X
রবিবার, ০১ আগস্ট ২০২১, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও সাতক্ষীরার রাজাকারদের বিচার হয়নি

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৬, ০১:৩৪

ডায়মন্ড হোটেলের পেছনে রান্না ঘরের সামনে তোলা সেই ছবি যুদ্ধে ছিন্ন ঘরবাড়ি দেশ। মাথার ওপরে বোমার অভিযান। মায়ের কোলে আধমরা শিশু। এ কেমন বাঁচা। বেঁচে বেঁচে মরা। ’৭১ হ্যাঁ, ১৯৭১ এর কথা বলছি। সেদিন সবুজ বাংলা শহীদের রক্তে লাল হয়েছিল। সেদিন সাতক্ষীরাসহ বাংলাদেশের নদীগুলোতে কচুরিপানার মতো ভেসেছিল লাশ।
১৯৭১ সালের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ শুনে বাঙালি জাতির শীতল রক্তে আগুন জ্বেলে দিয়েছিল। ২৪ বছরের দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য কৃষক লাঙ্গল জোয়াল ফেলে হাতে তুলে নিয়েছিল কাতুর্জ, ছাত্রের হাত থেকে খসে পড়েছিল কলম, উঠেছিল স্টেনগান। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের অন্য সকল অঞ্চলের মতো সাতক্ষীরাতেও ছিল স্বাধীনতার পক্ষে প্রাণ উৎসর্গ করতে ঝাঁপিয়ে পড়া এক ঝাঁক তরুণ।
তেমনিভাবে ১ লাখ ৬৫ হাজার বর্গ মাইলকে যারা শ্মশান বানাতে চেয়েছিল সেই জলপাই রঙের ভিনদেশি বাহিনীকে যারা সাহায্য করেছিল তাদের সংখ্যাও কম নয়। জেলার মাটি ও পথের সঙ্গে অপরিচিত পাকিস্তানি বাহিনীকে সব ধরনের সহযোগিতা করতেও গড়ে ওঠে দালালদের সমন্বয়ে রাজাকার-আলবদর-আল -শামস-শান্তি বাহিনী।
বিজয়ের এই ৪৫ বছরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধা যারা সরাসরি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে আমরা সাতক্ষীরায় সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার সঙ্গে জড়িত রাজাকারদের নৃশংসতার বিবরণ তুলে আনার চেষ্টা করেছি।
সারা দেশে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে এবং বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে তখন সাতক্ষীরার যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিচার প্রশ্নে রহস্যজনক  নীরব রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে বিবেচিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল।

মুক্তিযুদ্ধকালীন একটি দুর্লভ ছবি এই প্রতিবেদনের মূল উপজীব্য। ছবিটি ১৯ অগাস্ট সাতক্ষীরা শহরের তৎকালীন ডায়মন্ড হোটেলের পেছনে রান্নাঘরের সামনে রাজাকারদের উদ্যোগে তোলা। ছবিটির চিত্রগ্রাহক স্বাধীনতার পরপরই এটি মুক্তিযোদ্ধা ইমাম বারীকে প্রদান করেন। যা আজ একটি মহামূল্যবান দলিলে পরিণত হয়েছে।

এই ছবির ইতিহাস জানতে আমরা প্রথমেই কথা বলি সেই মহান মুক্তিযোদ্ধাদের একজনের সঙ্গে যাদের দলের ২ জনকে বুধহাটায় হত্যা করে বাকি ৫ জনকে রাজাকাররা আটক করে সাতক্ষীরায় এনে এই ছবিটি তুলেছিল।

এই ছবিতে থাকা (নিচে বসা বাম দিক থেকে প্রথম) ইমাম বারী সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়ার সন্তান। ১৯৭১ সালে যশোরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া অবস্থায় যুদ্ধে যোগ দেন। তিনি ছিলেন যুদ্ধকালীন গঠিত বাংলাদেশ নৌ-কমান্ডের প্রথম ব্যাচের যোদ্ধা। তিন মাসের ট্রেনিং শেষে তাদেরকে ৪টি গ্রুপে ভাগ করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য সাফল্য ‘অপারেশন জ্যাকপট’র জন্য পাঠানো হয়। মংলায় ৮টি জাহাজ বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার পর ইমাম বারী ও তার দল ফিরছিলেন সাতক্ষীরার দিকে। পথিমধ্যে ১৭ আগস্ট  ১৯৭১ ভোর রাতে বুধহাটা বেতনা নদীতে তাদের নৌকা ঘিরে ফেলে আলিপুরের কুখ্যাত রাজাকার বাকীর নেতৃত্বাধীন বাহিনী। নদীর দুই পাড় দিয়ে ক্রমান্বয়ে গুলি করতে থাকলে এক পর্যায়ে গুলি শেষ হয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধাদের। ফলে তাদেরকে আটক করতে সমর্থ হয়।

রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমাম বারী ৭১’ সালের সেই দুর্বিসহ স্মৃতি তুলে ধরেন বাংলা ট্রিউিবনের কাছে, প্রথমেই আব্দুল্লাহিল বাকী রাজাকার মুক্তিযোদ্ধাদের নৌকায় উঠেই কোন কথা বলার আগেই তার কাছে থাকা থ্রি নট থ্রি রাইফেল তাক করে ৬ জনের মধ্যে সবচেয়ে সুঠামদেহী মুক্তিযোদ্ধা যশোরে আফতাফকে সরাসরি বুকে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ আফতাফ আর্তনাদ করে নদীতে পড়ে ভেসে যায়। শহিদ আফতাফের লাশ আর পাওয়া যায়নি। এরপর আমাদের ৫ জনকে আব্দুল্লাহিল বাকীর দল চোখ বেঁধে নদীর পাড়ে একটি একতলা বাড়িতে আটকে রাখে। কয়েক ঘণ্টা ধরে আমাদের নিষ্ঠুর নির্যাতন চলতে থাকে। এরপর পলাশপোলের রোকনুজ্জামান খান এসে আমাদের দলের সিরাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করল বাড়ি কোথায়। সিরাজ মনে করল তাকে তো হত্যা করবেই, সুতরাং ভুল ঠিকানা বললে তার পরিবারের সদস্যদের হয়তো আর খুঁজে পাবে না। অত্যাচারও করতে পারবে না। সিরাজ তার বাড়ি সুলতানপুর বলে জানালো। কিন্তু রোকন খান শহরের ছেলে হওয়ায় তার প্রকৃত ঠিকানা জানতো। ভুল ঠিকানা বলায় সিরাজকে টানতে টানতে বাইরে নিয়ে গিয়ে বেড়িবাঁধের ওপর দাঁড় করিয়ে রাইফেল তুলে বুকে গুলি করলো রোকন খান। শহিদ হলেন সিরাজ।

এরপর রোকন একটি লাঠি দিয়ে আমার মাথায় বাড়ি মেরে বলল তুইও আছিস এই দলে, আগে জানলে তো তোকেই মেরে ফেলতাম। এরপর কীভাবে যেন সাতক্ষীরায় পাকিস্তানি মিলিটারির কাছে খবর যায় আমাদের আটক হওয়ার। ফলে আমাদেরকে একটি হলুদ রঙের গাড়িতে করে সাতক্ষীরা ডায়মন্ড হোটেলের টর্চার সেলে এনে আটকে রাখা হয়। পথিমধ্যে ধূলিহর থেকেও কয়েকজনকে তুলে আনা হয়। ডায়মন্ড (স্টার হোটেলও বলা হতো) হোটেলে আমাদেরকে পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। অনেককে ঘরে ঝুলানো হুকের সঙ্গে ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হতো। এই হোটেলের অনেকগুলো রুমে অসংখ্য যুবতী মেয়েকেও আটকে রাখা হয়েছিল। যাদেরকে নিয়মিত ধর্ষণ করত পাকিস্তানি সৈন্য ও রাজাকাররা। আমাদেরকে আনার ২ দিন পর ১৯ আগস্ট হোটেলের পেছনে রান্নাঘরের সামনে পায়ের কাছে বসিয়ে ছবিটি তোলা হয়। রাজাকাররা এলিট স্টুডিওর হামিদ ভাইকে ডেকে এনে ছবিটি তোলায়। আজ ছবিটি একটি দলিল।

তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে আটকে রাখাকালীন একদিন খালেক মণ্ডল ও টিক্কা (জহুরুল) এসে কয়েকজন আটক মুক্তিযোদ্ধাকে তুলে নিয়ে যায়। অন্য রাজাকাররা আমাদের জানায় তাদেরকে বিনেরপোতায় হত্যা করা হবে। এরপর একদিন আমাদেরকে যশোরে পাকিস্তানি বাহিনীর আস্তানায় পাঠানো হয়। যশোরের শংকরপুর যেখানে বর্তমানে বাসস্ট্যান্ড সেখানে আটকে রাখা হয়। সেখান থেকে একদিন ভোর বেলা যখন সৈনিকেরা প্যারেড করছিল তখন আমরা পালিয়ে আসি এবং পুনরায় যুদ্ধে যোগ দেই। সে আরেক ইতিহাস।’

গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা কামরুজ্জামান বাবু বলেন,‘পাকিস্তানিরা অন্ধকারকে ভয় পেতো। সোনা ভাই বললেন পাওয়ার হাউজ উড়িয়ে দিতে পারলে পাকিস্তানি সেনারা অসহায় হয়ে পড়বে। আমরা যথারীতি তাই করি সফলতার সঙ্গে। পাওয়ার হাউজ উড়িয়ে দেওয়ার সপ্তাহ খানেক পরেই সাতক্ষীরা ছেড়ে পালিয়ে যায় পাকসেনারা। আমরা যুদ্ধকালীন একাধিকবার খালেক মণ্ডল ও টিক্কা খান নামে কুখ্যাতি পাওয়া জহুরুল রাজাকারকে হত্যার জন্য অভিযান চালাই। কারণ বৈকারী-কাথণ্ডা অঞ্চল ও সাতক্ষীরা শহরে তারা অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল এবং অসংখ্য মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়া করেছিল। একদিন আমরা খবর পাই খালেক মণ্ডল তার বাড়িতে সকাল ৯/১০টার দিকে থাকবে। খবর পেয়ে আমরা তার বাড়ি ঘেরাও করি। ঘরের ভেতরে কাউকে না পেয়ে বিছানায় হাত দিয়ে দেখি বিছানা গরম, অর্থ কিছুক্ষণ আগেও সেখানে কেউ ছিল। আমরা কোথাও তাকে না পেয়ে ফিরে আসি। পরে জানতে পেরেছিলাম সে তার উঠানের একটি তালগাছে লাগানো বাঁশ বেয়ে উপরে লুকিয়ে ছিল। সেদিন যদি আমরা একবার আকাশের দিকে তাকাতাম শয়তানটা আর সাতক্ষীরাকে অশান্ত করার সুযোগ পেত না।’

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাসানুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সদ্য কৈশোর পেরোনো তরুণ হয়েও প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। প্রশিক্ষণ শেষে আমাকে ভাড়–খালীতে সামশু ঢালীর দলে পাঠানো হয়। আমাদের এই দলটি অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে কাজ করত। সীমান্তের এই অংশে পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল। তাদের সঙ্গে আমাদের প্রায়শই ছোট ছোট যুদ্ধ লেগে থাকত।’

তিনি বলেন,‘সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনের যে গণহত্যা পাকিস্তানি বাহিনী ঘটিয়েছিল তা সম্ভব হয়েছিল বাকী, খালেক মণ্ডল আর রোকন খানের মত রাজাকারদের সহযোগিতায়। পাকিস্তানিরা সাতক্ষীরার কোনকিছুই চিনত না। তাদেরকে এই গণহত্যায় প্ররোচিত করেছিল এই রাজাকাররা। এদের বিচার অবিলম্বে শুরু হওয়া উচিত। বাকী, রোকনকে বাদ দিয়ে সাতক্ষীরার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব নয়। আমাদের চরম দুঃখের বিষয় ৭ ডিসেম্বর আমরা বাকী-রোকনদের ধরার জন্য সবরকম চেষ্টা করেও তাদেরকে ধরতে পারিনি। তারা তখন আত্মগোপনে ছিল। এছাড়া তৎকালীন আমাদের কিছু সিনিয়র রাজনৈতিক নেতার কারণেও অনেক রাজাকারকে আটক করেও আবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। যা চরম ভুল ছিল। এরাই পরবর্তীতে সাতক্ষীরাকে মৌলবাদীদের ঘাঁটিতে পরিণত করেছিল।’

