চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের গাড়িতে কোনও আসামি বা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা উঠেছেন— এমন প্রচার প্রত্যাখ্যান করে ডা. শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বলেন, ‘আমি যখন গাড়িতে উঠি, সেখানে সিসিটিভি আছে। আমি লুকিয়ে গাড়িতে উঠিনি, সবার সামনে উঠেছি। কোনও সাংবাদিক যদি প্রমাণ দিতে পারেন আমার গাড়িতে এসে কেউ উঠেছে বা বেরিয়ে গেছে, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো।’
বুধবার (৭ অক্টোবর) নগরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাঁ রূপসা বেকারি এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণে ক্রাশ প্রোগ্রামে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র কার্যালয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা অবস্থান করছেন এমন গোপন তথ্য পেয়ে সেখানে যায় খুলশী থানা পুলিশ। প্রথমে পুলিশ নগর ভবন ঘিরে ফেলে। পরে বগাকে গ্রেফতারে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে।
এ সময় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পুলিশকে বাধা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার ফয়সাল আহমেদ উপস্থিত হন। পরে মেয়রের হস্তক্ষেপে পুলিশ অভিযান বন্ধ করে ফিরে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বগা চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
চলতি বছরের জুনে একটি সরকারি জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রকাশ্যে গোলাগুলিতে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এরপর ৮ জুন তাকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এ নিয়ে মেয়র বলেন, ‘ওয়াকিল নিজে আমার কাছে আসেননি; তার দুই ভাই অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। ওয়াকিল যদি নিচে এসে থাকেন, সেটি পুলিশের দায়িত্বের বিষয়। এ ঘটনার পেছনে পরিকল্পিতভাবে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করার চেষ্টা থাকতে পারে। আমার মনে হচ্ছে, এটা পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। সামনে নির্বাচন। আমার যে ভালো ইমেজ আছে, সেটাকে নষ্ট করার জন্য এটা করা হচ্ছে।’
মেয়র বলেন, ‘ওয়াকিলের দুই ভাই আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। তারা বলেছেন, কামরুলকে মেরে জোরপূর্বক ওয়াকিলের নাম বলানো হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।’
মেয়র শাহাদাত বলেন, ‘ওসি আবদুর রহিম আওয়ামী লীগের সময়ে বাকলিয়া থানার ওসি ছিলেন। আওয়ামী লীগের সময়ে তিনি একটি থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, থানার একজন ওসি হিসেবে তিনি কীভাবে এখন দায়িত্ব পান?’
অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘খুলশী থানায় যোগ দেওয়ার পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিতভাবে গ্রেফতার অভিযান হয়নি। সম্প্রতি হৃদয় নামে এক তরুণের হত্যা মামলায় কামরুলকে গ্রেফতারের পর তাকে মারধর করে ওয়াকিল ও তার ভাইদের নাম বলতে বাধ্য করা হয়েছে।’
খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমের বিষয়ে মেয়র শাহাদাত বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাকলিয়া থানার ওসি থাকা অবস্থায় আবদুর রহিম বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে হয়রানি করেছেন। এখন আমরা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের ধরতে চাইছি। এখানে যে ওসি আওয়ামী লীগের সময়ে ওসিগিরি করেছেন, তিনি কেন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের ধরবেন? তিনি তো আওয়ামী লীগ করে এসেছেন।’