আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনায় আদালত অবমাননার অভিযোগে করা মামলায় নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে লিখিত বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি সময় চেয়েছেন আওয়ামীপন্থি দুই আইনজীবী। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী হাসানুজ্জামান তুষার ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে তাদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, দুই আইনজীবী এরই মধ্যে ফেসবুক থেকে পোস্ট সরিয়ে নিয়েছেন। ওই পোস্ট দিয়ে ভুল করেছেন বলে স্বীকার করার পাশাপাশি অনুতপ্ত হয়ে ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন তারা। লিখিত বক্তব্য দেওয়ার জন্যও সময় চেয়েছেন।
পরে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি মুলতবি করে ২৫ জানুয়ারি পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ট্রাইব্যুনালকে অপমান করে ফেসবুকে পোস্ট দেন ওই দুই আইনজীবী। সাধারণত ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে বিভিন্ন মন্তব্য আমলে নেওয়া না হলেও একজন আইনজীবীর কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। এ কারণে বিষয়টি ট্রাইব্যুনাল-২-এর নজরে আনা হলে তাদের তলব করা হয়।
আদালতের প্রতি আইনজীবীদের শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আদালত বা ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য করা সমীচীন নয়। দুই আইনজীবী ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। আগামী শুনানিতে তারা লিখিতভাবে কী বক্তব্য দেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে পারে।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য দুই আইনজীবীর পক্ষে সময় চান মুনসুরুল হক চৌধুরী। বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের পূর্ণ বেঞ্চে শুনানির আবেদনও জানান তিনি। পরে ২৬ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের এই দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। পরে তাদের সশরীরে হাজির হয়ে ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তলব করেন ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশন জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই রায় নিয়ে ফেসবুকে আলাদা আলাদা পোস্ট দেন আইনজীবী তুষার ও হাসান। পোস্ট দুটি ট্রাইব্যুনালের নজরে এলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধে আওয়ামী লীগের ৭ নেতার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন এ সপ্তাহেই