চীনের ১৫টি কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ১৯টি চুক্তি সই হয়েছে। সোনারগাঁও হোটেলে শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ-চায়না বিজনেস ফোরামের যৌথ বৈঠকে এসব চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার ভালো পরিবেশ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন চীনের ব্যবসায়ীরা।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।
এ বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে মত বিনিময় করেছেন। বৈঠক শেষে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুনের উপস্থিতে বাংলাদেশে চীনের ১৫টি কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের ১৫টি কোম্পানির মধ্যে ১৩.৬ বিলিয়ন ডলারের ১৯টি চুক্তি সই হয়েছে। এখানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, সিরামিক, লেদার খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন বাংলাদেমের ব্যবসায়ীরা।
বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মাতলুব আহমাদ, সিসিপিআইটির ভাইস চেয়ারম্যান চ্যান ঝউ, ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিক্যালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবদুল মোকতাদির, অ্যাপিলিয়ন গ্রুপের রেজাউল কবির বক্তব্য রাখেন। আর চীনের পক্ষ থেকে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ওয়াং জু শেং, টিবিয়ান ইলেকট্রিক অ্যাপারেটর কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ঝাওয়াংশি।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের এতে যোগ দেন।
বৈঠকে মাতলুব বলেন, ‘যদিও আমাদের মধ্যে ১৯টি চুক্তি সই হয়েছে। তারপরও আশা করছি, পরবর্তীতে এসংখ্যা বেড়ে ৫০টির মতো হতে পারে। চীনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে নিশ্চই লাভবান হবেন। আমরা আশাবাদী, যদি উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ৫০টি চুক্তি সই হয় তাহলে তার পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার দাঁড়াবে। এছাড়া, সরকারি উদ্যোগেতো আলাদা চুক্তি হচ্ছেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমান (বিসিআইএম) ও সিল্ক রুটের আওতায় চীনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের এসুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও দরিদ্র বিমোচনে ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যকার এবাণিজ্য চুক্তিগুলো বিশাল সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আমার বিশ্বাস, চীনের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের উত্তম স্থান হিসেবে বাংলাদেশকেই বেছে নেবেন।’
সিসিপিআইটির ভাইস চেয়ারম্যান চ্যান ঝহু বলেছেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশে বিনিয়োগ ব্যাংকের মধ্যেই রয়েছে। আমরা আস্থা নিয়ে এদেশের বিনিয়োগ পার্কে বিনিয়োগ করবো। আমাদেরই এই প্রতিনিধি দলে অনেক উদ্যোক্তা রয়েছেন। যারা এদেশে বিনিয়োগ করতে চান। চামড়া, অবকাঠামো, তৈরি পোশাক, ওষুধ, অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের কথা চিন্তা করছি আমরা। চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য চীনে রফতানি করে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য বৈষম্য দূর করা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সহায়তা করতে চাই। আমাদের দেশের প্রযুক্তি ও দক্ষতা বাংলাদেশের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। এফবিসিসিআই ও সিসিপিআইটি এর মাধ্যমে নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। যাতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাবে। এদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার ভালো পরিবেশ রয়েছে। একারণেই আমরা এদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। আমাদের প্রেসিডেন্টের এসফর উভয় দেশের শিল্প ও বাণিজ্য উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।’
চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ৮৬ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল রয়েছে।
আরও পড়ুন: চীনের ঋণের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে
/এসআই/এসটি/ এপিএইচ/