বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮’-এর (কেবিসি ১৮) মঞ্চে এবার এলেন জুয়াড়ি দুর্গা প্রসাদ সাহি। একই সঙ্গে তিনি ছত্তিশগড়ের দুর্গের একজন শিক্ষক ও কৃষক। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রচারিত পর্বে হটসিটে বসেন তিনি।
অনুষ্ঠানে দুর্গা প্রসাদ জানান, জুয়া খেলতে গিয়ে তার প্রায় ১০ লাখ রুপির ঋণ হয়েছিল। কেবিসি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে সেই ঋণ শোধ করতে চান তিনি।
এ সময় দুর্গা প্রসাদ ১২ লাখ ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেন। এরপর ২৫ লাখ রুপির প্রশ্নে এসে থেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
২৫ লাখ রুপির প্রশ্নটি ছিল—নিচের কোন সরীসৃপের অধিকাংশ প্রজাতি ডিম পাড়ার পরিবর্তে সরাসরি জীবন্ত বাচ্চা প্রসব করে? সঠিক উত্তর জানা না থাকায় দুর্গা প্রসাদ খেলা ছেড়ে ১২ লাখ ৫০ হাজার রুপি নিয়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর অমিতাভ বচ্চন তাকে উত্তর অনুমান করতে বললে তিনি ‘ঘড়িয়াল’ বলেন। তবে তার উত্তরটি ভুল ছিল। সঠিক উত্তর অ্যানাকোন্ডা।
কেবিসির মঞ্চে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথাও জানান দুর্গা প্রসাদ। তার কথায়, একসময় ক্রিকেটের স্কোর অনুমান করতে তার ভালো লাগতো। ধীরে ধীরে সেটি বাজি ধরার অভ্যাসে পরিণত হয় এবং একপর্যায়ে জুয়ার নেশায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।
প্রথম দিকে বন্ধুদের সঙ্গে মাত্র ১০-২০ রুপি করে বাজি ধরতেন। পরে ঋণ করে বড় অঙ্কের টাকা, এমনকি ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত ধার করতে শুরু করেন। আগের ঋণ শোধ করতে নতুন করে টাকা ধার নেওয়ায় তার ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়তে থাকে। একসময় ১০ রুপি থেকে তার সেই ঋণ ১০ লাখ রুপিতে পৌঁছে যায়।
তবে ২০২০ সালে নিজের জীবনে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেন দুর্গা প্রসাদ। পরিবার ও বন্ধুদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে জুয়ার চক্র থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন তিনি। কেবিসিতে পাওয়া অর্থ দিয়ে পুরোনো ঋণ শোধ করার ইচ্ছার কথা জানান তিনি।
১২ লাখ ৫০ হাজার রুপি জেতার পর অমিতাভ বচ্চন তাকে বলেন, ‘এবার এই টাকা দিয়ে আর বাজি ধরবেন না।’
জবাবে দুর্গা প্রসাদ আশ্বস্ত করেন, জুয়ার সেই অধ্যায় তিনি পেছনে ফেলে এসেছেন।

জুলাই আন্দোলনে রাজপথে ছাত্রদের পক্ষে সেদিন কী বলেছিলেন বাঁধন






