X
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

বিয়ের পাত্রী হিসেবে চীনে পাচার হচ্ছেন ভিয়েতনামের নারী

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৬, ১৫:০৩

‘আমি জানতাম না, যেখানে আমার ঘুম ভেঙ্গেছে সেই জায়গাটা চীন।’ লেন(ছদ্মনাম) নামের এক ভিয়েতনামি নারী এভাবেই সেই রাতের বর্ণনা দেন যে রাতে তার জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন লেন। সে সময় অনলাইনে পরিচয় হওয়া এক বন্ধুর আমন্ত্রণে অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে নৈশভোজে যোগ দিয়ে লেন পাচার হয়ে যান চীনে।

‘আমি ছাড়াও সেখানে আরও তিনটি মেয়ে ছিল। আমাদের পাহারা দিয়ে রাখার জন্যও লোক ছিল যেন আমরা কেউ পালিয়ে যেতে না পারি।’  বলেন লেন।

ওইখানে থেকেই লেন জানতে পারেন তাকে চীনে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। ভিয়েতনাম-চীন সীমান্তের কাছের গ্রামগুলো ভিয়েতনাম থেকে নারী পাচারের এক একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। এখান থেকে এমনকি ১৩ বছরের মেয়েদেরও কৌশলে অথবা জোরপূর্বক চীনে পাচার করে দেওয়া হয়। পাচারের জন্য ব্যবহৃত হয় নৌকা, মোটরবাইক অথবা গাড়ি। চীনে ভিয়েতনামের মেয়েদের ব্যাপক চাহিদা। কেননা চীনে এক সন্তান নীতি ও পুত্র সন্তানের চাহিদা নারী-পুরুষের আনুপাতিক হার বদলে দিয়েছে। এক পর্যায়ে দেশটিতে নারীর সংখ্যা কমে যায়। সহজভাবে বললে, চীনা পুরুষরা বিয়ের কনের জন্য বুভুক্ষ হয়ে থাকেন।

আরও পড়ুনঃ কলকাতায় নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, অভিযোগ গ্রহণে পুলিশের গাফিলতি 

ভিয়েতনামে জাতিসংঘের পাচার-বিরোধী বিভাগের সমন্বয়ক হা থি ভ্যান খান বলেন, ‘সাধারণ একজন চীনা পুরুষের চীনা একজন নারীকে বিয়ে করতে হলে, বেশ বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। স্ত্রীকে উপহারসামগ্রী ছাড়াও বিয়ের পর বসত করার জন্য একটি বাড়ি কিনে দেওয়া চীনের ঐতিহ্যের মধ্যে পড়ে। ফলে তারা পাশের দেশ থেকে কম খরচে বউ পেতে চায়।

ভিয়েতনামের পাচার বিরোধী সংস্থা প্যাসিফিক লিঙ্কস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা দিপ ভং জানান, ৩ হাজার টাকায় ভিয়েতনামের মেয়ে কিনে ফেলা যায়, চীনের সঙ্গে ভিয়েতনামের সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যও চীনা পুরুষদের ভিয়েতনামের মেয়েদের প্রতি আকৃষ্ট করে।

আরও পড়ুনঃ ভারতে গোপন শিশুসদন, অনাকাঙ্ক্ষিত শিশুর বাজার

নগুয়েনকে(ছদ্মনাম) যখন তার প্রেমিক ভিয়েতনাম থেকে পাচার করে চীনে বিক্রি করে দেয়, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৬। প্রথমদিকে জোরপূর্বক এই বিবাহ মেনে নেননি তিনি। বিদ্রোহ করলে তাকে শারীরিক আঘাত, খাদ্যপানীয় থেকে বঞ্চিত করা, এমনকি হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়। নগুয়েন এখন ধাতস্থ হয়ে গেছেন। তার স্বামীও পরের দিকে তার প্রতি সহৃদয় ব্যবহার করতেন কিন্তু ভিয়েতনামে ফেলে আসা পরিবারের জন্য সবসময়ই তার মন কাঁদতো।

আশ্রয়কেন্দ্রে উদ্ধারকৃত ভিয়েতনামের নারী

দ্য প্যাসিফিক লিঙ্কস ফাউন্ডেশন এই পাচারকৃত মেয়েদের জন্য লাও চাই অঞ্চলে একটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করে থাকে।সেখানে তাদের শিক্ষা, নানা রকম প্রশিক্ষণ, আর্ট থেরাপি, বাগান করা ইত্যাদির ব্যবস্থা রয়েছে। একই রকম তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে আসা এই নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করে এই ফাউন্ডেশন।

