যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় লেকের পাড়ে মাছ ধরার সময় প্রায় ১২ ফুট দীর্ঘ একটি কুমির বা অ্যালিগেটরের আক্রমণে ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। চলতি বছরে অঙ্গরাজ্যটিতে কুমিরের আক্রমণে এটি দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
উইন্টার গার্ডেন পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, গত শুক্রবার আনুমানিক বিকাল ৫টার দিকে অরল্যান্ডো থেকে ১৫ মাইল বা ২৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ড. ব্র্যাডফোর্ড মেমোরিয়াল পার্কের অ্যাপোপকা লেকের পাড়ে দাঁড়িয়ে মাছ ধরছিলেন উইন্টার গার্ডেনের বাসিন্দা স্টিভেন হ্যামিল্টন। সে সময় হঠাৎ করেই তিনি আক্রমণের শিকার হন।
উইন্টার গার্ডেন ফায়ার চিফ হোসে গেইনজা ফক্স৩৫-কে জানান, পানির মধ্যে আরও কয়েকটি সক্রিয় কুমিরের উপস্থিতির কারণে হ্যামিল্টনকে উদ্ধারের সম্ভাবনা জটিল হয়ে পড়ে। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ক্যাপ্টেন মাইকেল মেসন জানান, লেকের পাড়ে কোনও কুমির অবস্থান করছে বলে কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে সতর্ক করা হয়নি, সম্ভবত কারণ এই লেকটিতে ‘অসংখ্য কুমির রয়েছে’। তিনি জানান, পুলিশ ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের সাথে যৌথ তদন্ত শুরু করেছে। কমিশনের শিকারিরা পরে হামলাকারী কুমিরটিকে ধরে মেরে ফেলে।
মেসন সাধারণ মানুষকে তাদের আশেপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং বন্যপ্রাণীকে সম্মান করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। হতে পারে প্রাণীটি শান্ত বা ফ্লোরিডার প্রতীকস্বরূপ, কিন্তু এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
এর আগে গত জুনে ওভিডো এলাকার বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সী ব্রিটানি ক্লার্ক নামে এক নারী তার বাড়ির কাছে ১৩ ফুট দীর্ঘ কুমিরের হামলায় নিহত হন।
ফ্লোরিডা রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই দুটি মৃত্যুর ঘটনার মাধ্যমে ১৯৪৮ সাল থেকে কুমিরের আক্রমণে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। নিহতদের মধ্যে ২০২৫ সালে ক্যানু (এক ধরনের নৌকা) উল্টে কুমিরের হামলায় মারা যাওয়া ৬১ বয়সী এক নারী এবং ২০২৩ সালে কুকুর হাঁটার সময় বাড়ির আঙিনা থেকে টেনে নিয়ে যাওয়া ৮৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারীও রয়েছেন।