দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় আদালতে হাজিরা শেষে কারাগারে ফেরত নেওয়ার সময় জং ধরা হ্যান্ডকাফে হাত রক্তাক্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে দুদকের করা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং মামলায় হাজিরা দেন পলক।
এ দিন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে দুদক প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আগামী ২৩ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন আদালত।
হাজিরা শেষে আদালতের হাজতখানা থেকে প্রিজনভ্যানে করে কারাগারে নেওয়ার সময় পলক দুই হাত উঁচিয়ে দেখিয়ে বলেন, ‘জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত।’ এ সময় তিনি ভি চিহ্ন দেখান।
পরে তার আইনজীবী তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পলক কারাগারে রয়েছেন। বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে এবং নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন আইনজীবী।
তিনি বলেন, ‘জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত’ এ কথা বলে পলক বোঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বিত ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, জুনাইদ আহমেদ পলক অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ আট কোটি ৭৩ লাখ ৪৭ হাজার ৪২ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রেখেছেন।
এছাড়া নিজের নামে থাকা ২৫টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩২ কোটি চার লাখ ৯৫ হাজার ৩১৪ টাকা জমা এবং ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৫ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এসব লেনদেনের মাধ্যমে ঘুষ ও দুর্নীতির অর্থ মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে, সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট পলককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলাসহ একাধিক মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।