 কথা হয় সাতক্ষীরা শহরের পাওয়ার হাউজ উড়িয়ে দেওয়া বিখ্যাত অপারেশনের এক যোদ্ধা কামরুজ্জামান বাবুর সঙ্গে। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক সোনা’র নেতৃত্বে তারা সাতক্ষীরা পাওয়ার হাউজ উড়িয়ে দিয়ে সাতক্ষীরা ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন পাকিস্তানি বাহিনীকে।

স্বাধীনতাযুদ্ধের এতো বছর পরও এইসব বীরসেনানীদের জীবদ্দশায় যদি বাকী, রোকন, খালেক মণ্ডল (জামায়াতের সাবেক এমপি তিনি এখন যুদ্ধপরাধের মামলায় আটক) টিক্কাদের বিচার করা না যায়, তাহলে আর কাদের সাক্ষ্য নিয়ে তাদের বিচার করা যাবে- এমন প্রশ্ন মুক্তিযোদ্ধাদেরই। এদেরকে অবিলম্বে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনালের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

/বিটি/এমএসএম

কর্মস্থলে ফেরা হলো না ২ পোশাকশ্রমিকের

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ০১:২২

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পৃথক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পোশাকশ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

শনিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের উপজেলার ক্যাডেট কলেজ ও দেওহাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আদম আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামধনভূয়ামারি গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে গোলাম হোসেন (৪০) ও জেলার মধুপুর উপজেলার আকাশি গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা বেগম (২৮)। নিহত দুইজনই পোশাকশ্রমিক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গাইবান্ধা থেকে মোটরসাইকেলযোগে গোলাম হোসেন ঢাকায় নিজ কর্মস্থলে ফিরছিলেন। সন্ধ্যার দিকে মোটরসাইকেলটি মহাসড়কের উপজেলার ক্যাডেট কলেজ এলাকায় পৌঁছালে ঢাকাগামী একটি অজ্ঞাত গাড়ি এসে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের আরোহী গোলাম হোসেনের মারা যান।

এদিকে, সন্ধ্যায় পোশাকশ্রমিক নাজমা বেগম মোটরসাইকেলযোগে ঢাকায় নিজ কর্মস্থলে ফিরছিলেন। মোটরসাইকেলটি মহাসড়কের দেওহাটা এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত একটি গাড়ি এসে তাদেরকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী নাজমা ঘটনাস্থলে নিহত হন।

উভয় ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল চালক আহত হয়েছেন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ

শিবচরে ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ৪

শিবচরে ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ৪

১৬ দিন পর টাঙ্গাইল হাসপাতালের আইসিইউ চালু

১৬ দিন পর টাঙ্গাইল হাসপাতালের আইসিইউ চালু

শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ০০:৫০

করোনাভাইরাস রোধে দেশব্যাপী সরকার আরোপিত কঠোর লকডাউন চলছে। এছাড়া গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমতাবস্থায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের ভুইঘর এলাকার আলী আকবর একাডেমি নামে একটি স্কুল খোলা রেখে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার (৩১ জুলাই) স্কুলটিতে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে পরীক্ষা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পরীক্ষা চলাকালে স্কুলের সামনে উপস্থিত থাকা কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোরপূর্বক শিশুদের স্কুলে উপস্থিত রেখে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা নিয়েছে। করোনার কারণে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। অথচ সরকারি নির্দেশ অমান্য করে তারা বকেয়া বেতন ও পরীক্ষার ফি আদায়ের উদ্দেশে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক স্কুলে উপস্থিত করেছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, এই করোনাকালে আমরা খুব আর্থিক সংকটের মধ্যে আছি। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ তা না ভেবে আমাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বেতন, পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য ফি আদায় করে পরীক্ষা নিচ্ছে। তারা শিশুদের করোনা ঝুঁকির কথা ভাবেনি। স্কুল চালু রাখায় কোমলমতি শিশুরা করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন বলে জানান অভিভাবকরা। এতে তারা ক্ষোভও প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে আলী আকবর একাডেমির প্রধান শিক্ষক ও মালিক মো. অলিউল্ল্যাহ বলেন, ‘আমাদের স্কুলের সব শিক্ষকরা মিলে ২০ মার্কের একটি পরীক্ষা নিয়েছেন। এটা কোনও সেমিস্টার পরীক্ষা নয়।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা বলেন, ‘এ অবস্থায় সশরীরে শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিত করে পরীক্ষা, ক্লাস বা কোনও কিছুই নিতে পারবে না। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এফআর/

