হালিমা খাতুন। বর্তমানে থাকেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার হাড়িভাঙ্গা এলাকায় মেয়ে জামাই আব্দুল হাকিমের বাড়িতে। সেখানেই কথা হয় এই প্রতিনিধির সঙ্গে। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করেন তিনি।

‘আমরা থাকতাম নওগাঁর আদমদীঘি উপজেলার ধামকুড়ি এলাকায়। মুক্তিযুদ্ধকালীন ৭ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করে আমার ছেলে ও স্বামী। এ কথা রাজাকারদের মাধ্যমে পাক্স্তিানি সেনাদের কানে গেলে ওরা আমদের বাড়ি আক্রমণ করে। এরপর আমার চোখের সামনেই স্বামী, দুই ছেলে, ভাসুর ও দেবরসহ এলাকার কয়েকজন বাঙালিকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। বাড়ির পাশে একটি ফাঁকা জায়গায় হত্যার পর লাশ গুম করে রাখে (জায়গাটি এখন গণকবর)। এমন পরিস্থিতিতে চার মেয়েকে নিয়ে কী করবো বুঝতে পারছিলাম না। এর সুযোগ নেয় লম্পট এক পাকিস্তানি সেনা সদস্য...।’

আঁচলে চোখ মুছে দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন বৃদ্ধা হালিমা খাতুন। এরপর বলেন, ‘ একে তো স্বামী-সন্তান হারিয়েছি, তার ওপরে সম্ভ্রম হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়ি। এক সময় স্মৃতিশক্তিও হারিয়ে ফেলি। এ অবস্থায় ‘দুলদুল’ নামে এক আত্মীয় ও এক মুক্তিযোদ্ধার সহযোগিতায় চার মেয়েকে নিয়ে পাবনায় বড় বোন আমেনার বাড়িতে পালিয়ে যাই ।’

হালিমা বলেন,‘পাবনা মানসিক হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসা নিয়ে স্বাভাবিক স্মৃতিশক্তি ফিরে পাই। পরে চার মেয়েসহ তাকে দিনাজপুরের বিরামপুরে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন বড় বোন।’

শহীদ পরিবারের স্বীকৃতির জন্য আর কতো চোখের জল ফেলতে হবে ‘বীরাঙ্গনা’ হালিমা খাতুনকে

পরিবার সদস্যরা জানান, যুদ্ধ শেষ হলে তৎকালীন সরকার ১৯৭২ সালের ২৯ জুন হালিমা খাতুনকে ঠাকুরগাঁও টিবি ক্লিনিকে ‘লেডি হোম ভিজিটর’ পদে চাকরি দেন। যার স্মারক নম্বর ডিডিএইচআর/ই-২৪/৭২/২৪৫৭/১(৫)।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বামী এ কে এম নুরুল ইসলামসহ দুই সন্তানকে পাক সেনারা ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করায় এবং হালিমা খাতুনের সম্ভ্রম কেড়ে নেওয়ায় তৎকালীন সরকার (১৯৭২ সালের ২৯ জুন) তাকে ‘লেডি হোম ভিজিটর’ পদে চাকরির ব্যবস্থা করেন। ওই নিয়োগপত্রে স্পষ্টভাবে এসব তথ্যের  উল্লেখ থাকলেও স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ পরিবারের তালিকায় স্বামী কিংবা সন্তানদের নাম ওঠেনি। এমন কী তার নামও বীরাঙ্গনার তালিকায় নেই! তবে ঢাকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাত্তরের স্মৃতিফলকে বড় ছেলে শহীদ এ কে এম আমিনুল ইসলামের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে। 

হালিমা তার নিয়োগপত্র দেখিয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সরকারের দেওয়া লেডি হোম ভিজিটর পদের চাকরিটা আমাকে দেন এই ত্যাগ স্বীকারের কারণেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার তেমন কিছুই চাওয়ার নেই। শুধু স্বামী ও সন্তানদের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের স্বীকৃতিটুকুই চাই। রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ দেখে যেতে চাই। যেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দীপ্ত হয়ে উঠবে আগামীর প্রজন্ম।’

হালিমা খাতুনের মেয়ের স্বামী আব্দুল হাকিম বলেন, ঠাকুরগাঁও টিবি ক্লিনিক থেকে ১৯৯২ সালের ৫ জুন অবসর গ্রহণ করেন। পরে স্বামীর ভিটে নওগাঁর আদমদীঘির ধামকুড়িতে ফিরে যান। কিন্তু সেখানে তিনি  সবসময় কান্নাকাটি করতেন। পরে আমার স্ত্রী সাইদা শাশুড়িকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের তালিকায় নাম না ওঠা প্রসঙ্গে আব্দুল হাকিম বলেন, ভেবেছিলাম যেহেতু সরকারিভাবেই শাশুড়ির চাকরি হয়েছিল। একইভাবে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ পরিবারের তালিকায় শ্বশুর ও শ্যালকদের নাম অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু সেটা না হওয়ায় এবার গেজেট অন্তর্ভুক্তির জন্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে আবেদন করা হয়েছে।’

 

/বিটি/টিএন/

গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১২:১৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ফুল মিয়া (২৫) ও আবদুস ছালাম (২৪) নামে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ-রাজাবিরাট সড়কের সাপমারা ইউনিয়নের সারাই গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আবদুস ছালাম গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের সারাই গ্রামের মো. ফেরদৌস মিয়ার ছেলে এবং ফুল মিয়া একই ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আবদুস সালাম ও ফুল মিয়া মোটরসাইকেলে গোবিন্দগঞ্জের ইসলামপুর যাচ্ছিলেন। পথে সারাই গ্রামে রাস্তার মোড় ঘুরতে গিয়ে গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে ছিটকে রাস্তায় পড়ে ঘটনাস্থলেই দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়।

সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আইয়ুব হোসেন জানান, তারা দুই বন্ধু ইসলামপুর কলেজ মাঠে ফুটবল খেলতে বাড়ি থেকে বের হন। পথে মোটরসাইলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

বৈরাগীহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মিলন চ্যাটার্জি জানান, মোটরসাইকেলচালক নিয়ন্ত্রণ হারানোয় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। 

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

আইসিইউ খালি নেই রংপুর বিভাগের করোনা হাসপাতালে

আইসিইউ খালি নেই রংপুর বিভাগের করোনা হাসপাতালে

জেলের বড়শিতে বিশাল বোয়াল

জেলের বড়শিতে বিশাল বোয়াল

চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল শুরু ১ আগস্ট

চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল শুরু ১ আগস্ট

রংপুরে বিভাগে ২৯ দিনে ৪৪৪ জনের মৃত্যু

রংপুরে বিভাগে ২৯ দিনে ৪৪৪ জনের মৃত্যু

ইয়াবাসহ গ্রেফতার পুলিশ সদস্য রিমান্ডে

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১১:৫৮

খুলনায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার পুলিশ কনস্টেবল আল মামুনকে একদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. বুলবুল আহমেদ এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

কয়রা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম শাহাদাত হোসেন জানান, বুধবার বিকাল সাড়ে চারটায় ইয়াবাসহ কয়রা থানার পুলিশ কনস্টেবল আল মামুনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব- ৬-এর সদস্যরা। গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, পুলিশ কনেস্টবল মামুনকে ৭১৫ পিস ইয়াবাসহ কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নের দশবাড়িয়া মসজিদের সামনে থেকে বুধবার গ্রেফতার করেন র‌্যাব সদস্যরা। পরে র‌্যাবের ডিএডি মো. জিয়াউল হক বাদী হয়ে কয়রা থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করেন।

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

খুলনার হাসপাতালে মৃত্যু কমেছে

খুলনার হাসপাতালে মৃত্যু কমেছে

গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৫০০ ঘরের বস্তিটি

গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৫০০ ঘরের বস্তিটি

১০ মিনিটে ২ ডোজ টিকা নেওয়া ব্যক্তি পর্যবেক্ষণে

১০ মিনিটে ২ ডোজ টিকা নেওয়া ব্যক্তি পর্যবেক্ষণে

শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসা সভাপতি গ্রেফতার

শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসা সভাপতি গ্রেফতার

খুলনার হাসপাতালে মৃত্যু কমেছে

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১১:৩৫

খুলনার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে করোনায় মৃত্যু কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার তিন হাসপাতালে আট জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিন, শহীদ শেখ আবু নাসের হাসপাতালে দুই ও গাজী মেডিক্যাল হাসপাতালে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। 

