X
শুক্রবার, ২৩ জুলাই ২০২১, ৮ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

‘বিকৃত মুখের মরদেহকে আমার মনে করে ওরা দাফন করে’

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৬, ০০:৫০

স্বাধীন বাংলা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বাংলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা নিজের জীবনের বিনিময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করেন। তাদেরই একজন  মৌলভীবাজার মহকুমার তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি দেওয়ান আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরী। চোখের সামনে দেখেছেন সহকর্মীদের মৃত্যু। যুদ্ধের বাস্তবতায় অনেকের লাশের ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হয়েছে। সে সময়ের নারীদের করুণ আর্তনাদ তাকে আজও  যেন পীড়িত করে। 

তিনি ১৯৫১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৪নং আপার কাগাবালা ইউনিয়নের আতানগিরি গ্রামে দেওয়ান পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। মা-বাবার একমাত্র পুত্রসন্তান হওয়ায় ছিলেন সকলের বিশেষ স্নেহের পাত্র। ছয় ফুটের ওপর লম্বা, রং উজ্জ্বল ফর্সা, দেখতে খুব সুন্দর। বিশেষ আদর করতেন বলেই পরিবারের সবাই যুদ্ধে যেতে নিষেধ করেন তাকে।

মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরী

১৯৬৬ সালে এসএসসি ও ১৯৬৮ সালে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৬৭ সালে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে তিনি একমাত্র সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।

যাদের মনে দেশকে স্বাধীন করার স্বপ্ন তাদেরকে কি আর বাধা দিয়ে রাখা যায়? মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি থাকায় তরুণ ছাত্র সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরী। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় সেসব দিনের স্মৃতিচারণ করেন। 

দেওয়ান আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরী বলেন, ২৩ মার্চ আমার সভাপতিত্বে মৌলভীবাজার চৌমুহনী পয়েন্টে ঐতিহাসিক রেন্ডি গাছের নিছে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এসময় আমার সঙ্গে ছিলেন মোহাইমীন সালেহ (জুড়ী), মাহমুদুর রহমান(পরবর্তীতে আয়কর উকিল), আলহাজ জয়নাল আহমদ প্রমুখ। আমাদের এই উদ্দ্যোগের কথা শুনে বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায়ও পতাকা উত্তোলন করা হয়।

শমসেরনগরে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর প্রতিরোধের কারণে পতাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। পরে ২৫ তারিখ মৌলভীবাজার থেকে আমার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে সকাল ১১টায় শমসেরনগর যাই। এই দিন শমসেরনগর বাজারে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা  উত্তোলন করা হয়।

পরদিন ২৬ মার্চ সারা দেশে কারফিউ জারি করা হয়। এদিন পাকিস্তানি-হানাদার বাহিনী বামকেশ ঘোষ, তখনকারএমএসসি; আজিজুর রহমানকে, বর্তমান মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক; সকাল বেলা গ্রেফতার করে তাদের কাছ থেকে আমার তথ্য নিয়ে আমার আরামবাগস্থ বাড়িতে আসে।

পাকিস্তানি-বাহিনী আসার খবর পেয়ে আমি বাড়ি থেকে অন্যস্থানে চলে যাই। তারা আমাকে না পেয়ে বাড়ি তছনছ ও ভাঙচুর করে। ওইদিন সন্ধ্যায় যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়ে শহরতলীর সৈয়ারপুরে মিটিং করি।

২৭ মার্চ শমসেরনগরে পাকিস্তানিদের সঙ্গে যুদ্ধ হলে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা মারা যান। কারণ এসময় আমাদের কোনও প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র ছিল না। এ ঘটনার পর পাকিস্তানিরা মৌলভীবাজার ছেড়ে সিলেটের উদ্দ্যেশে যাত্রা শুরু করলে আমরাও তাদের পিছু ধরি।