সম্পর্কিত

কর্মস্থলে ফেরা হলো না ২ পোশাকশ্রমিকের

কর্মস্থলে ফেরা হলো না ২ পোশাকশ্রমিকের

শিবচরে ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ৪

শিবচরে ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ৪

১৬ দিন পর টাঙ্গাইল হাসপাতালের আইসিইউ চালু

১৬ দিন পর টাঙ্গাইল হাসপাতালের আইসিইউ চালু

লকডাউনেও মহাসড়কে চলছে দূরপাল্লার বাস

লকডাউনেও মহাসড়কে চলছে দূরপাল্লার বাস

শিবচরে ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ৪

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ০০:৩১

মাদারীপুরের শিবচরে মালামাল ও যাত্রীবোঝাই ট্রাক উল্টে খাদে পড়ে চার জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও চার জন। শনিবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের শিবচরের আড়িয়াল খাঁ নদের টোল প্লাজার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি ট্রাক আড়িয়াল খাঁ নদের সেতুর টোল প্লাজার সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়।

এ সময় পলক কুমার নামে টোল প্লাজার এক কর্মচারীসহ ঘটনাস্থলে দুই জন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচ জনকে পাঁচ্চর রয়েল হাসপাতালে নিয়ে গেলে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হাইওয়ে দিয়ে দ্রুতগতিতে এসে টোল প্লাজার সামনে রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায় ট্রাকটি। ছাদ ঢালাইয়ের পাইপসহ অন্যান্য মালামাল ছিল ট্রাকে। মালামালের ওপর ২০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। তবে অন্যরা বড় ধরনের কোনও আঘাত পাননি।

শিবচর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বলেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুই জন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুই জন মারা যান। টোল প্লাজার কর্মী ছাড়া অন্যদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

/এএম/

সম্পর্কিত

কর্মস্থলে ফেরা হলো না ২ পোশাকশ্রমিকের

কর্মস্থলে ফেরা হলো না ২ পোশাকশ্রমিকের

শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ

১৬ দিন পর টাঙ্গাইল হাসপাতালের আইসিইউ চালু

১৬ দিন পর টাঙ্গাইল হাসপাতালের আইসিইউ চালু

১৬ দিন পর টাঙ্গাইল হাসপাতালের আইসিইউ চালু

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ০০:০৯

অগ্নিকাণ্ডের ১৬ দিন পর টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) আংশিকভাবে চালু করা হয়েছে। শনিবার (৩১ জুলাই) বিকালে আইসিইউর ১০ বেডের মধ্যে চার বেড চালু করা হয়। ইতোমধ্যে চারটি বেডেই রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের সূত্রপাত হয় হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা থেকে। ওই দিন ইউনিটের ১০টি বেডে থাকা রোগীদের তাড়াহুড়ো করে হাসপাতালের বাইরে রাখা হয়। অক্সিজেন সাপোর্ট না পেয়ে অনেকে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এ অবস্থায় একাধিক রোগীকে অন্যত্র রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা। এর মধ্যে ওই দিন বাইরে কয়েকজনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে জানায়, আইসিইউতে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা মেশিনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং নির্দেশনা অনুযায়ী মেশিন ব্যবহার না করার কারণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল। প্রতিবেদনে আটটি সুপারিশও করা হয়েছিল।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) শফিকুল ইসলাম সজিব বলেন, ‘আইসিইউর চারটি বেড চালু করা হয়েছে। বাকিগুলো চালু করতে একটু সময় লাগতে পারে।’

/এএম/

সম্পর্কিত

কর্মস্থলে ফেরা হলো না ২ পোশাকশ্রমিকের

কর্মস্থলে ফেরা হলো না ২ পোশাকশ্রমিকের

শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ

শিবচরে ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ৪

শিবচরে ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ৪

বাঁশের দোলনায় হাসপাতালে নেওয়া হলো অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ২৩:৫৮

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রসব যন্ত্রণায় কাতর এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে বাঁশের দোলনায় চড়িয়ে কাঁধে করে হাসপাতালে নিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। অসহায় স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের এমন চেষ্টায় তাকে নৌকায় তুললে সেখানেই সন্তান প্রসব করেন।

শনিবার (৩১ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।

গৃহবধূ কেয়া মনির শ্বশুর ইব্রাহিম হোসেন জানান, হাসপাতালে নিতে খোলপেটুয়া নদী পারে নৌকায় ওঠানো হলে সেখানে সন্তান প্রসব করে। এরপর তাদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুইজনই সুস্থ আছেন। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও কয়েক কিলোমিটার হেঁটে খেয়াঘাট পৌঁছে নদী পথ পাড়ি দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে ১০-১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের চন্ডিপুর গ্রামটি চারদিকে নদী বেষ্টিত। নেই ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা। পাওয়া যায় না চিকিৎসা সেবা। মাঝেমধ্যেই নদী পথে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আগেই ট্রলারে সন্তান জন্ম দেন অনেকে। অনেকে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে রক্তক্ষরণে মারাও যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩০ জুলাই) মধ্যরাতে প্রসব যন্ত্রণা ওঠে শ্যামনগর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের ইমরান হোসেনের স্ত্রী কেয়া মনির (২০)। দ্বীপ ইউনিয়ন হওয়ায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। এমনিতেই দুর্গম পথ। এরপর ছিল মুষলধারে বৃষ্টি। রাস্তাঘাট কাদা। কোথাও পানিতে টইটম্বুর। মোটরসাইকেলই একমাত্র যানবাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তা দিয়ে হাসপাতালে নেওয়াও সম্ভব না। এ অবস্থায় গ্রাম্য চিকিৎসক ও ধাত্রী দিয়ে স্বাভাবিক ডেলিভারির চেষ্টা করা হয় আজ বেলা ১২টা পর্যন্ত।

কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। উপায় না পেয়ে স্বামী-শ্বশুর মিলে বাঁশ দিয়ে দোলনা বানিয়ে কাঁধে ঝুলিয়ে কেয়া মনিকে নিয়ে রওনা হন হাসপাতালের উদ্দেশে। সঙ্গে ছিল ধাত্রীসহ অন্যান্য স্বজন। খেয়াঘাটে পৌঁছে নিজেদের ট্রলারেই রওনা হন নওয়াবেকী ঘাটের উদ্দেশে। এর মধ্যে দুপুর দেড়টার দিকে ট্রলারেই ফুটফুটে একটি সন্তান প্রসব করেন কেয়া মনি।

/এফআর/

সম্পর্কিত

কুষ্টিয়ার হাসপাতালে ১১টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা নষ্ট

কুষ্টিয়ার হাসপাতালে ১১টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা নষ্ট

পাবজি গেম খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে বন্ধুর বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

পাবজি গেম খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে বন্ধুর বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

খুলনায় ডুবে গেছে ৭৬৬৪ হেক্টর বীজতলা ও সবজি

খুলনায় ডুবে গেছে ৭৬৬৪ হেক্টর বীজতলা ও সবজি

সাতক্ষীরায় ডুবেছে ১৯ হাজার মাছের ঘের, ক্ষতি ৫৩ কোটি

সাতক্ষীরায় ডুবেছে ১৯ হাজার মাছের ঘের, ক্ষতি ৫৩ কোটি

সর্বশেষ

কেন বারবার একই ভুল

কেন বারবার একই ভুল

তুরস্কে দাবানলের তাণ্ডবে পুড়ে মরছে পশু-পাখি

তুরস্কে দাবানলের তাণ্ডবে পুড়ে মরছে পশু-পাখি

এখনও শেষ হয়নি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার

এখনও শেষ হয়নি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার

মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে মিয়ানমার জান্তা

মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে মিয়ানমার জান্তা

উচ্ছেদ হবেন লাখ লাখ মার্কিনি!

উচ্ছেদ হবেন লাখ লাখ মার্কিনি!

আগস্টের প্রথম প্রহরে শত আলো জ্বললো

আগস্টের প্রথম প্রহরে শত আলো জ্বললো

বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

‘দূরপাল্লার বাসে শ্রমিকরা আসতে চাইলে, সেই বাস পুলিশ ধরবে না’

‘দূরপাল্লার বাসে শ্রমিকরা আসতে চাইলে, সেই বাস পুলিশ ধরবে না’

কর্মস্থলে ফেরা হলো না ২ পোশাকশ্রমিকের

কর্মস্থলে ফেরা হলো না ২ পোশাকশ্রমিকের

ফের বাবা হচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ফের বাবা হচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

কারখানা খুলতে মানতে হবে ১৫ শর্ত

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune