স্থানীয় সরকার নির্বাচন: কোন কৌশলে এগোতে চায় বিএনপি? 

মহসীন কবির
১৬ জুন ২০২৬, ২৩:৫৯ আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ২৩:৫৯

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এ তথ্য জানান বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে নির্বাচনের সুস্পষ্ট তারিখ ঘোষণার আগে থেকেই নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতারা। ইতোমধ্যে ভোটারদের দোয়া চেয়ে ব্যানার-ফেস্টুন পোস্টারে ছেয়ে গেছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকা। তৃণমূলে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন নেতারা। একই এলাকায় রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক নেতা। সবাই নিজস্ব অবস্থান থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

জানা গেছে, নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থী বাছাইয়ে নানা কৌশল অবলম্বন করবে বিএনপি। ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্রীয় সংগঠন। নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কাউকে কোনও ধরনের অন্যায় হস্তক্ষেপের সুযোগ দেওয়া হবে না। অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ক্লিন ইমেজধারীদের। পরিস্থিতি অনুযায়ী যুগপতের শরিকদেরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে।

তবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হবে কিনা, সেটিও খোলাসা করেননি ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

অবশেষে সম্ভাব্য রোডম্যাপ

তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের চার মাসের মাথায় দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে। তখন বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে—আসলে কী স্থানীয় নির্বাচন হবে? নাকি প্রশাসক দিয়ে বাকি মেয়াদ শেষ করা হবে? এ নিয়ে সব মহল থেকেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে অবশেষে নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে মুখ খোলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানান তিনি। বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি

এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিধিমালা পাস হলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ যেকোনও দলের কর্মী-সমর্থকরা অংশ নিতে পারবেন বলে জানা গেছে।

আলোচনা আছে, তাহলে কি আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনও বাধা নেই? এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন এক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির কথা বললেও বিএনপির দলগত সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

গত ১০ জুন এই বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, কোনও দল বাদ দেওয়ার মতো কোনও বিধান আচরণবিধিতে রাখা হয়নি। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য যে কেউ অংশ নিতে পারবেন। এ বিষয়ে গত ১৫ জুন জাতীয় সংসদে বিএনপি বা সরকারের মনোভাব জানতে চান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে আমি আশ্বস্ত করতে পারি যে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা যে সিদ্ধান্তে একমত হয়েছি, সেই সিদ্ধান্তে যথাযসময়ে নির্বাচন করতে পারবো। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা, প্রশ্নের উত্তর তিনি পাশ কাটিয়ে যান।

ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি, গুডবুকে কারা?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি চেয়ারপারসনের এক উপদেষ্টা বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন তারা। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন। আবার প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের প্রার্থীরাও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেন, তা মাথায় রেখেই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ নিয়ে অচিরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। সব বিষয়ে খোঁজ রাখছেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরইমধ্যে অতীতের পরিক্ষিত নেতারা রয়েছেন দলের গুডবুকে।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়ে। ইতোমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে যোগ্য প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’’ তিনি বলেন, ‘‘দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকে।’’ বলেন, ‘‘দলের নিবেদিতপ্রাণ ও ক্লিন ইমেজের নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিএনপি যেহেতু বড় দল, তাই একেকটি এলাকায় একাধিক প্রার্থী থাকেন। তাদের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, সে কৌশল নিয়েও কাজ করছেন শীর্ষ নেতারা।’’

সবার চোখ ঢাকার দুই সিটিতে

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সারা দেশেই সরব ক্ষমতাসীন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের প্রার্থী হচ্ছেন কারা?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরইমধ্যে তার পক্ষে নগরীতে ব্যাপক পোস্টারিং হয়েছে। আরও আলোচনায় আছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, অবিভক্ত ঢাকা সিটির সাবেক মেয়র ছাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটিতে এবারও আলোচনায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন তিনি। আরও রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। তবে এর বাইরেও বিকল্প প্রার্থী থাকতে পারে বলে জানা গেছে।

সিটিতে বড় পদে শরিকদের ছাড়ের সম্ভাবনা কম

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয়তেও যুগপতের শরিকদের গুরুত্ব দিতে চায় দলটি। তবে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে জোট সঙ্গীদের ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। উপজেলা, পৌরসভা ও ইউপিতে প্রার্থীর অবস্থান অনুযায়ী শরিকদের ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘জনবান্ধব ও ত্যাগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কোনও বিতর্কিতদের সুযোগ দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে যোগ্যতাকেই মাপকাঠি হিসেবে দেখা হবে। তিনি বলেন, যুগপতের শরিকরা যদি কোনও জায়গায় যোগ্য হয়, সেটা পরিস্থিতি অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে। আর দলের নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে কৃত্রিম পা পেলেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা সাইফুল
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি: ইশরাক
সর্বশেষ খবর
প্রথমবার কালো ধান চাষে চমক, বিঘায় আয় ৭২ হাজার টাকা
প্রথমবার কালো ধান চাষে চমক, বিঘায় আয় ৭২ হাজার টাকা
ওপেন-জ: ভ্রমণের এই রহস্যময় কৌশল জানেন কি?
ওপেন-জ: ভ্রমণের এই রহস্যময় কৌশল জানেন কি?
নতুন ফোন বা হার্ডড্রাইভে পুরো স্টোরেজ ব্যবহার করা যায় না কেন?
নতুন ফোন বা হার্ডড্রাইভে পুরো স্টোরেজ ব্যবহার করা যায় না কেন?
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যাবেন রাজশাহী-চট্টগ্রামেও
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যাবেন রাজশাহী-চট্টগ্রামেও
সর্বাধিক পঠিত
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
চট্টগ্রামে জন্ম, ঢাকায় বসবাস-এমপি হতে ঠাকুরগাঁওয়ে আলীম নিজামী
চট্টগ্রামে জন্ম, ঢাকায় বসবাস-এমপি হতে ঠাকুরগাঁওয়ে আলীম নিজামী
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
ইউএনওর সরকারি গাড়ি নিয়ে ভাড়া বাসায়, তিন নারীসহ আটক চালক
ইউএনওর সরকারি গাড়ি নিয়ে ভাড়া বাসায়, তিন নারীসহ আটক চালক