মঙ্গলগ্রহের উপগ্রহ ‘ফোবোস’ থেকে গুঁড়ো পাথর ও ধূলিকণা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে জাপান। সফল হলে মঙ্গল বা তার কোনও উপগ্রহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফেরত আনার এটিই হবে প্রথম ঘটনা।
জাপান স্পেস এজেন্সির নেতৃত্বাধীন মার্স মুন্স এক্সপ্লোরেশন (এমএমএক্স) নামের মিশনটি ২০২৭ সালের আগস্টে ফোবোসে পৌঁছাবে। মহাকাশযানটি প্রথমে মঙ্গলের ক্ষুদ্র উপগ্রহ ডিমোস পর্যবেক্ষণ করবে এবং পরে ফোবোসে একটি রোভার অবতরণ করাবে। নমুনা বিশ্লেষণের দায়িত্বে থাকা ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের অধ্যাপক সারা রাসেল এটিকে একটি যুগান্তকারী ও রোমাঞ্চকর অভিযান বলে বর্ণনা করেছেন। তবে ফোবোসের নিজস্ব মহাকর্ষ বল কম থাকা এবং মঙ্গলের প্রবল মহাকর্ষীয় টানের কারণে সেখানে রোভার নামানো বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে জানান তিনি।
ফোবোসে সফলভাবে অবতরণের পর একটি রোবোটিক বাহুর সাহায্যে প্রায় ১০ গ্রাম নমুনা সংগ্রহ করা হবে, যা ২০৩১ সালে একটি ক্যাপসুলে করে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার উমেরা মরুভূমিতে পৌঁছাবে।
নমুনার পরিমাণ মাত্র ১০ গ্রাম হলেও লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর ক্রিসা অ্যাভডেলিডু বলেন, একেকটি ক্ষুদ্র কণার ওপরও আমরা গবেষণা চালাতে পারি... বিজ্ঞানচর্চার জন্য কেজির পর কেজি নমুনা লাগে না। তাই প্রতিটি গ্রামই অত্যন্ত মূল্যবান।
বিজ্ঞানীদের আশা, এই গবেষণার মাধ্যমে মঙ্গলগ্রহের দুটি উপগ্রহের সৃষ্টিরহস্য উন্মোচিত হবে। উপগ্রহ দুটি মঙ্গলে কোনও বিশালাকার সংঘর্ষের ফলে তৈরি ধ্বংসাবশেষ থেকে এসেছে, নাকি পথভ্রষ্ট দুটি গ্রহাণুকে মঙ্গলের মহাকর্ষ আটকে ফেলেছে, নমুনার রাসায়নিক ও খনিজ উপাদান পরীক্ষা করে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান সারা রাসেল। এছাড়া ফোবোসের গায়ে মঙ্গলের নিজস্ব কণাও গেঁথে থাকতে পারে, যা লাল গ্রহটির আদি ইতিহাস জানতে সাহায্য করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে সংকট চলায় নাসার মার্স স্যাম্পল রিটার্ন মিশন স্থগিত রয়েছে এবং চীন ২০২৮ সালে তাদের নিজস্ব মিশন চালুর পরিকল্পনা করছে। ফলে জাপানের এই নিষ্কলুষ ও অবিকৃত নমুনা সংগ্রহ মিশনটি বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের কাছে এখন বিপুল আগ্রহ তৈরি করেছে।
সূত্র: বিবিসি
ওআইসির কাশ্মীর প্রস্তাবের নিন্দা ভারতের
ত্রিমুখী টানাপোড়েনে মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী