সেপ্টেম্বরেই নতুন ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ!

বাংলাদেশ ব্যাংকচলতি মাসেই বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন দু’জন ডেপুটি গভর্নর যোগ দিতে পারেন। তবে সেই দু’জনের নাম এখনও ঠিক হয়নি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা করে সরকারের কাছে সুপারিশ করবে সার্চ কমিটি। সেই তালিকা থেকে ২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার ডেপুটি গভর্নর নিয়োগের সাক্ষাৎকার নেওয়া শেষ করেছে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি।

এ প্রসঙ্গে সার্চ কমিটির সদস্য ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘ডেপুটি গভর্নর পদের জন্য ১৭ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে থেকে ১৬ জন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। যারা সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন তাদের ভেতর থেকে আরও ছোট ও চূড়ান্ত তালিকা করে ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে। চূড়ান্ত এই তালিকায় কতজনের নাম যাবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে তালিকা চূড়ান্ত করে সুপারিশ পাঠানো হবে। আশা করা যায়, চলতি মাসেই বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রকাশের পর থেকে ডেপুটি গভর্নরের দুটি পদ খালি রয়েছে। এর আগে সার্চ কমিটির সুপারিশ করা ৩ জনের নামে গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়েছে। এর আগে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় গত মার্চের ১৫ তারিখ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যগ করেন। একই দিনে এবং একই ইস্যুতে দুজন ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম ও  নাজনীন সুলতানার চুক্তি বাতিল করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এরপর ২৪ মার্চ ড. খলীকুজ্জমানকে প্রধান করে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত এ কমিটি ২৭ মার্চ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করে। পরে আবেদনকারী অর্ধশতাধিক প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। এতে দুই ধাপে ১৯ জন মৌখিক পরীক্ষা দেন। তাদের মধ্যে তিনজনের নাম সুপারিশ করে কমিটি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে দুদক ও গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগের কারণে এই সুপারিশ বাতিল করা হয়।

পরে দ্বিতীয় দফায় গত ২১ জুলাই কিছু শর্ত শিথিল করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। যেখানে আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ১০ আগস্ট। এ সময় মোট ৩১ জন আবেদন করলে সেখান থেকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ১৭ জনকে ডাকা হয়। এই তালিকায় রয়েছেন বাতিল হওয়া প্যানেলের এসএম মনিরুজ্জামান ও মো. আবদুর রহিম।

উল্লেখ্য ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদকে প্রধান করে গঠিত পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক কেএম মুর্শিদ, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রিজওয়ানুল হুদা।

সোমবার যে সব প্রার্থী সাক্ষাৎকারে অংশ নেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নির্মল চন্দ্র ভক্ত, মো. সাইফুল ইসলাম, আহমেদ জামাল, ম. মাহফুজুর রহমান (পিআরএল), এস এম মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরী, মো. হুমায়ূন কবীর (পিআরএল), শুভংকর সাহা, বিষ্ণুপদ সাহা, কাজী নাসির আহমেদ (পিআরএল), মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জোদ্দার, মো. আব্দুর রহিম। এছাড়া ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ডিএমডি মো. আফজালুল বাশার (পিআরএল), সোনালী ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি মো. খোরশেদ হোসাইন ও সাবেরা আখতারী জামাল এবং সিটি ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি বদরুদ্দোজা চৌধুরী। শুধু ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ডিএমডি সাইদুল হাসান অনুপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ লোপাটের ঘটনায় গত ১৫ মার্চ ড. আতিউর রহমান গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ওইদিনই সরকার ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে মো. আবুল কাশেম ও নাজনীন সুলতানাকে অব্যাহতি দেয়।

আরও পড়তে পারেন:  ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর পোশাকশিল্প এলাকায় ব্যাংক খোলা

 /জিএম/এমএনএইচ/