পাচার-বিরোধী প্রচারণা চলছে স্থানীয় বাজারে

এ ছাড়াও ভিয়েতনামের মেয়েদের পাচারকারীর কবল থেকে বাঁচানোর জন্য প্রচারণাও চালায় এই সংগঠন। মাসে একদিন আশ্রয়কেন্দ্রের মেয়েরা বাক হা নামের একটি স্থানীয় বাজারে যায়, সেখানে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

দিপ বলেন, ‘আমি মনে করি, সচেতনতাই পাচার ঠেকানোর একমাত্র উপায়।’

ভিয়েতনাম পুলিশ অনেক সময়ই চীনা পুলিশের সহায়তায় পাচার প্রতিরোধে কাজ করে। ভিয়েতনাম সরকারের সোশ্যাল ভাইস প্রিভেনশন ডিপার্টমেন্টের প্রধান নগুয়েন টুওং লং জানান, গত বছর মোট ১১৯ জন পাচারকৃত মেয়েকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

তিনি জানান, ভিয়েতনাম ও চীনের পুলিশ মিলে একটি পাচারকারী চক্রকেও ধরতে পেরেছিলো। তারা ভিয়েতনামের মেয়েদের নিয়ে চীনের বেশ্যাপল্লীতে বিক্রি করে দিতো, সেখানে ওই মেয়েদের জোরপূর্বক যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করানো হতো।

লেন এবং নগুয়েনের পরিচয় হয় চীনের একটি শহরে। সেখানেই তারা মিলিত চেষ্টায় পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। তারা জানান, স্কুলে পড়ার সময় শিক্ষকরা অনেক সময় তাদের নারী পাচার সম্পর্কে সাবধানবাণী শুনিয়েছিলেন। কিন্তু তারা কেউই বিশ্বাস করেননি এমনটা তাদের জীবনেও ঘটতে পারে।

 

সূত্র: সিএনএন

/ইউআর/     

সম্পর্কিত

চীনা বিলিয়নিয়ারের লোকসান ২৭০০ কোটি ডলার

চীনা বিলিয়নিয়ারের লোকসান ২৭০০ কোটি ডলার

সম্পর্কের উন্নতি চাইলে সীমান্তের সেনা প্রত্যাহার করুন: চীনকে ভারত

সম্পর্কের উন্নতি চাইলে সীমান্তের সেনা প্রত্যাহার করুন: চীনকে ভারত

শেষ হলো চীনের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি মানুষবাহী মহাকাশ মিশন

পৃথিবীতে ফিরলেন তিন চীনা নভোচারী

অবস্থান জোরালো করতে বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় চীন

অবস্থান জোরালো করতে বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় চীন

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে:  ফ্রান্স

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১৪

নতুন নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেয়ান উভস লে ড্রাইয়ান। এটি প্যারিসকে তার রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহারে প্ররোচিত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।  তিনি বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে দেশ দুটি দ্বিচারিতা, বিশ্বাস ভঙ্গ এবং ঘৃণা উসকে দিয়েছে।’ শনিবার ফ্রান্সের দুটি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।  

এইউকেইউএস নামে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ওই চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলিয়া প্রযুক্তি সরবরাহের বিপরীতে পরমাণু-সমৃদ্ধ সাবমেরিন আমদানি করবে।

এই পদক্ষেপের ফলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ফ্রান্সের বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে। যেখানে যুক্তরাজ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ত্রিদেশীয় এই চুক্তিকে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের প্রভাব মোকাবিলার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   

লে ড্রাইয়ান বলেন, `এর  মধ্য দিয়ে মিত্রদের মধ্যে গুরুতর সংকট তৈরি হলো।’

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সের সম্পর্কের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা আমাদের রাষ্ট্রদূতদের পরামর্শের জন্য প্রত্যাহার করছি। এটি একটি গুরুতর রাজনৈতিক কাজ। এটা দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের মাত্রা চিহ্নিত করে।’ রাষ্ট্রদূতদের ‘পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের’ জন্য তলব করা হচ্ছে বলেও জানান ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই পুরো বিষয়ে ব্রিটেন কিছুটা তৃতীয় চাকার মতো।’ 

এর আগে মিত্র দেশের কাছ থেকে এমন চুক্তি অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ত্রিদেশীয় পারমাণবিক সাবমেনি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্যারিসের পিঠে ছুরিকাঘাত করেছেন।’

গত বুধবার অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভাগাভাগি করে চীনকে মোকাবিলায় বিশেষ নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ত্রিদেশীয় চুক্তির ফলে ফ্রান্সের কাছ থেকে আর সাবমেরিন নেবে না ক্যানবেরা। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয় ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রশাসন।

