গত ৭ সেপ্টেম্বর ইতালির মেস্ত্রে এলাকার একটি পার্কে দুষ্কৃতকারীদের হাতে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার বিকালে (১৪ সেপ্টেম্বর) এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। তিনি জানান, ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা ইতালি পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে।
এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ইতালি থেকে দেশে ফেরেন বাঁধন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, হেনস্তার ঘটনার পর তিনি সিনেমার টিম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলা ট্রিবিউনকে বাঁধন বলেন, ‘যেখানে সবাই ঘটনার পর আমার পাশে দাঁড়িয়েছে সেখানে টিম থেকে আমাকে আলাদা করে দেওয়া হয়। ঐ ঘটনার পর আমাকে প্রযোজক ও পরিচালক বলে দিয়েছেন, আমি কোথাও যেন সিনেমার কোনও কিছু প্রকাশ না করি। এরপর আমি সিনেমার আর কোনও প্রমোশন করতে পারিনি।’
গত ৪ সেপ্টেম্বর ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতেই ইতালিতে যান ‘রেহনা মরিয়ম নূর’খ্যাত নায়িকা।
হেনস্তা পর প্রযোজক ও পরিচালক থেকে কেন প্রচারণায় নিষেধ ছিল? এ বিষয়ে অভিনেত্রীর জবাব, ‘আমি তার কারণ জানি না। এর কারণ প্রযোজক ও পরিচালক সঠিকভাবে বলতে পারবেন।’
এদিকে দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে বাঁধন ইতালিতে মামলা করেছেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি মামলা করেন বলে জানান।
এ মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইতালির প্রশাসন মামলাটি নিয়ে দারুণভাবে কাজ করছে। ঘটনার পর সেখানে ইতালির পুলিশের কাছ থেকে নিরাপত্তাও পেয়েছি। আশা করছি খুব শিগগির আরও ভালো কিছু আমরা শুনবো। বাংলাদেশ সরকারকে আমি ধন্যবাদ জানাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় দূতাবাস থেকে আমি সব ধরনের সাপোর্ট পেয়েছি।’
বাঁধনকে যারা হেনস্তা করেছেন তাদেরকে নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘তাদের বোঝা উচিত ছিল সেখানে আমি কেন গিয়েছি। আমি কোনও ব্যক্তিগত ট্যুর বা রাজনৈতিক কাজে সেখানে যাইনি। বাংলাদেশের সিনেমার প্রতিনিধি হয়েই সেখানে আমার যাওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরমধ্যে দিয়ে সারা বিশ্বের মানুষ দেখেছে স্বৈরাচার সরকারের নেতা-কর্মীরা কতটা জঘন্য হতে পারেন। এছাড়া বিদেশিরা হয়তো ভাববে আমরা জাতিগত ভাবেই সারাক্ষণ মারামারি করে থাকি। প্রবাসী ভাইদের যারা এই আক্রমণ করেছেন, তারা নিজেরা নিজেদের বিপদ ডেকে নিয়েছেন। তাদের এই বর্বরতা বন্ধ করতে হবে।’
প্রবাসে স্বৈরাচার সরকারের লোকজন যারা আছেন তাদের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, ‘আপনারা এই দলকে ভালোবাসতে পারেন, সাপোর্ট করতে পারেন, কিন্ত দলকানা হবেন না। আজকে আপনার যদি বিচার হয় তাহলে আপনার পরিবার ভোগান্তিতে পড়বে। বড় বড় নেতাদের মতো আপনাদের জীবন না।’
এই অভিনেত্রী দেশে ফিরে গণমাধ্যমের সঙ্গে নিষিদ্ধ কার্যক্রম আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের কার্যক্রম হয়তো সাময়িক বন্ধ আছে। কিন্তু ভবিষ্যতে আপনারা রাজনীতি করবেন। আপনারা কীভাবে রাজনীতি করবেন এসব ঘটনার মধ্যে দিয়ে সেটার একটা রূপরেখা তৈরি করছেন। ভবিষ্যতে লজ্জিত হতে হবে এমন রূপরেখা তৈরি করেন না।’
এদিকে খুব শিগগির শুটিংয়ে ব্যস্ত হবেন বাঁধন। তার হাতে বর্তমানে আছে মোহাম্মদ ইকবাল পরিচালিত ‘গুলশানের চামেলি’ শিরোনামের সিনেমাটি। এই চলচ্চিত্রে তাকে একজন আইনজীবীর চরিত্রে দেখা যাবে।
'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমার সাফল্যের পর তিনি নতুন এই ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া আগামী বছর সরকারি অনুদানের দুটি সিনেমাতেও কাজ করবেন তিনি। শুটিং শুরু করেই বাঁধন সিনেমা দুটি নিয়ে কথা বলবেন জানান।

‘বিগ বস’ প্রতিযোগী কাজিকে ‘ভারতের মাইকেল জ্যাকসন’ বলেছিলেন অরিজিৎ






