বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

তোফায়েল আহমেদদেশে চাহিদার তুলনায় সব নিত্যপ্রয়োজনী পণ্য মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে বাজারে কোনও পণ্যের সংকট নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, রমজান মাসকে সামনে রেখে চাল, আটা, চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ ও খেজুরসহ সব পণ্যের সরবাহ ও মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনও পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে যে বেড়ে না যায় সেজন্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রমজান মাসকে সামনে রেখে টিসিবি ১৭৪টি ট্রাক সেল ও ডিলারের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করবে। দেশে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিকটন চাল বেশি উৎপাদন হয়েছে। আপদকালীন মজুদ রেখে এখন নিয়মিত চাল রফতানি করবে বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, ১৫ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের চাহিদার বিপরীতে আমদানি হয়েছে ১৮ দশমিক ৯০ লাখ মেট্রিক টন, ১৪ থেকে ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে চিনি আমদানি হয়েছে ১২ দশমিক ৭৪ লাখ মেট্রিক টন। আর দেশে চিনি উৎপাদন হয়েছে ১ দশমিক ২০ লাখ মেট্রিক টন। এছাড়া গত বছর চিনি আমদানি করা হয় ১৭ দশমিক ৯৪ লাখ মেট্রিক টন। সব মিলিয়ে দেশের চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি চিনি মজুদ রয়েছে। এছাড়া মশুর ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদসহ গরম মসলার মজুদ চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে। সংগত কারণে এসব পণ্যের সংকট হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো বাজার অভিযান অব্যাহত রাখবে। অসৎ ব্যবসায়ীরা যাতে কোনও ধরনের পণ্যের কৃত্রিম সংকট বা মূল্য বৃদ্ধি করতে না পারে সেজন্য সরকার সচেতন রয়েছে।

এ সময় প্রচার মাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সভায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচড়া ব্যবসায়ীরা চাহিদার চেয়ে বেশি পণ্য মজুতের কথা জানিয়েছেন। এছাড়া ব্যবসায়ীরা রমজানে কোনও পণ্যের কৃত্রিম সংকট বা মূল্য বৃদ্ধি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মুশফেকা ইকফাৎ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবুল হোসেন মিয়া, টিসিবি’র চেয়ারম্যান ব্রি. জে. সালেহ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শওকত আলী ওয়ারেছী, এফবিসিসিআই’র সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ সাহা প্রমুখ।

/এসআই/এসএনএইচ/এএইচ/