হরমুজ প্রণালি দিয়ে নতুন নৌপথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান। তবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার আগে ক্ষতিপূরণ প্রদান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সামরিক হুমকি বন্ধসহ আরও কিছু শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে পূরণ করতে হবে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর পথ তৈরি করতে পারে—এমন একটি চুক্তিতে ইরান ও ওমান পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর আগে তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ছিল এই প্রণালি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রবিবার বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে। তবে শনিবার দেওয়া বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, তেহরানের নির্ধারিত কিছু দাবি যুক্তরাষ্ট্র পূরণ না করা পর্যন্ত ইরান এই জলপথ পুনরায় খুলবে না।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র শর্তগুলো পূরণ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পর কোন কোন নতুন নৌপথ ব্যবহার করা হবে, তা ওমানের সঙ্গে চুক্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না বলেও জানান আরাগচি। তিনি বলেন, জুনে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি ওয়াশিংটন লঙ্ঘন না করা পর্যন্ত তেহরান সরাসরি আলোচনায় বসবে না। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে কেবল আংশিকভাবে আলোচনা করছি। আমরা শুধু ইরানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি—দেশটিতে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি এবং অর্থের ঘাটতি রয়েছে।’
ক্ষতিপূরণসহ যেসব শর্ত দিয়েছে ইরান
আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি আংশিকভাবে নির্ভর করবে ইরানের ওপর ব্যাপক হামলার কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দেয় কি না, তার ওপর।
ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সচিব মোহাম্মাদ বাকার জোলকাদর আরও কয়েকটি শর্তের কথা জানিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হুমকি বন্ধ করা; ইরান এবং লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা দেশটির মিত্রদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ করা; উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা; ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড় করে দেওয়া।
পাঁচ মাসেরও বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা শুরু করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে এবং আঞ্চলিকভাবে হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে জুলাইয়ে উপসাগরে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আবারও অবরোধ আরোপ করে। তেহরান তখন বলেছিল, এই পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে অবশ্য যুদ্ধবিরতিটি ইতোমধ্যেই ভেঙে পড়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স









