মিরপুর-১০-সহ রাজধানীর সব জায়গায় ফুটপাত যেকোনও মূল্যে দখলমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেন, জনগণের হাঁটার পথ নিয়ে কোনও টালবাহানা চলবে না। কেউ দখল করার চেষ্টা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে জুলাই গ্রাফিতি রিমেক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, অটোরিকশা আন্দোলনের নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী ও নেতাদের সেদিন দেখা গিয়েছিল। বাংলাদেশে একজন মানুষও নেই অটোরিকশার পক্ষে রাস্তায় গিয়ে আন্দোলন করবে। সেদিন কারা ছিল? বড় বড় দাড়ি, মাথায় টুপি, পাশে তীর চিহ্ন দেওয়া। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কিন্তু ইতোমধ্যে বের হয়ে গেছে। আমরা আশা করবো এই জায়গা থেকে আপনারা বেরিয়ে আসবেন। একটা বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক, তিনি বললেন অটোরিকশাওয়ালাদের যে দাবি, সেটা সরকারকে মানা উচিত। এটা একটা হাস্যকর বক্তব্য। পরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে ওই নেতার নাকি ৭০০ অটোরিকশা আছে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি এভাবে জনগণের কাছে খোলস বদলিয়ে বারবার পার পাওয়া যাবে না। নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট বেঁচেছিলেন। আমার প্রিয় সরল-সোজা মা বোনদের ভুল বুঝিয়েছিলেন। এখন আর সেই সুযোগটুকু হয়তোবা আর সামনের দিকে আপনারা পাবেন না। তাই সঠিক পথে, গণতন্ত্রের পথে, জনগণের কাতারে আসুন। আমরা চাই আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন। ইনশাআল্লাহ সবাইকে নিয়ে কাজ করবো।
বিশেষ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গ্রাফিতি অঙ্কন প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, ‘৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেট্রোরেলের পিলার থেকে পোস্টার সরিয়ে গ্রাফিতি অঙ্কন করা হচ্ছে। এখানে কোনও রাজনীতিকরণ হবে না, যারা দেশে আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছে তাদের গ্রাফিতিতে রাখা হবে।
তিনি বলেন, আসুন আজকে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি। সরকার যে ভালো কাজগুলো করছে, সিটি কর্পোরেশন যে ভালো কাজগুলো করছে; সেই কাজগুলোর পাশে আপনারা দয়া করে থাকবেন। সমালোচনা হবে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এখন একটু বেশি গণতন্ত্র হয়ে গেছে। আমরা কথা দিয়েছিলাম বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পূর্ণ গণতন্ত্র, স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দেওয়া হবে। তার মানে এই নয় যা ইচ্ছা তাই করবেন।