সপ্তাহখানেকের মধ্যেই গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, আশা রিজভীর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৫ আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৯

সপ্তাহখানেকের মধ্যেই গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “সব ধরনের সংকট মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।” 

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। 

রিজভী বলেন, “দেশে চলমান বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতি একটি বৈশ্বিক সংকট। তবে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই।” 

সরকার এবং দল হিসবে বিএনপি একে অপরের সহযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হচ্ছে।” দ্রুত সব ধরনের সংকটের সমাধান হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। 

রিজভী আরও বলেন, “দেশে বহু দলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। আন্দোলন ও সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া বহু নির্যাতন সহ্য করেছেন। তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তিনি গণতন্ত্রের মা, গণতন্ত্রের প্রতীক। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাই আজ সুসংগঠিত। তিনি তার অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন। সংকট আসবেই, তবে তা মোকাবিলা করতে হবে।” 

তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সেই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে খালেদা জিয়া তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম একপর্যায়ে প্রবল গণআন্দোলনে রূপ নেয়।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “তারেক রহমান জনগণের কাছে যে অঙ্গীকারগুলো করেছেন, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছেন। ফ্যামিলি কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জনগণের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে।” 

তিনি বলেন, “জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে নির্ধারিত বাজেটের পাশাপাশি বিপুল অর্থ ব্যয় করে গ্যাস সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহেশখালীতে থাকা টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছে। সেই ত্রুটি সমাধানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এসব সংকট মোকাবিলা করেই দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত থাকবে।”

রিজভী বলেন, “গণতান্ত্রিক চেতনা, জনগণের সামাজিক সুরক্ষা এবং দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের যে অঙ্গীকার ৩১ দফায় দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনি ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং বেগম খালেদা জিয়া যে কর্মসূচি দিয়ে গেছেন, সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এসব কর্মসূচি আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।” 

তিনি বলেন, “দল ও সরকার দুটি আলাদা সত্তা হলেও তারা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে। তাই সরকারের দায়িত্বে থাকা অধিকাংশ ব্যক্তি বিএনপির নেতা হওয়াটাই স্বাভাবিক। জনগণ যখন একটি দলকে ভোট দিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তখন সেই দলের যোগ্য নেতাকর্মীরাই রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবেন।”

তিনি বলেন, “তৃণমূলের সদস্য থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা সরকারের জনকল্যাণমূলক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করবেন। এতে দল ও সরকারের মধ্যে কোনও অসঙ্গতি বা বৈসাদৃশ্য নেই। বিএনপির সামনে এখন প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা। যারা দলে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন, তারা দলের দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে সরকারের যেসব মন্ত্রী বিএনপির নেতা, তারাও মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি দলের ওপর অর্পিত দায়িত্ব তাদের পদ ও সাংগঠনিক অবস্থান অনুযায়ী পালন করবেন। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনও সুযোগ নেই।”

তিনি বলেন, “সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে সততার সঙ্গে জনগণের জন্য কাজ করা। জনগণের স্বার্থে আন্তরিকভাবে কাজ করতে গেলে সংকট আসতে পারে। কিন্তু সেই সংকট যদি সরকার বা দলের নিজেদের তৈরি না হয়, তাহলে জনগণ তা বুঝতে পারে এবং মেনে নেয়।জনগণ মূলত দেখতে চায়, সংকটের সময় সরকার কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করছে। বর্তমান সরকার সেই আন্তরিকতার চরম নিদর্শন দেখাচ্ছে। তাই জনগণের স্বার্থে পরিচালিত এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার জনকল্যাণের পথ থেকে বিচ্যুত হবে না।” 

/এমকে/এসটি/ 
সম্পর্কিত
‘অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে হিন্দুরা এখন বেশি সুখে-শান্তিতে আছেন’
মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিলেন ৬৭ জন
জুয়া বন্ধের ঘোষণা দেওয়া বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার
সর্বশেষ খবর
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে হতাহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক 
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে হতাহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক 
মারধরের পর গুলি করে যুবদল কর্মীকে হত্যা; আরেকজন আইসিইউতে
মারধরের পর গুলি করে যুবদল কর্মীকে হত্যা; আরেকজন আইসিইউতে
বিশ্বব্যাংকের দাতা হলো মঙ্গোলিয়া, দিচ্ছে ১৩ লাখ ডলার
বিশ্বব্যাংকের দাতা হলো মঙ্গোলিয়া, দিচ্ছে ১৩ লাখ ডলার
ফ্লোটিলা কর্মীদের যৌন নিপীড়ন: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
ফ্লোটিলা কর্মীদের যৌন নিপীড়ন: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
সর্বাধিক পঠিত
মৃত্যুর ৪ দিন পর দাফন, নাসিমা খানের জানাজায় ছিলেন না বড় কোনও তারকা
মৃত্যুর ৪ দিন পর দাফন, নাসিমা খানের জানাজায় ছিলেন না বড় কোনও তারকা
সরকারি মাঠ দখলের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে, বললেন ‘এখন আমাদের সময়’
সরকারি মাঠ দখলের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে, বললেন ‘এখন আমাদের সময়’
পঞ্চগড়ের কোথায় দাঁড়ালে দেখা মিলবে কাঞ্চনজঙ্ঘার?
পঞ্চগড়ের কোথায় দাঁড়ালে দেখা মিলবে কাঞ্চনজঙ্ঘার?
শনিবার জবিতে আবারও গরুভোজের আয়োজন, থাকছে কাওয়ালি সন্ধ্যা
শনিবার জবিতে আবারও গরুভোজের আয়োজন, থাকছে কাওয়ালি সন্ধ্যা
বিএসএফের ধরে নিয়ে যাওয়া ২ পুলিশ সদস্য কেমন আছেন, জানালেন বিজিবি পরিচালক 
বিএসএফের ধরে নিয়ে যাওয়া ২ পুলিশ সদস্য কেমন আছেন, জানালেন বিজিবি পরিচালক