ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আবারও ঘনিয়েছে ধোঁয়াশা। শীত ঘনীভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও এক চেনা ধোঁয়াশা আচ্ছন্ন করতে শুরু করেছে ভারতের রাজধানী শহরটিকে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সাথে সাথে কম দৃশ্যমানতা ও বায়ুদূষণ দিল্লির অধিবাসীদের মধ্যে নতুন করে অস্বস্তি ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত দিল্লির বায়ুমান ‘খারাপ’ শ্রেণিতে থাকতে পারে।
দসেরা উৎসব উদযাপনের ঠিক একদিন পরেই আবহাওয়ার এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল। শীতকালীন দূষণ মৌসুমে দিল্লির দিকে এগোনোর এই সময়ে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে খড় বা শস্যের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো এবং বাতাসকে বিষাক্ত করে তোলা আবহাওয়া পরিস্থিতি প্রধান উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে।
এয়ার কোয়ালিটি আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (একিউইডব্লিউএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে দিল্লির বায়ুর মান ‘খারাপ’ ক্যাটাগরিতে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল এবং এটি ২৩ অক্টোবর শুক্রবার পর্যন্ত একই অবস্থায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীর বায়ু মান সূচক (একিউআই) ছিল ১৭৯, যা ‘মাঝারি’ বা ‘সহনীয়’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ ছিল।
তবে বুধবার ভোরের দিকেই স্টেশন-স্তরের তথ্যে দেখা যায় রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা ইতোমধ্যে ‘খারাপ’ ক্যাটাগরিতে প্রবেশ করেছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে বাওয়ানায় একিউআই ছিল ২৭৩, দ্বারকা সেক্টর ৮-এ ২৬২, দিল্লি টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ২৪৮ এবং ডক্টর কর্নি সিং শুটিং রেঞ্জে ছিল ২৩০। উল্লেখ্য একিউআই মাত্রা ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘খারাপ’ ক্যাটাগরি হিসেবে গণ্য করা হয়।
বুধবার সকালে অক্ষরধাম এলাকার কমনওয়েলথ গেমস (সিডব্লিউজি) অ্যাপার্টমেন্টের কাছে অবস্থিত বায়োডাইভারসিটি পার্কে ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়াশার উপস্থিতি দেখা যায়, যা পুরো রাজধানীর বেশ কিছু অংশে ঘোলাটে পরিবেশ তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার দিল্লিজুড়ে রামলীলা অনুষ্ঠান, রাবণ, কুম্ভকর্ণ ও মেঘনাদের কুশপুত্তলিকা দাহ এবং আতশবাজির মাধ্যমে দসেরা উদযাপিত হয়। তাপমাত্রা হ্রাসের পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলে দূষিত উপাদান ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ না থাকায় এই উৎসবটি দিল্লির বায়ুর মান অবনতির মৌসুমের সঙ্গেই মিলে গেছে।
তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে সাধারণত বায়ুর মানের অবনতি ঘটে। এ সময় আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে দূষিত পদার্থ সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। দশেরার উৎসবের সময় আতশবাজি থেকে বস্তুকণা ও অন্যান্য দূষক বাতাসে ছড়াতে পারে। এ ছাড়া যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, শিল্পকারখানা ও বর্জ্য পোড়ানোও রাজধানীর বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎস।
তবে বুধবারের ধোঁয়াশায় দশেরার উৎসবের কারণে ঠিক কতটা দূষণ বেড়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ফ্রান্সে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী