জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে স্পষ্ট বার্তা ছাত্রশক্তির

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪:১৪ আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪:২৭

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে কোনও নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বয়ানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সার্বজনীন স্মৃতিশালা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি।

রবিবার (৯ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এক সার্বজনীন মহাজাগরণ। এই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরটি বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের নির্যাতন, নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের দলিলের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের সার্বজনীন স্মৃতি সংরক্ষণ করবে, এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল।

তবে বর্তমানে জাদুঘরটি একটি নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসের দিকে ধাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আবু বাকের মজুমদার অভিযোগ করেন, জাদুঘরে আগে স্থান পাওয়া ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং মোদি-বিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন বর্তমান বিএনপি সরকার ভারতকে খুশি করার উদ্দেশ্যে সরিয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর উল্লেখযোগ্য স্মৃতিও জাদুঘরে যথাযথভাবে স্থান পায়নি বলে দাবি করেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, জাদুঘরে মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক ঘটনাবলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং তাদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতিও এই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাশাপাশি জেন-জি প্রজন্মকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করা বিভিন্ন কর্মসূচি ও স্লোগানের অভিনব নামকরণও জাদুঘরে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সার্বিকভাবে বর্তমান জাদুঘর জুলাইয়ের প্রকৃত ও গণ-ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না।

তিনি অবিলম্বে জাদুঘরটিকে কোনও সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের নির্যাতন-নিপীড়নের প্রকৃত দলিল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের অংশগ্রহণ, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ করে জাদুঘরটিকে একটি সার্বজনীন স্মৃতিশালা হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি জানান।

/এমকে/আইএএম/
সম্পর্কিত
জুলাই আন্দোলনে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার তিন মামলায় হাসিনাসহ ১১৬ জন অভিযুক্ত
মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যা সাবেক এমপি হাবিবসহ ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
‘নীল সুনামিতে’ ট্রাম্প ও ইসরায়েলের শঙ্কা দেখছে ইসরায়েলি মিডিয়া
‘নীল সুনামিতে’ ট্রাম্প ও ইসরায়েলের শঙ্কা দেখছে ইসরায়েলি মিডিয়া
ঢাকায় পাকিস্তানের সঙ্গে জার্সি বদল, এমনকি জড়িয়ে ধরতেও রাজি ভারত
ঢাকায় পাকিস্তানের সঙ্গে জার্সি বদল, এমনকি জড়িয়ে ধরতেও রাজি ভারত
টেস্ট ‘নেগেটিভ’ আসার পরও কি ডেঙ্গু হতে পারে?
টেস্ট ‘নেগেটিভ’ আসার পরও কি ডেঙ্গু হতে পারে?
ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা, দেওয়া হলো কারাদণ্ড
ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা, দেওয়া হলো কারাদণ্ড
সর্বাধিক পঠিত
নতুন দায়িত্বে ইশরাক হোসেন
নতুন দায়িত্বে ইশরাক হোসেন
‘আমি গরিবের ছেলে, লোভ সামলাতে পারিনি’, জবানবন্দিতে ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদ
চাঁদাবাজির মামলায় চার্জশিট দাখিল ‘আমি গরিবের ছেলে, লোভ সামলাতে পারিনি’, জবানবন্দিতে ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদ
যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে কী করতে হবে, জনগণকে জানিয়ে দিলো ইরান
যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে কী করতে হবে, জনগণকে জানিয়ে দিলো ইরান
বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে যা বললো ভারত
বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে যা বললো ভারত
ধানক্ষেতে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় সেখানেই স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা
ধানক্ষেতে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় সেখানেই স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা