সরকারের ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় রফতানি বাড়াতে যে কয়টি পণ্য রফতানির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, ফার্নিচার (আসবাবপত্র) তার মধ্যে একটি। সরকারের প্রত্যাশা, দেশে ফার্নিচার শিল্পের উন্নয়ন ঘটলে এর সঙ্গে বাড়বে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। এ কারণে ফার্নিচার রফতানিতে উৎসাহ দেওয়ার জন্য সরকার এ বছর ১৫ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ১৩তম জাতীয় ফার্নিচার মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন,বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন।
‘আমার দেশ আমার আশা, দেশীয় ফার্নিচারে সাজাবো বাসা’—এ শ্লোগানকে সামনে নিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির নবরাত্রি হলে মঙ্গলবার এই ফার্নিচার মেলা শুরু হয়। ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার (ডিটিসি)’র আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির (বিএফআইওএ) পৃষ্ঠপোষকতায় ৫ দিনব্যাপী এ মেলা চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত না হতে পারায় প্রধান অতিথির দায়িত্ব পালন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই সিনিয়র সচিব।তবে টেলিফোনে মেলার সফলতা কামনা করে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি ফার্নিচার শিল্পের সঙ্গে জড়িত সকলকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি সেলিম এইচ রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান মাফরুহা সুলতানা, গেস্ট অফ অনারের বক্তব্য রাখেন ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান কে. এম. আকতারুজ্জামান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক এ করিম মজুমদার এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির ভাইস-চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আউয়াল।
বাণিজ্য সচিব বলেন, বর্তমানে বিশ্বে ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ফার্নিচারের বাজারে চীন ৫২ শতাংশ বাজার দখল করে আছে। এখন চীনে ফার্নিচার উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সংগত কারণে চীন অনেক শিল্প কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের চিন্তা করছে। কারণ, বাংলাদেশে এখনও অনেক কম পারিশ্রমিকে এ খাতে দক্ষ জনশক্তি পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। এ শিল্পে আমাদের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। এ শিল্পের রফতানি বাড়াতে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সময়োপযোগী ডিজাইন ও উন্নত মান নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য ফার্নিচার ডিজাইন সেন্টার এবং দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে ট্রেনিং সেন্টার খুবই জরুরি।
বাণিজ্যসচিব বলেন, বাংলাদেশের ফার্নিচার শিল্প দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ফার্নিচার রফতানি করেছে ৩৮.৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, গত বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬.২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮.৮০ শতাংশ হারে। এ শিল্পকে আর ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ফার্নিচার শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে সবধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১ সফল করতে এ শিল্পের রফতানি বাড়ানোর বিকল্প নেই। আগামী ২০২১ সালে এ শিল্পের রফতানি ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ পরিকল্পনা সফল করতে সরকার সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। সরকার রূপকল্প ২০২১ সফল করতে দেশের রফতানি ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে লক্ষ্যে সফল ভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন।
মেলায় দেশের ২৬টি ফার্নিচার উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।
/এসআই/টিএন/