টি-টোয়েন্টির দুনিয়ায় ডেভিড ওয়াইস পরিচিত নাম। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে প্রায় সবখানেই তার বিচরণ। দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে তার মাঠ মাতানোর স্মৃতি এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে টাটকা থাকার কথা। সেই ওয়াইসই এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছেন নামিবিয়ার জার্সিতে। নিজের অভিজ্ঞতা ও বড় মঞ্চে পারফর্ম করার সামর্থ্য খুব ভালোভাবেই দেখালেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ওয়াইস। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই নেদারল্যান্ডসকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে নামিবিয়া।
আজ (বুধবার) আবুধাবিতে ‘এ’ গ্রুপের লড়াইয়ে বড় সংগ্রহই দাঁড় করিয়েছিল ডাচরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে স্কোরে জমা করে ১৬৪ রান। কঠিন এই লক্ষ্য ওয়াইসের হার না মানা হাফসেঞ্চুরিতে ৪ উইকেট হারিয়ে এক ওভার আগেই টপকে যায় নামিবিয়া। এই জয়ে সুপার টুয়েলভের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো নামিবিয়া। অন্যদিকে টানা দুই হারে শেষ হয়ে গেলো নেদারল্যান্ডসের স্বপ্ন।
ওয়াইসের বাবার জন্ম নামিবিয়ায়। বাবার সূত্রেই আফ্রিকার দেশটির হয়ে খেলার অনুমতি মিলেছে তার। অদ্ভুত বিষয় হলো, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তিনি খেলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে, আর এবারের আসরে নেমেছেন নাবিবিয়ার হয়ে। দুই বিশ্বকাপে দুই দলের হয়ে পারফর্ম!
কলপ্যাক চুক্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকা অধ্যায় ২০১৭ সালেই বন্ধ করে দিয়েছেন। নতুন দেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে নেমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তার। একটা সময় যখন হার চোখ রাঙাচ্ছিল নাবিবিয়াকে, সেই জায়গা থেকে ৪০ বলে অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংস খেলে ওয়াইস নিশ্চিত করেন জয়। কৃতিত্ব পাবেন জেজে স্মিত। ৮ বলে তিনি অপরাজিত ছিলেন ১৪ রানে।
শেষ ১০ ওভারে জিততে নাবিবিয়ার দরকার ছিল ১০০ রান। কঠিন সমীকরণ হলেও এক ওভার আগেই জিতে গেছে আফ্রিকার দেশটি। ওয়াইস তার ইনিংসটি সাজান ৪ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায়। অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস ২২ বলে করেন ৩২ রান।
নেদারল্যান্ডসের চার বোলার- ফ্রেড ক্লাসেন, কলিন অ্যাকারমান, টিম ফন ডের গাগটেন ও পিটার সিলার প্রত্যেকে নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু পায় নেদারল্যান্ডস। স্টেফান মাইবার্গ ১৬ বলে ১৭ রানে আউট হলেও আরেক ওপেনার ম্যাক্স ও’ডউড ৫৬ বলে খেলেন ৭০ রানের কার্যকারি ইনিংস। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন কলিন অ্যাকারমান। আর শেষ দিকে স্কট এডওয়ার্ড ১১ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ২১ রান করলে ডাচদের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৬৪।
নামিবিয়ার সবচেয়ে সফল বোলার ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক। ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে তার শিকার ২ উইকেট। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা ওয়াইস ৪ ওভারে ৩২ রানে নেন ১ উইকেট।