অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে চলা ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উপসাগরীয় অঞ্চল সফরের সিদ্ধান্তে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংকটকালে দেশে না থেকে বিদেশ সফরে যাওয়ায় বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংকট নিরসনে কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিন দিনের সফরে যান ম্যাক্রোঁ। এলিজে প্যালেসের এক সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের আলোকে ফরাসিদের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব কমাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত ও বৈচিত্র্যময় করাই প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য। হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তিনি আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন।
তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবার অবক্ষয়ের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ রাস্তায় নামে। প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁ শহরের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শনিবার দাঙ্গাকারীরা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। রাজধানীতে শত শত ভবন ভাঙচুর করা হয় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লোকোর্নু বিভিন্ন অঞ্চলে আংশিক সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারির নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান। সহিংসতার জন্য কট্টর-বামপন্থিদের দায়ী করে তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে উগ্র-বামপন্থি আন্দোলনকারীরা আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত দেশে গভীর বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, দাঙ্গা ও লুটপাট মোকাবিলায় নিরাপত্তার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন ফ্রান্সের প্রধান শহরের মেয়ররা।
নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানালেন জেডি ভ্যান্স
ইউরোপে কি আরব বসন্তের পুনরাবৃত্তি, ৯ দেশের বিক্ষোভ কি সমন্বিত?