বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগ এ সম্পর্কিত এক সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারটি দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী,এখন থেকে প্রত্যেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নতুন কোনও স্থাপনা নির্মাণের সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, নির্মাণ এলাকায় জলাধার থাকলে তা অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। আর যদি জলাধার না থাকে তাহলে নতুন জলাধার তৈরি করতে হবে, যাতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যায়। এছাড়া নতুন যে কোনও স্থাপনা নির্মাণের সময় সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করতে হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে,নতুন শাখা বা ব্যবসায় উন্নয়ন কেন্দ্র যদি ভাড়া করা বা ইজারা নেওয়া স্থাপনায় খোলা হয়,সেক্ষেত্রে ওই স্থাপনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সোলার প্যানেল স্থাপন করতে হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, যে কোনও অর্থায়ন ও অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঋণ গ্রহীতাদের সকল নতুন স্থাপনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা আছে কিনা সে বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চিত হতে হবে।
একইভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানেও অর্থায়নের ক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা আছে কি-না সে বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চিত হতে হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে,সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) ও সরকারি হাসপাতালে এবং দেশের তুলনামূলক অনুন্নত, অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে অথবা অত্যন্ত স্বল্প খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী ও সরকারিভাবে স্বীকৃত নন প্রফিট প্রতিষ্ঠানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অনুদান প্রদান অথবা হ্রাসকৃত সুদ হারে অর্থায়ন করতে পারবে। এরূপ অর্থায়ন জলবায়ু ঝুঁকি তহবিলের ব্যবহার হিসাবে পরিগণিত হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মনোজ কুমার বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকারের ভিশন-২০২১ ও ন্যাশনাল সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি বাস্তবায়নে এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অংশ হিসেবে সোলার প্যানেল স্থাপন ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কোনও ধরনের স্থাপনা নির্মাণে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ নিয়েছেন। এ কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নির্দেশনা জারি করেছে।
/জিএম/এসএনএইচ/এমএসএম /