ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ-এর এক নারী কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সম্প্রতি অঞ্চলটিতে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবক্ষয় ও দফায় দফায় সহিংসতার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বুধবার জানায়, মেহরেস্তান শহরে নারীদের বাসিজ ইউনিটের কমান্ডার আফসানেহ আঘিলাকে তার নিজ বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে হামলায় কারা জড়িত ছিল সে সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কিছু স্পষ্ট করেনি। বাসিজ হলো আইআরজিসির অধীনস্থ একটি স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী, যা সরকারের সমর্থনে এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কাজ করে। বাহিনীর নারী সদস্যরা শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকেন।
একই দিনে মেহরেস্তানে একটি পুলিশ ভ্যানে অতর্কিত হামলায় মোহাম্মদ-আলি শাহরিয়ারি নামের এক ইরানি পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। ঘটনা দুটি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ওই অঞ্চলে সক্রিয় সুন্নি জিহাদি ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী জৈশ আল-আদল’র একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে দাবি করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় তাফতান পর্বত এলাকা, কুরিন জেলা এবং বন্দর নগরী চাবাহারে ইরানি সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের তিন দফায় সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়েছে।
দারিদ্র্যপীড়িত সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে মূলত সুন্নি মতাবলম্বী সংখ্যালঘু বেলুচ জনগোষ্ঠীর বসবাস। অবকাঠামোগত ঘাটতি ও উচ্চ বেকারত্বের শিকার এই অঞ্চলে গত সেপ্টেম্বর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা, বোমা বিস্ফোরণ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুন্নি ও বেলুচ সশস্ত্র দলগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক সহিংসতার সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট না হলেও ইরান সরকারের দাবি, এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলি ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার যোগসাজশ রয়েছে, যদিও এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা হয় না।
সহিংসতা দমনে তীব্র অভিযানের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথও বেছে নিয়েছে ইরান। গত রবিবার জৈশ আল-আদলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক বেলুচ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে দেশটি।
সূত্র: আল-মনিটর
ক্যানসার আক্রান্ত পোপ লিও, কী ভাবছে ভ্যাটিকান
এবার যন্তর মন্তর থেকে নেহাকে আটক করলো দিল্লি পুলিশ