শুক্রবার (৩০ জুলাই) সকালে খুলনা মেডিক্যালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত এখানে ১২৯ ভর্তি রয়েছেন। মারা গেছেন তিন জন। তারা হলেন—খুলনার আফসার (৬০), মারিয়াম (৭৪) ও চুয়াডাঙ্গার গিয়াস উদ্দিন (৯০)।

শেখ আবু নাসের হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চার জন ভর্তি হয়েছেন। ছাড়পত্র নিয়েছেন চার জন। মারা গেছেন দুই জন। তারা হলেন—বাগেরহাটের দেলোয়ার হোসেন (৭০) ও খুলনার মনোয়ারা বেগম (৬৭)। বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৪১ জন।

গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. গাজী মিজানুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন। ১৭ জন ছাড়পত্র নিয়েছেন। মারা গেছেন তিন জন। তারা হলেন—খুলনার আব্দুর সবুর (৭৫), ঝিনাইদহের লুতফুর রহমান (৯০) ও আনসার উদ্দিন (৮০)। বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৬৮ জন। 

খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. কাজী আবু রাশেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সাত জন ভর্তি হয়েছেন। ছাড়পত্র নিয়েছেন আট জন। তবে এই সময়ে করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৩৯ জন। 

খুলনা সিটি মেড্যাকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চার জন ভর্তি হয়েছেন। ছাড়পত্র নিয়েছেন ১১ জন। ২৪ ঘণ্টায় কেউ মারা যায়নি। বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৫৭ জন।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

ইয়াবাসহ গ্রেফতার পুলিশ সদস্য রিমান্ডে

ইয়াবাসহ গ্রেফতার পুলিশ সদস্য রিমান্ডে

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরও ১৮ মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরও ১৮ মৃত্যু

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে একদিনে ১২ মৃত্যু

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে একদিনে ১২ মৃত্যু

হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে রোগী

হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে রোগী

বরগুনায় আগুনে পুড়েছে করোনা টিকা রাখার ফ্রিজ

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১১:৩৫

বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে করোনার টিকা সংরক্ষণের দুটি ডিপ ফ্রিজ পুড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। শুক্রবার (৩০ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নতুন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পুড়ে যাওয়া ফ্রিজ দুটিতে কোনও টিকা না থাকায় কোনও ক্ষতি হয়নি। 

প্রত্যক্ষদর্শী হৃদয় বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে আমি হাঁটতে বের হই। বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ওখানে গেলে অফিসের মধ্য থেকে ধোয়া বের হতে দেখি। শুক্রবার অফিসের মধ্য থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে সন্দেহ হয়। এসময় আরও বেশ কয়েকজন পথচারী উপস্থিত হলে ফায়ার সার্ভিসে ফোন করে বিষয়টি জানাই।

বরগুনার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম বলেন, অগ্নিকাণ্ডে করোনার টিকা সংরক্ষণের জন্য সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের দুটি ডিপ ফ্রিজ পুড়ে গেছে। তবে পুড়ে যাওয়া ফ্রিজ দুটিতে কোনও টিকা ছিল না। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। 

 তিনি আরও বলেন, একজন সচেতন পথচারী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখে ফায়ার সার্ভিসে কল করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সঠিক সময়ে তিনি ইনফর্ম না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো।

এ বিষয়ে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান বলেন, বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডে করোনার টিকা সংরক্ষণের দুটি ডিপ ফ্রিজ পুড়ে গেছে। তবে ফ্রিজ দুটিতে কোনো টিকা সংরক্ষণ করা ছিল না। ফলে টিকার কোনও ক্ষতি হয়নি। আগুন লাগার সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত করে বের করা হবে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৩ মৃত্যু 

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৩ মৃত্যু 

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরও ১৮ মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরও ১৮ মৃত্যু

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে একদিনে ১২ মৃত্যু

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে একদিনে ১২ মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৩ মৃত্যু 

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ১১:১৪

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনায় আরও সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও পাঁচ জন। এছাড়াও করোনামুক্ত হয়েও পরবর্তী স্বাস্থ্য জটিলতায় মারা গেছে আরও একজন। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টার মধ্যে করোনা ইউনিটে এই ১৩ জনের মৃত্যু হয়।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে রাজশাহীর ছয় জন, নাটোর ও নওগাঁর তিন জন করে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন। এদের মধ্যে আট জন পুরুষ এবং পাঁচ জন নারী রয়েছে। মৃতদের মধ্যে চার জনের বয়স ৬১ বছরের ওপরে। বাকিদের মধ্যে ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে চার জন এবং ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে চার জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে একজন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক শামীম ইয়াজদানী বলেন, এ নিয়ে চলতি মাসে (১ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই সকাল পর্যন্ত) এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫৫৩ জনে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১৭৯ জন। আর শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর নমুনা পরীক্ষার আগেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৩৩৬ জন। বাকি ৩৮ জন মারা যান করোনামুক্ত হয়েও পরবর্তী স্বাস্থ্য জটিলতায়।

শামীম ইয়াজদানী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৬৫ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ৩০ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের চার, নাটোরের ৯, নওগাঁর ছয় জন, পাবনার ১১ ও কুষ্টিয়ার পাঁচ জন রয়েছেন।

২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ জন। শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনা ইউনিটের ৫১৩ বেডের বিপরীতে ভর্তি আছে ৪২৫ জন। এদের মধ্যে আইসিইউতে রয়েছেন ২০ জন।

করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ১৮৯ জনের করোনা পজিটিভ রয়েছে। উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন ১৭৪ জন। যাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও করোনামুক্ত হয়েও পরবর্তী স্বাস্থ্য জটিলতায় চিকিৎসাধীন আছেন ৬২ জন।

হাসপাতালের পরিচালক জানান, রাজশাহীতে করোনার প্রকোপ কমেছে। বৃহস্পতিবার দুটি ল্যাবে রাজশাহী জেলার ৫৪২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ১২৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। আগের দিনের চেয়ে ৬ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ কমে শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর আগের দিন বুধবার ছিল ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। এছাড়াও গত মঙ্গলবার শনাক্তের হার ছিল ২২ দশমিক ৭৬ শতাংশ, গত সোমবার ২২ দশমিক ৫১ শতাংশ, গত রোববার ৩০ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং গত শনিবার ছিল ৪৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

বরগুনায় আগুনে পুড়েছে করোনা টিকা রাখার ফ্রিজ

বরগুনায় আগুনে পুড়েছে করোনা টিকা রাখার ফ্রিজ

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরও ১৮ মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরও ১৮ মৃত্যু

চট্টগ্রামে রেকর্ড শনাক্তের দিনে আরও ৯ মৃত্যু 

চট্টগ্রামে রেকর্ড শনাক্তের দিনে আরও ৯ মৃত্যু 

সর্বশেষ

গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর

গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর

সাঁতারে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সোনা

টোকিও অলিম্পিকসাঁতারে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সোনা

ইয়াবাসহ গ্রেফতার পুলিশ সদস্য রিমান্ডে

ইয়াবাসহ গ্রেফতার পুলিশ সদস্য রিমান্ডে

করোনায় অসহায় মানুষের পাশে মৌসুমী ও সুমি  (ভিডিও)

করোনায় অসহায় মানুষের পাশে মৌসুমী ও সুমি  (ভিডিও)

খুলনার হাসপাতালে মৃত্যু কমেছে

খুলনার হাসপাতালে মৃত্যু কমেছে

বরগুনায় আগুনে পুড়েছে করোনা টিকা রাখার ফ্রিজ

বরগুনায় আগুনে পুড়েছে করোনা টিকা রাখার ফ্রিজ

মাল্টার জেলে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশির ভাগ্যে কী আছে?

মাল্টার জেলে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশির ভাগ্যে কী আছে?

ঝরে পড়াদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান বাউবি ভিসির

ঝরে পড়াদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান বাউবি ভিসির

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৩ মৃত্যু 

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ১৩ মৃত্যু 

ঢাকা-আঙ্কারা পর্যটন বাড়ানো আহ্বান

ঢাকা-আঙ্কারা পর্যটন বাড়ানো আহ্বান

টিভিতে আজ

টিভিতে আজ

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরও ১৮ মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে আরও ১৮ মৃত্যু

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune