চাকরি হারালেন বেসিক ব্যাংকের ডিএমডি মুনায়েম খান

বেসিক ব্যাংকের ডিএমডি মুনায়েম খান। দুর্নীতির অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

চাকরি হারালেন রাষ্ট্রায়ত্ব বেসিক ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এ মুনায়েম খান। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। সোমবার (৩১ অক্টোবর) ব্যাংকটির এক আদেশে এই তথ্য জানা গেছে। 

এর আগে ২০১৪ সালের এপ্রিলে বেসিক ব্যাংকের ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ এনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। সেই পর্ষদের চেয়াম্যান ছিলেন শেখ আবদুল হাই বাচ্চু। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশনও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এর কিছুদিন পরই ব্যাংকের পর্ষদে পরিবর্তন আনা হয়। দীর্ঘ আড়াই বছর শুনানি শেষে তাকে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ।  সোমবার তাকে চাকরিচ্যুত করার চূড়ান্ত বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বেসিক ব্যাংকের পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার এ মুনায়েম খান চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করার বিষয়টি জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বেসিক ব্যাংকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনায় গত বছরের ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর ৫৬টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে ৩৫টি মামলায় এ মুনায়েম খানকে আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়াও গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুনায়েম খান ও তার স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করে দুদক। মুনায়েম খানের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলার একটি অর্থ পাচার আইনে। এতে তার বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা মালয়েশিয়ায় পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্য মামলায় ৭৪ লাখ ৮০ হাজার ৯৮৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। তার স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে করা মামলায় ২ কোটি ২ লাখ ৮৯ হাজার ৪২০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

 /জিএম/টিএন/