নদী, বন আর ডলফিনের দেশ ঢাংমারী

ফিচার ডেস্ক
১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩০ আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩০

সুন্দরবন মানেই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নয়। নদীর বুকে ডলফিনের ভেসে ওঠা, ম্যানগ্রোভ অরণ্যের নিস্তব্ধতা আর জোয়ার-ভাটার ছন্দও এই বনকে করে তুলেছে অনন্য। এমনই এক প্রাকৃতিক সম্পদ বাগেরহাটের ঢাংমারী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চাইলে জায়গাটি হতে পারে ভ্রমণের বিশেষ গন্তব্য।

ডলফিনের আবাসস্থল

সুন্দরবনের পূর্বাংশে অবস্থিত ঢাংমারী অভয়ারণ্য প্রায় ৩৪০ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসাবে ঘোষিত এই জলাভূমি ডলফিন সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখানে গাঙ্গেয় ডলফিনসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীর আবাস রয়েছে।

বাগেরহাটের ঢাংমারী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য (ছবি: সংগৃহীত)

নদী ও খাঁড়ির সংযোগস্থলে নৌকায় চলার সময় ডলফিনের দেখা মেলে। তবে বন্যপ্রাণী দেখার বিষয়টি প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল, তাই দেখা মিলবেই এমন নিশ্চয়তা নেই। পাখি, নদীর দুই ধারের সবুজ বন আর জোয়ার-ভাটার পরিবর্তনও এই ভ্রমণের আকর্ষণ।

কীভাবে যাবেন?

ঢাংমারী অঞ্চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে বাগেরহাটের মোংলাকে যাত্রার অন্যতম ভিত্তি হিসাবে রাখতে পারেন। মোংলা থেকে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় নৌপথে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অভয়ারণ্যের নির্দিষ্ট অংশে প্রবেশের নিয়ম ও অনুমতি সম্পর্কে আগে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে খোঁজ নেওয়া জরুরি।

কখন যাবেন, কোথায় থাকবেন?

আবহাওয়া ও নদীপথের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভ্রমণের সময় ঠিক করুন। শীতকাল ও শুষ্ক মৌসুমে নৌভ্রমণের পরিকল্পনা করা যেতে পারে, তবে যাত্রার আগে স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়া প্রয়োজন। থাকার জন্য মোংলা ও আশপাশের এলাকায় হোটেল, রিসোর্ট কিংবা স্থানীয় পর্যটনকেন্দ্রের আবাসনের খোঁজ নিতে পারেন।

প্রকৃতি বাঁচিয়েই ভ্রমণ

ঢাংমারী শুধু বেড়ানোর জায়গা নয়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণেরও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। তাই নৌযানে উচ্চ শব্দ করা, প্রাণীদের বিরক্ত করা, নদীতে প্লাস্টিক ফেলা কিংবা বন্যপ্রাণীকে খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। বন বিভাগের নির্দেশনা মেনে অভিজ্ঞ নৌযানচালক ও অনুমোদিত গাইডের সাহায্য নিন।

সুন্দরবনের পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি জলপথ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাংমারী হতে পারে ভিন্নধর্মী ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা। প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখা, তার নীরবতা অনুভব করা আর বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাস রক্ষার দায়িত্ব মনে রাখাই হবে এই সফরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

 

/এমএএল/
সম্পর্কিত
যে জলপ্রপাতে পানির স্রোত বেয়েও ওঠা যায় ওপরে!
ভারতের জঙ্গলে বন্যপ্রাণী দেখার বিশেষ ট্যুর
পদ্ম-শাপলার সৌন্দর্যে ভরা গাজীপুরের কাতুরিয়া বিল, যাবেন যেভাবে
সর্বশেষ খবর
প্রশ্ন করতেই চটলেন ট্রাম্প, সাংবাদিকদের বললেন ‘বোকা ও নির্বোধ’
প্রশ্ন করতেই চটলেন ট্রাম্প, সাংবাদিকদের বললেন ‘বোকা ও নির্বোধ’
‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ 
‘জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ, একাধিক কেনার সামর্থ্য নাই’ 
খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
দল থেকে অব্যাহতি পেয়ে বিএনপি নেত্রী বললেন ‘আমি অত্যন্ত মর্মাহত’
দল থেকে অব্যাহতি পেয়ে বিএনপি নেত্রী বললেন ‘আমি অত্যন্ত মর্মাহত’
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকার কাছেই মিলতে পারে গ্যাস, কূপ খননের পরিকল্পনা
ঢাকার কাছেই মিলতে পারে গ্যাস, কূপ খননের পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে চেয়ে প্রত্যাহার রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার
প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে চেয়ে প্রত্যাহার রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার
ডিভি লটারি ২০২৭: আবেদন শুরু হচ্ছে কবে?
ডিভি লটারি ২০২৭: আবেদন শুরু হচ্ছে কবে?
সাত দিন পর কারামুক্ত হলেন ককরোচ নেতা সৌরভ-রাঙ্কা
সাত দিন পর কারামুক্ত হলেন ককরোচ নেতা সৌরভ-রাঙ্কা
অর্ধেক টাকা খরচের পর সাড়ে ৬ হাজার কোটির প্রকল্প বাতিল, এবার হবে মহাসড়ক
অর্ধেক টাকা খরচের পর সাড়ে ৬ হাজার কোটির প্রকল্প বাতিল, এবার হবে মহাসড়ক