সদর উপজেলার কামালপুরে ২৮/২৯ এপ্রিল কমান্ডার মানিক চৌধুরী, মেজর সিআর দত্ত ও বেঙ্গল রেজিমেন্টদের সঙ্গে আনসার ও মুজাহিদদের নেতৃত্বে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে এখান থেকে তাদের বিতাড়িত করা হলে শেরপুরে আস্তানা গাড়ে। যুদ্ধ করে সেখান থেকেও তাদেরকে বিতাড়িত করা হয়।

এপ্রিলের শেষের দিকে পাকিস্তানি-বাহিনী বিমান দিয়ে অসহায় বাঙালির উপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার জন্য আমরা হবিগঞ্জের খোয়াই বর্ডার দিয়ে ভারতে প্রবেশ করি। এসময় আমার সঙ্গে ছিলেন আজিজুর রহমান, শওকতুল ওয়াহিদ, হারুণ মিয়া। বাগানের বক্স গাড়ি দিয়ে ভারত যাই। গাড়িটি ড্রাইভ করেছিলেন হারুন ভাই।

ভারত ঢুকে বিএসএফ এর কাছে গাড়ি রেখে আমরা আসাম আসি। সেখানে গিয়ে আমাদের সিলেট অঞ্চলের অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে দেখা হয়। আসামে কয়েক দিন অবস্থানের পর ২০ অথবা ২২ মে আমাকে আগরতলায় আসার আহ্বান করেন আ স ম আব্দুর রউফ। খবর পেয়ে আমি দেরি না করে তাড়াতাড়ি এসে ওনার সঙ্গে দেখা করি। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের জন্য আপনার এলাকার লোক প্রস্তুত করেন। প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা করতে থাকি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশকে ৪টি এলাকায় ভাগ করে চারজন সেক্টর কমান্ডার শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমদকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এসময় আমি ও আমার সহযোগীরা ইন্দিরা গান্ধীর সহযোগিতায় সামরিক বোয়িং বিমানে ভারতের উত্তর প্রদেশের দেরাদুনে প্রশিক্ষণের জন্য চলে যাই।

চার নম্বর সেক্টর কমান্ডারের অধীনে তখন সারা বাংলাদেশের ৭শ’ জন মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন। আমাদের প্রশিক্ষণের ইনচার্জ ছিলেন লেফট্যানেন্ট জেনারেল উবান। তবে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন মেজর মালহোত্রা। ১৯৭১ সালের মে মাস থেকে প্রশিক্ষণ শুরু করি এবং জুলাই মাসের শেষের দিকে আসামবাড়ি, আগরতলা হয়ে ৬/৭ জনের দলে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ি। এর আগে হাফলং এর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা ও আমরা ভারতের রাতাছড়ায় একত্রিত হই।

ভারতের দেরাদুনে প্রথম ব্যাচে সিলেট বিভাগের মধ্যে আমরা নয়জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। তখন সিলেটের মিছবাহউদ্দিন আহমেদ ছিলেন আমাদের গ্রুপের স্কোয়ার্ডান লিডার এবং আমি ছিলাম ডেপুটি স্কোয়ার্ডান লিডার। মৌলভীবাজারের প্রশিক্ষণ প্রাপ্তরা হলেন, মৌলভীবাজারের মরহুম আব্দুল মুকিত, শ্রীমঙ্গলের মোহন সোম ও শিশির সোম, জুড়ীর সালেহ আহমেদ, রাজনগরের রফিকউদ্দিন রানা, বিগ্রেডিয়ার আব্দুস সালাম।

দুঃখের কথা হলো, সাতগাঁও হয়ে দিনারপুরে আসার পথে মুকিত, রানু, শহীদ, শিশির সোম গেরিলা যুদ্ধে শহীদ হন। এসময় আমাদের এক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুমিন (খালিশপুরের) পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে আমাদের অবস্থান ও আমার সম্বন্ধে পাকিস্তানি বাহিনীকে জানিয়ে দেন। পাকিস্তানি-বাহিনী আমাকে দিনারপুর পাহাড়ে চতুর্দিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে। আমি তখন নবীগঞ্জের দিকে চলে যাই।

এসময় পাকিস্তানি বাহিনী আমার মা ফয়জুন্নেছা খানম চৌধুরীকে ধরে নিয়ে প্রথমে গজনাইপুর ও পরে শ্রীমঙ্গলে পিস কমিটির সভাপতি দেওয়ান রশীদের বাসায় রাখে। সেপ্টেম্বর মাসের দিকে জগন্নাথপুরে গেরিলা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সময় জানতে পারি মাকে তারা ধরে নিয়ে গেছে। আমাকে ধরার জন্য আমার মাকে দেওয়ান রশীদের বাসায় প্রায় এক মাস আটকে রাখে।

একসময় পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে খবর যায় মাধবপুর বাগানে আমার লাশ পাওয়া গেছে। পাকিস্তানিবাহিনী বাগানে গিয়ে একটি  বিকৃত মুখমণ্ডলের মরদেহ উদ্ধার করে। বিকৃত মুখের মরদেহকে আমার মনে করে ওরা দাফন করে। দাফন সম্পন্ন করার পর আমার মায়ের কাছে এসে সান্ত্বনা দিতে থাকে। অক্টোবরের প্রথম দিকে আমার মা আথানগিরির বাড়িতে ফিরে আসেন।

আমি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সাতগাঁওয়ের বোঙ্গেশ বাড়ির টিলায় ও সাতহালের টেকই গ্রামের আজিম মিয়ার বাড়িতে থাকি। তারপর দিনারপুর পাহাড়ে অবস্থান নেই। এসময় আমাদের খাবার দাবার থেকে শুরু করে সবকিছু দেখাশোনা করেন আথানগিরি গ্রামের আমার বন্ধু মরহুম চেরাগ আলী, পানিউন্দা গ্রামের মোমিন মেম্বার ও ধনাই মিয়া।

একদিন পাহাড়ের পাশে এক তরুণী মেয়ের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। চতুর্দিক চেয়ে দেখতে পেলাম পাকিস্তানি কুলাঙ্গাররা মেয়েটিকে হাতে ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে একটা খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে। একসময় কুলাঙ্গাররা পালিয়ে চলে যায়। মেয়েটা রক্ষা পায়।

১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা যারা বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট (মুজিব বাহিনী) ও বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে মিছবাহউদ্দিন, আলতাফ ভাই, মাহমুদসহ সব মুক্তিযোদ্ধারা রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের সপ্তাহ খানেকের ভেতরে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র জমা দিই। 

যে উদ্দ্যেশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলাম তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, কিন্তু মুক্তি পাইনি। আমরা একটি পতাকা, স্বাধীন বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ নামে একটি ভুখণ্ড পেয়েছি। মুক্তি পাওয়ার জন্য ১৬ কোটি মানুষের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি। 

/এইচকে/

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রিসোর্টে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন ২৫ জন

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ২১:৪৩

করোনাভাইরাস রোধে সরকার আরোপিত কঠোর লকডাউন উপেক্ষা করে ঈদ পরবর্তী বিনোদনের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি রিসোর্টে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা গুনেছেন ২৫ নারী-পুরুষ। শুক্রবার (২৩ জুলাই) দুপুরে জেলার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের কাঠের পুল এলাকায় ‘কিং অব কসবা’ নামক রিসোর্টে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবা খান। তিনি বলেন, ‘সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আজ দুপুরে কিং অফ কসবা রিসোর্টে ঘোরাঘুরি করতে আসা ২৫ জনকে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘লকডাউন বাস্তবায়নে আমরা প্রচার-প্রচারণা ও মাস্ক বিতরণের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করছি। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

অভিযানকালে সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

বিয়ের রাত কাটলো লঞ্চের ডেকে

বিয়ের রাত কাটলো লঞ্চের ডেকে

লকডাউন অমান্য করায় ব্যবসায়ীর ৭ দিনের জেল

লকডাউন অমান্য করায় ব্যবসায়ীর ৭ দিনের জেল

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলছে হালকা যানবাহন

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলছে হালকা যানবাহন

মদপানে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৫

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ২০:৫৪

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও পাঁচজন।

মৃতরা হলেন- মেহেদী হাসান সোহাগ (৩২) ও তৌফিকুজ্জামান সৈকত (৩০)। এর মধ্যে শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় বগুড়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সোহাগের। বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা যান সৈকত।

সোহাগ গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের চক গোবিন্দ পাঠানপাড়ার আলমগীর হোসেন প্রধানের ছেলে এবং সৈকত চক গোবিন্দ ঝিলপাড়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে।

আহতরা হলেন- চক গোবিন্দ পশ্চিম চৌমাথা এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে রানা (৩২), সাজু মিয়ার ছেলে রানা (২৮), মৃত বাদল চন্দ্রের ছেলে বাঁধন সরকার (২৬), বাপ্পী (২৮) ও অভি (৩০)। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তাজুল ইসলাম জানান, মারা যাওয়ার কারণ উদ্ধারে পুলিশ তদন্তে নেমেছে। তবে মৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও অভিযোগ করা হয়নি।

এ বিষয়ে মেহেদী ও সৈকতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি। স্থানীয়রা জানান, সোহাগ, সৈকতসহ অসুস্থরা বৃহস্পতিবার রাতে একসঙ্গে বসে মদপান করেন। মদপানের প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতে সৈকত এবং আজ সকালে সোহাগের মৃত্যু হয়। অসুস্থ অন্যরা বগুড়ার শজিমেক ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শরিফুল ইসলাম জানান, সোহাগ, সৈকত ও রানা নামের তিন যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অ্যালকোহল জাতীয় কিছু পান করার ফলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

লকডাউন অমান্য করায় ব্যবসায়ীর ৭ দিনের জেল

লকডাউন অমান্য করায় ব্যবসায়ীর ৭ দিনের জেল

ময়লার ভাগাড় ও রাস্তায় পড়ে আছে চামড়া

ময়লার ভাগাড় ও রাস্তায় পড়ে আছে চামড়া

রংপুরে আরও ১৫ মৃত্যু, খালি নেই আইসিইউ বেড

রংপুরে আরও ১৫ মৃত্যু, খালি নেই আইসিইউ বেড

রেজিস্ট্রার অফিসের বারান্দায় সন্তান প্রসব!

রেজিস্ট্রার অফিসের বারান্দায় সন্তান প্রসব!

চাকরির প্রলোভনে টঙ্গীতে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ২০:৩১

গাজীপুরের টঙ্গীতে চাকরির প্রলোভনে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই তরুণী শুক্রবার (২৩ জুলাই) দুপুরে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা করেছেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টঙ্গীর ভরান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাসুদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযুক্ত আসামিরা হলো- টঙ্গীর ভরান এলাকার জয় (২৫), সৈকত (২৬) এবং তাদের এক সহযোগী।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে ওসি জাবেদ মাসুদ জানান, বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্টুরেন্টে ভুক্তভোগীর সঙ্গে অভিযুক্তদের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ওই তরুণীকে টঙ্গীতে আসতে বলে অভিযুক্তরা। রাত সাড়ে ১২টায় টঙ্গীর ভরান এলাকায় গেলে স্থানীয় সাদিয়া ফার্নিচারের গোডাউনের পেছনে নিয়ে তরুণীকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।

তিনি আরও জানান, সকালে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে ফেলে রেখে চলে যায়। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আজ দুপুরে মামলা নেওয়া হয়েছে। তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

/এফআর/

সম্পর্কিত

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলছে হালকা যানবাহন

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলছে হালকা যানবাহন

‘মানবিক’ কারণে ফেরিতে পার হচ্ছে মানুষ-হালকা যানবাহন

‘মানবিক’ কারণে ফেরিতে পার হচ্ছে মানুষ-হালকা যানবাহন

শিমুলিয়া ঘাটে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে চলছে পারাপার

শিমুলিয়া ঘাটে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে চলছে পারাপার

বিয়ের রাত কাটলো লঞ্চের ডেকে

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১৯:৫৫

ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) বিয়ে করেছেন মো. রাসেল ও সোনিয়া আক্তার। কিন্তু করোনা রোধে শুক্রবার (২৩ জুলাই) থেকে সরকার আরোপিত কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ায় বিয়ের রাতে কর্মস্থলে ফিরতে নববধূকে নিয়ে লঞ্চের ডেকে বসেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের বাসিন্দা রাসেল। এতে করে বর-কনের সাজে তাদের বিয়ের রাত কেটেছে লঞ্চের ডেকে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতেই পারাবত-১০ লঞ্চের চতুর্থতলায় লঞ্চ মাস্টারের সামনের খোলা জায়গায় চাদর বিছিয়ে সেখানেই সারারাত কাটিয়ে দেন এ নবদম্পতি। রোজার ঈদের সময় রাসেল ও সোনিয়ার দেখাদেখি শেষে বিয়ের পাকা কথা হয়। বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ঈদুল আজহার পরদিন। সিদ্ধান্ত ছিল, করোনার কারণে হাতেগোনা কয়েকজনের উপস্থিতিতে বিয়ে হবে। আর লকডাউনের কারণে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নবদম্পতি চলে যাবে ঢাকায়।

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা রাসেল বলেন, ‘বসের সাফ কথা, কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। এ কারণে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কোনোভাবে খাবার খেয়ে ঢাকায় যেতে বরিশাল নৌবন্দরে চলে আসি। কারণ মারাত্মক ভিড় হবে তাই আগেভাগেই আন্দাজ করেছি। বিকেলের মধ্যে বরিশাল নৌবন্দরে পৌঁছে পারাবত-১০ লঞ্চে উঠি। এর পূর্বে ঘাটে থাকা প্রতিটি লঞ্চে কেবিনের খোঁজ নিয়েছি। এমনকি স্টাফ কেবিনও খুঁজেছি। কিন্তু কোনও কিছুই ছিল না। ডেক থেকে শুরু করে ছাদেও যাত্রী ছিল। কোনোভাবে জায়গা ব্যবস্থা করতে না পেরে পারাবত লঞ্চের সারেংয়ের সামনে চাদর বিছিয়ে জায়গা করে নেই।’

রাসেল বলেন, ‘স্ত্রী বিয়ের কাপড়ে থাকায় বেশিরভাগ যাত্রীর দৃষ্টি ছিল আমাদের দিকে। বিয়ে করেই লঞ্চে ওঠার বিষয়টি সবাই বুঝতে পারে। এ নিয়ে একাধিক প্রশ্নের সম্মুখীনও হতে হয়েছে আমাকে। অনেকে আবার আস্তে আস্তে বলছিল, লকডাউনের মধ্যে বিয়ে। বিষয়গুলোর আমার কানে এলেও চুপচাপ থাকি।’

শুক্রবার ভোরবেলা সদরঘাট পৌঁছান তারা। হাসি দিয়ে সুমন বললেন, ‘বিয়ের রাতের ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা হলো আমাদের দুইজনের।’

পারাবত-১০ লঞ্চের সুপারভাইজার মোখলেচুর রহমান বলেন, ‘আমারও তাদের কেবিন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এত যাত্রীর চাপ, এর মধ্যে কোনোভাবেই কেবিনের ব্যবস্থা করা যায়নি।’

/এফআর/

সম্পর্কিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রিসোর্টে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন ২৫ জন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রিসোর্টে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন ২৫ জন

লকডাউন অমান্য করায় ব্যবসায়ীর ৭ দিনের জেল

লকডাউন অমান্য করায় ব্যবসায়ীর ৭ দিনের জেল

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলছে হালকা যানবাহন

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলছে হালকা যানবাহন

‘মানবিক’ কারণে ফেরিতে পার হচ্ছে মানুষ-হালকা যানবাহন

‘মানবিক’ কারণে ফেরিতে পার হচ্ছে মানুষ-হালকা যানবাহন

যমজ সন্তান জন্মের এক সপ্তাহ পর করোনা আক্রান্ত মায়ের মৃত্যু

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১৮:৪৬

যমজ সন্তান জন্মের এক সপ্তাহ পর মারা গেছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা শাম্মি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ড. এম আব্দুল আলীম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শারমিন সুলতানার বাড়ি পাবনা পৌর শহরের কলাবাগান মহল্লায়। তিনি করোনা পজিটিভ ছিলেন। এক সপ্তাহ আগে যমজ সন্তানের মা হন। গত ১৩ জুলাই সকালে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় করোনার উপসর্গ নিয়ে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তির জন্য যান। শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) খুঁজে না পেয়ে রাজারবাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

পরে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা ১৫ জুলাই তার ডেলিভারি করানোর সিদ্ধান্ত নিলে শাম্মি যমজ কন্যা সন্তান জন্ম দেন। জন্মের পর থেকে বাচ্চা দুইটিকে এনআইসিইউতে রাখা হয়। এরপর শাম্মির শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় এবং শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকালে তার মৃত্যু হয়।

শারমিনের মৃত্যুতে পাবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শোকবার্তা জানিয়েছেন পাবিপ্রবি শিক্ষক ড. এম আব্দুল আলীম, ড. আওয়াল কবির জয়, কামাল হোসেন প্রমুখ।

/এফআর/

সম্পর্কিত

খুলনা বিভাগে আরও ৩০ জনের মৃত্যু

খুলনা বিভাগে আরও ৩০ জনের মৃত্যু

দাম নেই, বগুড়ায় চামড়া গেছে ভাগাড়ে

দাম নেই, বগুড়ায় চামড়া গেছে ভাগাড়ে

যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৬ মৃত্যু

যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৬ মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ২২ জনের মৃত্যু 

রাজশাহী মেডিক্যালে আরও ২২ জনের মৃত্যু 

সর্বশেষ

লকডাউনে সীমিত পরিসরে চলবে হাইকোর্টের বিচার

লকডাউনে সীমিত পরিসরে চলবে হাইকোর্টের বিচার

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন বাতিল, আর কত হারাবেন তারা?

ঈদে হাজী দানেশের বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা

ঈদে হাজী দানেশের বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা

সংক্রমণ ঠেকাতে ফাইজারের কার্যকারিতা কমছে: ইসরায়েলের গবেষণা

সংক্রমণ ঠেকাতে ফাইজারের কার্যকারিতা কমছে: ইসরায়েলের গবেষণা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রিসোর্টে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন ২৫ জন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রিসোর্টে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন ২৫ জন

হেরাতে তালেবান ঠেকানোর লড়াইয়ের নেতৃত্বে সাবেক মুজাহিদিন কমান্ডার

হেরাতে তালেবান ঠেকানোর লড়াইয়ের নেতৃত্বে সাবেক মুজাহিদিন কমান্ডার

করোনার মাঝেও অলিম্পিকের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

করোনার মাঝেও অলিম্পিকের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

অলিম্পিক গেমস উপলক্ষে গুগলের ডুডল

অলিম্পিক গেমস উপলক্ষে গুগলের ডুডল

দ্বিতীয় ঢেউয়েও বাংলাদেশের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানো অব্যাহত: এডিবি

দ্বিতীয় ঢেউয়েও বাংলাদেশের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানো অব্যাহত: এডিবি

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন প্রকৌশলী রিমন, কিন্তু কেন?

মদপানে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৫

মদপানে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৫

ক্লাউড উইন্ডোজ আনলো মাইক্রোসফট

ক্লাউড উইন্ডোজ আনলো মাইক্রোসফট

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune