X
সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৯ ভাদ্র ১৪২৮

সেকশনস

তনু ধর্ষণ-হত্যার বিচার চাইবো কেন?

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৬, ১৯:৩১

মোজাফ্ফর হোসেনকুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণ শেষে হত্যার ঘটনা নিয়ে সমগ্র দেশ এখন উত্তাল। জাত-ধর্ম-রাজনীতি সবরকমের ভেদাভেদ ভুলে একমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাইছে জনগণ। রাজপথে নেমে এসেছে দেশের লাখ লাখ জনতা। সর্বস্তরের মানুষ লংমার্চ-মানববন্ধনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলত শাস্তির দাবি নিয়ে। ফলে কিছুটা আড়ালে পড়ে গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা। এতবড় ঘটনার কোনও গ্রহণযোগ্য উত্তর উদ্ধার করতে পারেনি আমাদের ‘স্কিলড’ তদন্ত কমিটি! আন্দোলনের মুখে এগিয়ে যাচ্ছে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎপ্রকল্প। সেটি নিয়েও আমরা আপাতত ভাবছি না। যে বিষয়টি নিয়ে আমরা এখন ভাবছি, সেটি অতি মানবিক-মর্মস্পশী এবং আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন সেখানে জড়িয়ে, সে কারণে না ভেবে পারা যাচ্ছে না।
কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো তনুর ধর্ষণ এবং ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের জন্যে দেশবাসীর এভাবে মরিয়া হয়ে বিচার চাইতে হবে কেন? বাংলাদেশের আইনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ধারা ৯-তে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে:
ক. যদি কোনও পুরুষ কোনও নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।
খ. যদি কোনও ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা ওই ধর্ষণ-পরবর্তী তার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে ওই ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।
গ. যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোনও নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে ওই নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহলে ওই দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অতিরিক্ত এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন। [সূত্র: দৈনিক সমকাল]
অর্থাৎ একটা সচল ও গ্রহণযোগ্য আইন দেশে আছে আর সেটি কার্যকর করার জন্যে দেশে একটি ‘শক্তিশালী’ ও ‘দায়িত্বশীল’ প্রশাসন আছে। তাদের কাজই হলো- সকল দোষীকে ধরে এই আইনের আওতায় আনা। এজন্যে তাদের পেছনে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়। বলাই বাহুল্য সে সবই জনগণের অর্থ, দেশের সম্পদ। এখন আমার প্রশ্ন হলো, যেখানে ধর্ষণ ও খুন দুটিই আলাদা করে সর্বোচ্চ অপরাধের পর্যায়ে পড়ে, সেখানে তনুকে ধর্ষণ ও খুনের পেছনে দায়ী আসামীরা নিশ্চয় ছাড় পাওয়া কথা না। প্রশাসনও বলছে দ্রুত তাদের ধরে দৃষ্টান্তমূলত শাস্তির আওতায় আনা হবে। তারপরও মানুষ রাজপথে নেমে এই নির্মম ঘটনার পেছনে জড়িতদের বিচার চাইছে। দেশের আইন ও প্রশাসনের বক্তব্য জেনেও জনগণ এই গরমে কাজকাম ছেড়ে রাজপথে নামছে; কিন্তু কেন? তনু কি সকলের আত্মীয়, পরিচিত জন? নিশ্চয়ই না। তাহলে যারা নামছে তারা কি তনুকে ইস্যু করে এই সরকারের পতন চাইছে? আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে ‘মটিভেটেড’ হচ্ছে? তাও না। কারণ দৃশ্যত এই আন্দোলন এখন গণআন্দোলন। আওয়ামী লীগের বিবেকবান নেতা-সমর্থকরা এই আন্দোলনের সঙ্গে আছেন। তাছাড়া তনুর এই ঘটনা দিয়েই কেউ সরকারে চূড়ান্ত ব্যর্থতা-সফলতা নির্ণয় করতে যাচ্ছে না।

সকলে একাট্টা হয়ে এই ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার চাইছে কারণ জনগণ আমাদের আইনি প্রক্রিয়ার ফাঁকটা জেনে গেছে। তারা জানে, এর সঙ্গে রাজনৈতিক মহল জড়িত থাকলে এই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেবে। যেহেতু ঘটনাটি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ঘটেছে, ‘রক্ষক’র বুকের ভেতর ‘ভক্ষক’র কবলে পড়েছে তনু, তাই এটিকে দমিয়ে রাখার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। জনগণ এসবই জানে, তাই তারা দেশে আইন থাকলেও প্রশাসন থাকলেও, প্রশাসন প্রতিশ্রুতি দিলেও, ভরসা পাচ্ছে না। একটি দেশের জনগণ যখন ধর্ষণ এবং খুনের বিচার চেয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়, তখন সেই দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়া যে কোন পথে চলছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।   

জনগণের এই দাবিতে ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে কিনা কী জানি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন (২৭ মার্চ ২০১৬) কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বললেন, বাঙালিকে খুশি করা কষ্টকর। যত পায়, তত চায়। তিনি শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে কথাটা বললেও আমার মনে হচ্ছে একটা ইঙ্গিত এখানেও ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলছি, ইতিহাস কিন্তু উল্টো কথা বলে। অতি অল্পতে তুষ্ট থাকার জাতি হলো বাঙালি জাতি। এই জাতির চাওয়াটা খুব বড় কিছু না। তারা বলছে না, রাতারাতি দুর্নীতি দূর হোক, তারা দুর্নীতি পরায়ণ রাজনীতিবিদদের অপসারণের দাবিও তোলেনি। ঘুষ, অর্থ-কেলেঙ্কারি, চাঁদাবাজি এসব দেশে নিত্যদিনের ঘটনা। এসব নিয়েও কোনও উচ্চবাচ্য করছে না কেউ। তাদের এই মুহূর্তের দাবি তনুর ধর্ষণকারী ও হত্যাকারীদের সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার। তনুর এই ঘটনার পর দেশে আরও বেশ কয়েকজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। রাজশাহীতে বিয়ের প্রলোভনে এক কিশোরীকে কৌশলে হোটেলে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করেছে কথিত প্রেমিকসহ তার সঙ্গীরা। গাজীপুরে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর ফরেস্ট গেট এলাকায় অটোরিকশা যাত্রী চিকিৎসককে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছে। ফরিদপুরে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। কামরাঙ্গীরচরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণ করেছে জামাল উদ্দিন নামের এক বৃদ্ধ। বিয়ের প্রলোভনে গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুরে এক গৃহবধূকে গণ-ধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। ফেনীতে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পাওয়া গেছে। [তথ্যসূত্র: খবরের কাগজ]

এত এত ধর্ষণের ঘটনা। দেশবাসী কিন্তু সবগুলোর কথা তুলে আপনাকে বা আপনার প্রশাসনকে বিরক্ত করছে না। তারা তনুর জন্যে মাঠে নেমেছে। তনু এখন একটা প্রতীকী নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই একটি বিচার আপনি দ্রুত কার্যকর করে জনগণকে আশ্বস্ত করতে পারেন। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে ‘কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হয়ে আসতে পারে’ ভেবে পিছু হটার কোনও কারণ নেই।

আমরা বিশ্বাস করতে চাই, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণের অতি কাছের নেত্রী (তিনি নারী বলে, একজন মা বলে, ঘটনাটি বেশি গুরুত্ব পাবে, পুরুষ হলে পেতো না, এমনটি আমি ভাবতে চাই না)। সর্বোপরি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা। তার কাছে এই নির্মম ধর্ষণ ও খুনের বিচার চেয়ে কেন রাজপথে নামতে হবে? একাত্তরে একই অপরাধ সংগঠিত করার জন্য তো তিনি দেশে-বিদেশের নানা বাধা জটিলতা অতিক্রম করে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর করেছেন। তাহলে তার কাছে তনু হত্যার বিচার চেয়ে রাজপথে নামতে হবে কেন? তাছাড়া তিনি স্পষ্টভাবে বিএনপির চেয়ে নিজেকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে চান। ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট দিনাজপুরে পুলিশ কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়ে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করে ইয়াসমিন নামের এক কিশোরী। প্রতিবাদে আন্দোলনে ফেটে পড়ে সারা দেশ। পুলিশ ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ হয়ে জনতার আন্দোলনে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে আন্দোলনরত আরও ৭ জনকে শহীদ হতে হয়। এক ইয়াসমিনের হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে আরও সাতজনকে প্রাণ দিতে হয়। তবুও সরকার ও প্রশাসনের টনক নড়েনি। তখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল বিএনপি। দুইজন পাশবিক ধর্ষক ও নৃশংস নিষ্ঠুর খুনিকে বাঁচানোর জন্য সরকার অপরাধীর পক্ষ নিয়ে রাজনৈতিকভাবে কোনও সুফল পাইনি। এক্ষেত্রে তনু হত্যার উপযুক্ত ট্রিটমেন্ট করে বর্তমান সরকার কাজের মাধ্যমে বিএনপি থেকে নিজেদের আরও আলাদা করে চিহ্নিত করতে পারে। সেই সুযোগ আছে কিন্তু!

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক

সম্পর্কিত

তিন লেন সড়কের দুই লেনেই পার্কিং!

তিন লেন সড়কের দুই লেনেই পার্কিং!

উত্তরায় ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

উত্তরায় ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

‘শিক্ষার্থী বা পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে’

‘শিক্ষার্থী বা পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে’

কওমি মাদ্রাসা খুলেছে, চলবে ‘কোয়ারেন্টিন সেন্টারের’ আদলে

কওমি মাদ্রাসা খুলেছে, চলবে ‘কোয়ারেন্টিন সেন্টারের’ আদলে

তিন লেন সড়কের দুই লেনেই পার্কিং!

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০০

রাজধানীর কাটাবন থেকে সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত সড়কটির দুই পাশে তিনটি করে ছয়টি লেন। পরিবাগ মসজিদ থেকে বাংলামোটর লিংকরোড পর্যন্ত দুই পাশে দুটি করে চারটি লেন। কিন্তু দুটি সড়কের মাত্র একটি লেন দিয়েই যানবাহন চলতে পারে কোনোমতে। কখনও সেটাও আটকে যায়। স্থানয়ীরা বলছেন, রিকশাসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান অবৈধভাবে পার্কিং করে থাকে এ লেনে। দিনের বেলায় ওরা মালামালও ওঠা-নামা করায় বলে এমনটা ঘটছে। যে কারণে সড়ক দুটোতে যানবাহন পার হতে লেগে যায় এক দেড়-ঘণ্টা।

কর্মব্যস্ত দিনে সড়ক দুটোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে-সেখানে পার্কিং আর উল্টোপথে রিকশা চলাচলের কারণে ভয়াবহ যানজট। এ সময় আটকে থাকা গাড়িগুলোর মোড় পার হতে লেগেছে দেড় ঘণ্টার মতো।

রবিবার সকালে কাটাবন থেকে রিকশা নিয়ে কাওরানবাজার সার্ক ফোয়ারায় আসেন বেসরকরি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, একদিকে ছোট রাস্তা, অন্যদিকে অর্ধেকের বেশিজুড়ে পার্কিং। রিকশা দাঁড়িয়ে থাকে যেখানে-সেখানে।

আশপাশের বিভিন্ন দোকানের মালামাল লোড-আনলোড করতে গিয়ে ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যানগুলোও নিজেদের মতো পার্কিং করে রাখে।

রাসেল রহমান নামের এক পথচারী বলেন, বাংলামোটর লিংকরোড থেকে কাঁঠালবাগান আসতে রিকশায় উঠলাম। কিছু দূর যেতে না যেতেই বাধ্য হয়ে নেমে হাঁটা শুরু করি।

পরিবাগ মসজিদ থেকে বাংলামোটর লিংকরোড সড়কটির অবস্থাও একই। এখানে রিকশা ও কাভার্ড ভ্যান পার্কিং করা থাকে সবসময়ই। নামমাত্র ফুটপাত থাকলেও তা টাইলস ব্যবসায়ীদের দখলে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে মালামাল লোড-আনলোডের ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান। দিনের পুরো সময়ই সড়কটিতে যানজট লেগে থাকে।

জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল ১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মেরীনা নাজনীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এদের কেউ আইন বা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করে না। আমি ভ্যানচালক, দোকানিসহ এলাকার অনেককে বলেছি এভাবে পার্কিং করা যাবে না। কেউ কথা রাখে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু মাত্র লকডাউন শেষ হলো, আমরা নিয়মিত অভিযান আবারও শুরু করবো।  ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার সময় শর্ত দিয়ে দেবো। এখন জরিমানা আদায়ে আমাদের কিছুটা নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। কারণ লকডাউনে তারা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কাজে পুলিশের সহযোগিতাও পাই না। তারা নিয়মিত টহল দিলে যত্রতত্র যানবাহন রাখা সম্ভব হতো না।’

এদিকে বাংলামোটর থেকে মগবাজার রোডের দুই পাশেই সড়কে পার্কিং করে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি মেরামতের দোকান গড়ে উঠেছে। এসব সড়কে পার্কিং করেই ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল মেরামত করা হচ্ছে। ফ্লাইওভার ব্যবহারের সুবিধার কারণে সড়কটিতে যানবাহনের চাপ থাকে। যে কারণে যানজট এখানকারও নিত্যসঙ্গী।

রমনা ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জয়দেব চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মগবাজার থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত প্রতিনিয়ত রেকারিং করি। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা মগবাজার মোড় এবং বাংলামোটর মোড়ে থাকে। তারা আশপাশে নজর রাখে। মোবাইল টিমের মাধ্যমে অভিযানও চলে।’

মগবাজার বাংলামোটর এলাকায় গাড়ি রাস্তায় রেখে মেরামত করা হয়। এ বিষয়ে কী ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যবসা পরিচালনার জন্য সিটি করপোরেশন লাইসেন্স দেয়। এবিষয়ে সিটি করপোরেশনকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা শুধু আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।’

/এফএ/

সম্পর্কিত

উত্তরায় ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

উত্তরায় ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

ট্রেনে কাটা পড়ে, ধাক্কা খেয়ে দুজনের মৃত্যু

ট্রেনে কাটা পড়ে, ধাক্কা খেয়ে দুজনের মৃত্যু

পুলিশ সদর দফতরে দু'দিনব্যাপী অপরাধ পর্যালোচনা সভা শুরু

পুলিশ সদর দফতরে দু'দিনব্যাপী অপরাধ পর্যালোচনা সভা শুরু

রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় রিকশাচালকের মৃত্যু

রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় রিকশাচালকের মৃত্যু

উত্তরায় ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩৬

রাজধানীর উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে পড়ে পেটে রড ঢুকে মোহাম্মদ আলী (২০) নামের এক নির্মাণ এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় ওই সেক্টরের ১৯ নম্বর রোডের ২২ নম্বর বাসার নির্মাণাধীন ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের সহকর্মী মো. রাজিব জানান, মোহাম্মদ আলী পেশায় রাজমিস্ত্রি সহকারী। বিকালে নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় কাজ করার সময় উপর থেকে এক তালার ‘ফলস’ ছাদের উপর পড়ে যান তিনি। ছাদে কলামের রড থাকায় পেটে ঢুকে গুরুতর আহত হয়।

পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল পরে সেখান থেকে রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। উত্তরায় নির্মাণাধীন ভবনেই থাকতেন।

/এআরআর/এআইবি/ইউএস/

সম্পর্কিত

তিন লেন সড়কের দুই লেনেই পার্কিং!

তিন লেন সড়কের দুই লেনেই পার্কিং!

ট্রেনে কাটা পড়ে, ধাক্কা খেয়ে দুজনের মৃত্যু

ট্রেনে কাটা পড়ে, ধাক্কা খেয়ে দুজনের মৃত্যু

পুলিশ সদর দফতরে দু'দিনব্যাপী অপরাধ পর্যালোচনা সভা শুরু

পুলিশ সদর দফতরে দু'দিনব্যাপী অপরাধ পর্যালোচনা সভা শুরু

রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় রিকশাচালকের মৃত্যু

রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় রিকশাচালকের মৃত্যু

‘শিক্ষার্থী বা পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে’

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:২৮

কোনও শিক্ষার্থী বা তাদের পরিবারের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। রাতে একাত্তর জার্নালে যুক্ত হয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক. ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক এই তথ্য জানিয়েছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, করোনা শনাক্ত হলে শিক্ষার্থী স্কুলে যাবে না। এছাড়া উপসর্গ দেখা দিলে বা শিক্ষার্থীর পরিবারের কেউ করোনা আক্রান্ত হলে বা উপসর্গ দেখা দিলে ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাবে না। আর স্কুল কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়টি জানাতে হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ অধিদফতরকে জানালে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সংশ্লিষ্ট স্কুলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

৫৪৫ দিন পর স্কুল খোলার প্রথম দিনেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব মাস্ক ও স্যানিটাইজারের টাকার উৎস কী হবে জানতে চাইলে অধ্যাপক. ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, ‘যে স্কুলের শিক্ষার্থী সাত হাজার তাদের কাছে এই টাকার ব্যবস্থা করা কোনও সমস্যা নয়, বরং ছোট ছোট স্কুলেরও এই সামর্থ্য রয়েছে।’

ঝরে পড়ে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন কয়েক দিন পর এই বিষয়ে বোঝা যাবে। ১৫-২০ দিনের মধ্যেই বোঝা যাবে। সেই আলোকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

/জেজে/

সম্পর্কিত

কওমি মাদ্রাসা খুলেছে, চলবে ‘কোয়ারেন্টিন সেন্টারের’ আদলে

কওমি মাদ্রাসা খুলেছে, চলবে ‘কোয়ারেন্টিন সেন্টারের’ আদলে

আনন্দমুখর শিক্ষালয়, শ্রেণিপাঠ অব্যাহত রাখার আশা

আনন্দমুখর শিক্ষালয়, শ্রেণিপাঠ অব্যাহত রাখার আশা

উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইউজিসিতে কর্মরতদের সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান

উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইউজিসিতে কর্মরতদের সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান

প্রাথমিকে শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

প্রাথমিকে শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

কওমি মাদ্রাসা খুলেছে, চলবে ‘কোয়ারেন্টিন সেন্টারের’ আদলে

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:১৬

প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোও খুলেছে। রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসাগুলোতেও ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীদের সংখ্যাগত কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি তেমন পরিলক্ষিত হয়নি। তবে অন্তত এক বছর পর শিক্ষালয়ে ফিরে খুশি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীর বিভিন্ন মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিষ্ঠানগুলো আবাসিক হওয়ার কারণে অনেকটাই ‘কোয়ারেন্টিন সেন্টারের’ মতো পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীদের বাইরে যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত থাকায় মাদ্রাসার ভেতরে আলাদা করে মাস্ক বা অন্য কোনও বিধিনিষেধ মানার প্রয়োজনীয়তা শিথিল হচ্ছে।

এ বিষয়ে বেফাকের সহ-সভাপতি  ও সিলেটের গহরপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুসলেহউদ্দিন রাজু বলেন, ‘সারাদেশের সব মাদ্রাসা খুলেছে। সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস শুরু হয়েছে। ক্লাস শুরু হওয়ায় সবাই উৎফুল্ল।’

মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে ছাত্র-শিক্ষক উভয়ে অবস্থান করেন। শিক্ষকদের কেউ কেউ বাইরে থেকে এলেও এখন তারা মাদ্রাসায় অবস্থান করবেন। কেউ বাইরে থেকে এলেও যদি তারা অসুস্থ হন তাহলে আসবেন না।

জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম নতুনবাগ মাদ্রাসার হাদিসের শিক্ষক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী বলেন, মাদ্রাসায় বহিরাগতদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিষয়টা অনেকটা কোয়ারেন্টিন সেন্টারের মতো। কেউ বাইরে যাবে না, বাইরের কেউও ভেতরে আসবে না। জরুরি প্রয়োজনে কেউ বাইরে গেলেও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে যেতে বলা হয়েছে।’

বেফাকের সহ-সভাপতি মাওলানা মুসলেহউদ্দিন রাজু বলেন, ‘প্রায় এক বছর করোনার কারণে কওমি মাদ্রাসার ক্লাস বন্ধ ছিল। শিক্ষার্থীদের অনেকেই নিজ নিজ এলাকার মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে, যে কারণে অনেক মাদ্রাসায় চাপ কমেছে। আগে তো সিট পাওয়া যেতো না, এখন সিট ফাঁকা আছে। যদিও ঢাকার মাদ্রাসাগুলোতে একটু গাদাগাদি আছে।’

কোনও শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলে দ্রুত অভিভাবককে জানিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে বলেও জানান মাওলানা মুসলেহউদ্দীন রাজু।

প্রায় এক বছর পর ক্লাস শুরু হওয়ায় সিলেবাস কীভাবে শেষ করা হবে- এ প্রসঙ্গে খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম ও হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসা আবাসিক হওয়ায় দিনে-রাতে শিডিউল করে ক্লাস নেওয়া হবে। দ্রুত সিলেবাস শেষ করতে বাড়তি ক্লাস নেওয়া হবে।’

কওমি মাদ্রাসা খুলে দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটির আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদি শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বলেন, আমরা আশা করি করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসাগুলো সুন্দরভাবে তাদের দৈনন্দিন কাজ করবে।

রাজধানীর কয়েকটি মাদ্রাসায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগের মতোই মাদ্রাসায় অবস্থান করছেন শিক্ষার্থীরা। স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে বিশেষ কোনও বিধিনিষেধ নেই। বাইরে থেকে মাদ্রাসায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ  করা হয়েছে। তবে ছাত্রদের আগের মতো গাদাগাদি করে অবস্থান করতে দেয়নি কর্তৃপক্ষ। রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতেও রাজধানীর বিভিন্ন মাদ্রাসায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বিগত সময়ে গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করলেও এবার তা হচ্ছে না। অবকাঠামো সংকটের বাস্তবতা সামনে রেখে যতটুকু সম্ভব, দূরত্ব রক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

‘শিক্ষার্থী বা পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে’

‘শিক্ষার্থী বা পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে’

আনন্দমুখর শিক্ষালয়, শ্রেণিপাঠ অব্যাহত রাখার আশা

আনন্দমুখর শিক্ষালয়, শ্রেণিপাঠ অব্যাহত রাখার আশা

উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইউজিসিতে কর্মরতদের সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান

উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইউজিসিতে কর্মরতদের সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান

প্রাথমিকে শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

প্রাথমিকে শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

আনন্দমুখর শিক্ষালয়, শ্রেণিপাঠ অব্যাহত রাখার আশা

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:৫২

পৃথিবীজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বন্ধ হয়েছিল দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেড় বছর বন্ধ থেকে রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে খুলেছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এদিন সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা।

শহর থেকে গ্রাম, গঞ্জ থেকে পল্লী—করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ছেলেমেয়েদের এই ফেরা ছিল একেবারেই নতুনত্বে ঘেরা। পাঠ্য সামগ্রীর সঙ্গে মুখে মাস্ক, হাতে স্যানিটাইজার, আর সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করতে হয়েছে জোরালোভাবে।

শিক্ষাজীবনের ‘নিও নরমাল’ এই পরিস্থিতিতেও শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের সঙ্গে ক্লাসে ফেরার আনন্দ বিনিময় করেছে উল্লাসে। শিক্ষার্থীদের প্রিয়প্রাঙ্গণে ফেরার এই আনন্দ যেন ছুঁয়ে গেছে অভিভাবকদেরও। তবু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক তারা।

সরকারের পক্ষ থেকেও করোনা সংক্রমণ রোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিপাঠ অব্যাহত রাখা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে মানুষের সহযোগিতাও জরুরি বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীলরা। 

রবিবার স্কুল খুলবে—এমন খবর আগেই দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। খুশির এই খবরে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফেরার প্রস্তুতিও যেন পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। দেড় বছর বন্ধ থাকায় পরিবর্তন এসেছে ইউনিফর্মে, কেউ কেউ কিনেছে নতুন জুতো। আর শ্রেণিকক্ষে ফেরার এই আনন্দ শিক্ষকদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে কর্তৃপক্ষও। স্কুলে-স্কুলে ফুল, চকোলেট দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। রঙিন বেলুন আর সতেজ বাহারি ফুলে সেজেছে শ্রেণিকক্ষ আর বিদ্যাঙ্গন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, সোবহানবাগ, মিরপুর, ইস্কাটন, পুরান ঢাকার স্কুলগুলোতে সরেজমিন দেখা গেছে নানা চিত্র।

দেড় বছর পর সকালে প্রিয় প্রতিষ্ঠানে মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে কিংবা স্যানিটাইজার ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা পৌঁছে যান শ্রেণিকক্ষে। শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে শারীরিক দূরত্ব রেখে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ব্যস্ত ছিলেন শিক্ষকরা।

দেড় বছর ধরে অনলাইনে ক্লাস করে শিক্ষার্থীদের অনেকের জন্য সরাসরি প্রথম ক্লাস। অনেক প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে ক্ষণে ক্ষণেই শারীরিক দূরত্ব ভুলে যাচ্ছিল শিক্ষার্থীরা। দেড় বছর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রমে ফেরা শিক্ষার্থীদের অনেকেই সহপাঠীদের দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানের গেট পেরিয়েই নিয়মের বেড়াজাল ভুলে দৌড়ে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরেছে। আর এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেয়েছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন সকালে আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের এমন উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। এ সময় উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন খানিকটা থমকে গিয়ে সাংবাদিকদের জানালেন, ‘প্রথম দিন এমনটা ঠেকানো কঠিন। শিক্ষার্থীরা আবেগ ধরে রাখতে পারছে না।’

শিশু শিক্ষার্থীদের উচ্ছলতা ছিল নয়ন জুড়ানো। রবিবার রাজধানীর ইস্কাটনের টুইট টিউটোরিয়াল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী দেবলীনা দত্ত। দেড় বছর পর স্কুলে এসে দেবলীনা স্কুলের ছোট্ট একটু খোলা মাঠে চরকির মতো ঘুরলো। দুই হাত ছড়িয়ে ঘুরে ঘুরে বললো, ‘খুব মজা লাগছে, খুব ভালো লাগছে।’

‘করোনা মহামারিতে এই দীর্ঘ সময়ে বিশেষ করে ছোট্ট শিশুরা বাইরে বের হওয়ার তেমন কোনও সুযোগ পায়নি’- বলছিলেন রাজধানীর উত্তরার চার নম্বর সেক্টরে চাইল্ড হ্যাভেন স্কুলের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাদের ঘরের ভেতরেই বন্দি থাকতে হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর আজ স্কুল খোলায় শিক্ষক হিসেবে আমরা যেমন খুশি, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছিল উৎসব আনন্দের আমেজ।

সরেজমিন বিদ্যালয়গুলোর দৃশ্য বলছে, বিদ্যালয়ে ফিরে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস নিয়ে যতটা না আশঙ্কার, তার চেয়ে বেশি ‘ভয়ের’ কারণ ভাবা হচ্ছে অভিভাবকদের জটলায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দিয়ে অভিভাবকরা গেটের বাইরে জটলা করে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকছেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের গেটেও অভিভাবকদের জটলা প্রসঙ্গে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘অভিভাবকরা যদি বাইরে ভিড় করেন, তাহলে সমস্যার কারণ হবে। শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দিয়ে যদি চলে যেতে পারেন তাহলে ভালো। আর যদি চলে যেতে না পারেন, তাহলে স্বাস্থ্যবিধি যেন মেনে চলেন। যদি সংক্রমণ বাড়ে তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবারও বন্ধ করা হবে।’

এ সময় শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডেঙ্গু মশার বিষয়ে সচেতন থাকার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের করোনাভাইরাস বিস্তার রোধসহ ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান দীপু মনি।

উল্লেখ্য, স্কুল খোলার প্রথম দিনেই পরিদর্শনে গিয়ে আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে  একটি কক্ষ অপরিচ্ছন্ন দেখে অধ্যক্ষসহ মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা সবাইকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অধ্যক্ষের আর চাকরি রয়েছে ১৩ দিন। সে কারণে তাকে শোকজ করার নির্দেশ দিয়েছি।  শোকজের জবাব পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের যে কর্মকর্তা মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছি।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর জানায়, রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে প্রাথমিকের পঞ্চম ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিমূলক ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। এক শিফটের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা চলে শ্রেণি কার্যক্রম।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রুটিন অনুযায়ী অন্যান্য ক্লাসের শিক্ষার্থীরাও প্রতিষ্ঠানে আসেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

করোনাকালেই রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক আমেনা বেগম। যোগদানের পর এখনও শ্রেণিকক্ষে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাননি তিনি। দীর্ঘদিন পরে হলেও কলেজ খোলার বিষয়ে তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। দীর্ঘদিন পর কলেজ খুলেছে, আমরা শিক্ষার্থীদের দেখেছি, ক্লাস নিয়েছি। এ এক অন্যরকম আনন্দ।

দেড় বছর শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ফিরে আসার পর এই যাত্রা যেন সুন্দরভাবে অব্যাহত থাকে, সে জন্য মানুষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে শিক্ষা-উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণের যেন না বাড়ে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এই বিবেচনা রেখে সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন, এই অনুরোধ করবো।’

/এসটিএস/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

‘শিক্ষার্থী বা পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে’

‘শিক্ষার্থী বা পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে’

কওমি মাদ্রাসা খুলেছে, চলবে ‘কোয়ারেন্টিন সেন্টারের’ আদলে

কওমি মাদ্রাসা খুলেছে, চলবে ‘কোয়ারেন্টিন সেন্টারের’ আদলে

উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইউজিসিতে কর্মরতদের সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান

উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইউজিসিতে কর্মরতদের সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান

প্রাথমিকে শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

প্রাথমিকে শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

তিন লেন সড়কের দুই লেনেই পার্কিং!

তিন লেন সড়কের দুই লেনেই পার্কিং!

উত্তরায় ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

উত্তরায় ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

‘শিক্ষার্থী বা পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে’

‘শিক্ষার্থী বা পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে’

কওমি মাদ্রাসা খুলেছে, চলবে ‘কোয়ারেন্টিন সেন্টারের’ আদলে

কওমি মাদ্রাসা খুলেছে, চলবে ‘কোয়ারেন্টিন সেন্টারের’ আদলে

আনন্দমুখর শিক্ষালয়, শ্রেণিপাঠ অব্যাহত রাখার আশা

আনন্দমুখর শিক্ষালয়, শ্রেণিপাঠ অব্যাহত রাখার আশা

কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে মামলার এজাহার গ্রহণ

কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে মামলার এজাহার গ্রহণ

ট্রেনে কাটা পড়ে, ধাক্কা খেয়ে দুজনের মৃত্যু

ট্রেনে কাটা পড়ে, ধাক্কা খেয়ে দুজনের মৃত্যু

উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইউজিসিতে কর্মরতদের সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান

উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইউজিসিতে কর্মরতদের সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান

সাভারে বিএনসিসির 'আমিই বঙ্গবন্ধু’র প্রদর্শনী

সাভারে বিএনসিসির 'আমিই বঙ্গবন্ধু’র প্রদর্শনী

প্রাথমিকে শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

প্রাথমিকে শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

সর্বশেষ

এক জেলায় নেই ৩৮৩ চিকিৎসক-নার্স, ভোগান্তিতে রোগীরা

এক জেলায় নেই ৩৮৩ চিকিৎসক-নার্স, ভোগান্তিতে রোগীরা

চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন শনাক্তের দিনে ৬ মৃত্যু

চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন শনাক্তের দিনে ৬ মৃত্যু

স্পেনে দাবানলে বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ, আগুন নিয়ন্ত্রণে নেমেছে সেনা

দাবানলে পুড়ছে স্পেন

এলপিজির দাম নির্ধারণে গণশুনানি আজ

এলপিজির দাম নির্ধারণে গণশুনানি আজ

‘নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা হচ্ছে’  

‘নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা হচ্ছে’  

© 2021 Bangla Tribune