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

ক্যাপিটল প্রাঙ্গণে ট্রাম সমর্থকদের মিছিল

ক্যাপিটল প্রাঙ্গণে ট্রাম সমর্থকদের মিছিল

পুতিনের সঙ্গে বসছেন এরদোয়ান

পুতিনের সঙ্গে বসছেন এরদোয়ান

অস্ট্রেলিয়া বড় ধরনের ভুল করেছে: ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়া বড় ধরনের ভুল করেছে: ফ্রান্স

ক্যাপিটল প্রাঙ্গণে ট্রাম সমর্থকদের মিছিল

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০৪

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল বা ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ের সামনে মিছিল নিয়ে জড়ো হয়েছেন ট্রাম্প সমর্থকরা। নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় মেনে নিতে না পেরে গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলাকারীদের সমর্থনে শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সেখানে জড়ো হন তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা সংখ্যায় ছিলেন ১০০ থেকে ২০০ জন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কাঁধে ডানপন্থী-গোষ্ঠী থ্রি পার্সেন্টার্সের পতাকা বহন করছিলেন। গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে যে হাজার হাজার মানুষ হামলা করেছিল তাদের তুলনায় এ সংখ্যা নিতান্তই কম।

শতশত কর্মকর্তা ক্যাপিটল গ্রাউন্ডে টেহল দিচ্ছেন। পুনরায় হামলার আশঙ্কায় হামলার প্রথম হামলার ছয় মাসের মাথায় আট ফুট উঁচু বেষ্টনি দেওয়া হয়েছে ভবনের চারপাশ দিয়ে। এছাড়া ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীর সদস্যও মোতায়েন রয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, ক্যাপিটল হিলের মামলার ঘটনা সাজানো। সেদিন সেখানে সংহিংসতা হয়নি। যাদের আটক করা হয়েছে তারা মূলত রাজনৈতিক বন্দি। ম্যাট ব্র্যেনার্ড নামে একজন আন্দোলনকারী জানান, তাদের এ মিছিল ন্যায় বিচারের জন্য।

মিছিলে জনসমাগম কম হলেও মাঝে মাঝে জোরে স্লোগান হচ্ছিল। মিছিলকারীদের সঙ্গে বিরোধীরা তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি সামলাতে বাইসাইকেলে টহল দিচ্ছিল পুলিশ। এ সময় পুলিশ অস্ত্রসহ একজনসহ মোট চার জনকে আটক করে।

নির্বাচনে পরাজিত হয়ে উগ্রবাদী সমর্থকদের ৬ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে জড়ো করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন চলাকালে ক্যাপিটল হিলে হামলা চালান উগ্রবাদীরা। ভাইস প্রেসিডেন্ট, স্পিকারসহ অন্য আইনপ্রণেতাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন তারা । এলোপাতাড়ি হামলায় একজন পুলিশ সদস্যসহ পাঁচ জন নিহত হন।

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে:  ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে:  ফ্রান্স

সবচেয়ে সাদা রঙ আবিষ্কার, হবে এসির বিকল্প!

সবচেয়ে সাদা রঙ আবিষ্কার, হবে এসির বিকল্প!

করোনা পরিস্থিতিতে নিউ ইয়র্কে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা

করোনা পরিস্থিতিতে নিউ ইয়র্কে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা

৬৫ ঊর্ধ্বদের বুস্টার ডোজের সুপারিশ এফডিএ’র

৬৫ ঊর্ধ্বদের বুস্টার ডোজের সুপারিশ এফডিএ’র

‘শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’   

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৫৬

কাবুলে মার্কিন ড্রোন হামলায় শিশুসহ ১০ বেসামরিক নগরিক নিহতের কথা স্বীকার করে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে নিহতদের স্বজন ও আহতরা বলছেন, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু ‘দুঃখ প্রকাশ’ বা ‘ক্ষমা চাইলেই’ হবে না, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

গত ২৯ আগস্ট চালানো ওই ড্রোন হামলায় আইম্যাল আমাদি তার তিন বছরের কন্যাকে হারান। শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘এই হামলা কারা চালিয়েছে তা ওয়াশিংটনের তদন্ত করা উচিত এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

‘আমি পরিবরে ১০ সদস্যকে হারিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য সংস্থার কাছে ন্যায় বিচার চাই। আমরা নিরীহ, আমাদের তো কোনও ভুল ছিল না’, বলেন আইম্যাল আমাদি।

আলজাজিরার ওসামা বিন জাভাইদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি খেলনাসহ শিশুদের স্মৃতিচিহ্ন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা আমাদের জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চান। তারা হতাহতদের জন্য ন্যায় বিচার চেয়েছেন এবং সম্ভব হলে তারা আফগানিস্তান ছাড়তে চান।’

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তদন্তে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-কের হামলাকারীর গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় এক ত্রাণ সহায়তা কর্মীসহ তার পরিবারের ৯ সদস্য প্রাণ হারান। এর মধ্যে ৭ শিশু ছিল।

এর আগে ২৬ আগস্ট কাবুল বিমানবন্দর দিয়ে যখন উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল তখন আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় আফগান আইএস। এতে ১৭০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। এর মধ্যে ১৩ মার্কিন সেনা রয়েছে। এরপরই হামলাকারীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন অভিযান পরিচালনায় বেসামরিক মানুষ নিহত হন।

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

আফগান মেয়েদের স্কুল থেকে বাদ দেওয়া উচিত না: ইউনিসেফ

আফগান মেয়েদের স্কুল থেকে বাদ দেওয়া উচিত না: ইউনিসেফ

পুতিনের সঙ্গে বসছেন এরদোয়ান

পুতিনের সঙ্গে বসছেন এরদোয়ান

‘সবকিছু অন্ধকার লাগছে’, স্কুলে যেতে না পারা আফগান মেয়ে

‘সবকিছু অন্ধকার লাগছে’, স্কুলে যেতে না পারা আফগান মেয়ে

আফগান মেয়েদের স্কুল থেকে বাদ দেওয়া উচিত না: ইউনিসেফ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:৪৫

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ শনিবার থেকে তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানে স্কুল পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, আফগান মেয়েদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা উচিত না। এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ প্রধান হেনরিয়েটা ফোর বলেন, আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। এই সময়ে অনেক মেয়ে স্কুলে ফেরার অনুমতি পাবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক মানবিক সংকটের আগেও আফগানিস্তানের ৪২ লাখ শিশু স্কুলে ভর্তি হয়নি। এদের প্রায় ৬০ শতাংশ মেয়ে। শিক্ষা বঞ্চিত প্রতিটি দিন তাদের জন্য, তাদের পরিবার ও সমাজের জন্য একেকটি সুযোগের হাতছাড়া হওয়া।

ইউনিসেফ প্রধান বলেন, মেয়েদের অবশ্যই বাদ দেওয়া উচিত না। কোনও বিলম্ব ছাড়া বয়স্কসহ সব মেয়ের শিক্ষাগ্রহণ পুনরায় শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আফগানিস্তানে নারী শিক্ষকদের শিক্ষাদান আমাদের জারি রাখতে হবে।

আফগানিস্তানের সব শিশুর শিক্ষাকে সহযোগিতার জন্য ইউনিসেফ প্রধান উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।  তিনি বলেন, ইউনিসেফ সব ছেলে ও মেয়ে যাতে শিক্ষার সমান সুযোগ পায়, দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে পারে এবং শান্তিপূর্ণ ও উৎপাদনশীল আফগানিস্তান গড়ে তুলতে পারে সেজন্য কাজ করে যাবে।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তালেবান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা জানিয়েছে, সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম চালু হচ্ছে। পুরুষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তবে নারী শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা ফিরতে পারবেন কিনা, এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। এতে আপাতত মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হলো। তালেবান সরকারের এই আদেশে বহু শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত সপ্তাহে তালেবান ঘোষণা দেয়, নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করতে পারবেন। কিন্তু পুরুষ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বসতে পারবে না এবং নতুন পোশাকবিধি মেনে চলতে হবে। অনেকেই মনে করছেন, এর মধ্য দিয়ে নারীদের শিক্ষা থেকে বাদ দেওয়া হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পৃথক ক্লাস নেওয়ার মতো সক্ষমতা ও সামর্থ্য নেই। মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষা নিষিদ্ধ করার অর্থ হলো তারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবে না।

তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকর্তারা বলেছেন, এবারের তালেবান শাসনামল ১৯৯৬-২০০১ সালের সময়ের মতো হবে না। ওই সময় নারী শিক্ষা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার তালেবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, মেয়েদেরকে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হবে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দিলেও ক্লাসে ছেলে-মেয়েদের আলাদা বসার আদেশ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

আফগানিস্তান অ্যানালিটিস নেটওয়ার্কের সহ-পরিচালক কেট ক্লার্ক বলেন, তালেবান ক্ষমতা দখলের পর নারীদের শিক্ষা ও কাজের সুযোগ দেওয়ার কথা বললেও তা থেকে সরে আসছে। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে না গোষ্ঠীটি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

/এএ/

সম্পর্কিত

‘শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’   

‘শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’   

পুতিনের সঙ্গে বসছেন এরদোয়ান

পুতিনের সঙ্গে বসছেন এরদোয়ান

‘সবকিছু অন্ধকার লাগছে’, স্কুলে যেতে না পারা আফগান মেয়ে

‘সবকিছু অন্ধকার লাগছে’, স্কুলে যেতে না পারা আফগান মেয়ে

পুতিনের সঙ্গে বসছেন এরদোয়ান

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:৪০

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। এ মাসের শেষ দিকে রাশিয়ার সোচি শহরে দুই নেতার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুর্কি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই নেতা মূলত সিরিয়ার বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। বিশেষ করে দেশটির উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব এলাকা নিয়ে কথা বলবেন তারা। অঞ্চলটিতে পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে আঙ্কারা ও মস্কো।

পুরো সিরিয়ায় আসাদ বাহিনীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় মরিয়া রাশিয়া। অন্যদিকে নিজ দেশের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় আসাদবিরোধী বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক।

রাশিয়ার সামরিক সহায়তা নিয়ে এরইমধ্যে প্রায় পুরো দেশে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সমর্থ হয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। দেশটিতে এখন একমাত্র ইদলিবই বিদ্রোহীদের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে অবশিষ্ট রয়েছে।

সিরিয়ার বাইরে লিবিয়া ইস্যুতেও তুরস্কের সঙ্গে জোরালো মতবিরোধ রয়েছে রাশিয়ার। তবে এসব মতবিরোধ সত্ত্বেও প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও পর্যটনের মতো খাতগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে।

/এমপি/

সম্পর্কিত

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে:  ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে:  ফ্রান্স

‘শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’   

‘শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’   

আফগান মেয়েদের স্কুল থেকে বাদ দেওয়া উচিত না: ইউনিসেফ

আফগান মেয়েদের স্কুল থেকে বাদ দেওয়া উচিত না: ইউনিসেফ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

চীনা বিলিয়নিয়ারের লোকসান ২৭০০ কোটি ডলার

চীনা বিলিয়নিয়ারের লোকসান ২৭০০ কোটি ডলার

সম্পর্কের উন্নতি চাইলে সীমান্তের সেনা প্রত্যাহার করুন: চীনকে ভারত

সম্পর্কের উন্নতি চাইলে সীমান্তের সেনা প্রত্যাহার করুন: চীনকে ভারত

শেষ হলো চীনের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি মানুষবাহী মহাকাশ মিশন

পৃথিবীতে ফিরলেন তিন চীনা নভোচারী

অবস্থান জোরালো করতে বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় চীন

অবস্থান জোরালো করতে বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় চীন

৩ দেশের চুক্তি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা: চীন

৩ দেশের চুক্তি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা: চীন

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ইঙ্গ-মার্কিন চুক্তিতে ‘শীতল যুদ্ধের মানসিকতা’ দেখছে চীন

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ইঙ্গ-মার্কিন চুক্তিতে ‘শীতল যুদ্ধের মানসিকতা’ দেখছে চীন

চীনের মারাত্মক হুমকি, প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে তাইওয়ান

প্রতিরক্ষা ব্যয় ৯০০ কোটি ডলার বাড়াচ্ছে তাইওয়ান

চীন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার চুক্তি স্বাক্ষর

চীন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার চুক্তি স্বাক্ষর

চীনের সহযোগিতায় ভুল কিছু নেই, ভারতের উদ্বেগ যথাযথ নয়: তালেবান

চীনের সহযোগিতায় ভারতের উদ্বেগ নিয়ে যা বললো তালেবান

চীনের প্রস্তাব নাকচের খবর অস্বীকার করলেন বাইডেন

চীনের প্রস্তাব নাকচের খবর অস্বীকার করলেন বাইডেন

সর্বশেষ

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

মুক্ত স্বদেশে ফিরে সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশিরা

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে:  ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে:  ফ্রান্স

ক্যাপিটল প্রাঙ্গণে ট্রাম সমর্থকদের মিছিল

ক্যাপিটল প্রাঙ্গণে ট্রাম সমর্থকদের মিছিল

‘শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’   

‘শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’   

আগারগাঁওয়ে ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

আগারগাঁওয়ে ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

© 2021 Bangla Tribune