বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল শোষণ ও ক্ষুধামুক্ত সোনার বাংলা গড়ার। শূন্যহাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন জাতিরপিতা। সে সময় দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব ছিল। আজ বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব নেই। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন এবং প্রয়োজনের তুলনার অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশ এখন খাদ্য রফতানি করছে। খাদ্য রফতানি কারক দেশের তালিকায় এখন বাংলাদেশ।’
সম্মেলনে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কৃষি অর্থনীতি নির্ভর বাংলাদেশে ৪০ ভাগ মানুষ কাজ করছে এ সেক্টরে। স্বাধীনতার পর জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ছিল ৭৮ ভাগ, বর্তমানে এ অবদান ১৪.৯৫ ভাগ। বাংলাদেশের উন্নয়নে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হলে এসডিজি’র ৮২ ভাগ অর্জন করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের বর্তমান ইকনোমিক গ্রোথ ৭.১ ভাগ, এর মধ্যে রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি ৯.৭৭ ভাগ। সেখানে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ ভাগ।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষির আধুনিকায়ন, মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা, গবেষণা, উৎপাদিত কৃষিপণ্য যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করণ জরুরি। সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের অভাবে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে এফএও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এ ধরনের সহযোগিতা এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্যও প্রয়োজন।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব মোতাবেক বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান রফতানি ৩৪ দশমিক ২৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার । ২০২১ সালে দেশের ৫০ বছর পূর্তিতে এ রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এর মধ্যে শুধু তৈরি পোশাক থেকে আসবে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো কম্প্লায়েন্স করা হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে, কিন্তু তৈরি পোশাকের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়নি।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুস সোবহান শিকদার এবং ইকনোমিক মিনিস্টার ড. মো. মফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
/এসআই/এমএন এইচ/