বাংলাদেশ ওমেন চেম্বারের সভাপতি সেলিমা আহমাদের মতে, নারী উদ্যোক্তাদের কাছে এখন নতুন হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্যাক্স-ভ্যাটের হয়রানি। নারী উদ্যোক্তারা এখনও সঠিকভাবে হিসাব রাখতে সক্ষম না হওয়ায় রাজস্ব কর্মকর্তারা তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে থাকেন বলেও তার অভিযোগ।
সেলিমা আহমাদ বলেন, ‘দক্ষতা বৃদ্ধিতে ওমেন চেম্বারের পক্ষ থেকে ১২০ উপজেলায় ১০ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ভেন্যু ভাড়া নিয়ে সেমিনার, সিম্পেজিয়াম ও মেলার আয়োজন করেছি। কিন্তু ভেন্যু ভাড়ার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট ও ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর দিতে হচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাদের স্বার্থে এসব প্রত্যাহার করা উচিত।’
ওমেন চেম্বারের সভাপতি আরও বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তারা বিউটি পার্লার, রেস্টুরেন্ট ও ফ্যাশন ডিজাইনের মতো সেবামূলক খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারাই ধরে রেখেছেন দেশীয় ঐতিহ্য। এ জাতীয় সেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হলে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা বাড়বে না। তাই তাদের জন্য ৫ শতাংশের বেশি ভ্যাট নির্ধারণ না করারও আহ্বান জানাই।’
বিবিয়ানার স্বত্বাধিকারী লিপি খন্দকার বলেন, ‘বাড়ি ভাড়ার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রতি বছর লাগামহীনভাবে বাড়ি ভাড়া বাড়ছে। এর ওপর নারী উদ্যোক্তাদের ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হচ্ছে। এটি তাদের জন্য একরকম বোঝা। তাই নারী উদ্যোক্তাদের বাড়ি ভাড়ার ওপর ভ্যাট কমানো উচিত।’
ওমেন চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সঙ্গীতা আহমেদের দাবি, নারী উদ্যোক্তারা ভ্যাট-ট্যাক্সকে ভয় পান না। তবে কর্মকর্তাদের ব্যবহার সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ তার। তাই নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এনবিআরে পৃথক হেল্প ডেস্ক ও কর সহায়ক পুস্তিকা প্রকাশের পরামর্শ দেন তিনি।
সোমবারের আলোচনায় সভায় কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর দাবি জানিয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। সংগঠনটির মতে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কর্পোরেট কর হার বেশি। এখানকার কর্মকর্তাদের রয়্যালটি ফি, পারক্যুইজিট আয়ের সীমা আয়কর অফিস অগ্রাহ্য করায় সব মিলিয়ে কার্যকর কর হার অনেক বেশি পড়ে যায়। যা দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে অপ্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে বলেও মনে করেন তারা।
ফিকি’র সভাপতি রূপালী চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। অবকাঠামোসহ নানা সমস্যাও রয়েছে। এ অবস্থায় বাজেটে পলিসি পরিবর্তন করা হচ্ছে প্রতি বছর। এতে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে পারেন না।’ তিনি মনে করেন, অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য পলিসি বহাল রাখা উচিত। কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব দিয়ে রূপালী চৌধুরী বলেন, ‘এনবিআরকে করজাল বাড়াতে হবে। যারা ট্যাক্স দিচ্ছে তাদের কাছ থেকেই তা আদায়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে। যারা দিচ্ছে না, তারা একেবারেই দিচ্ছে না।’
এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশে ভ্যাট হার সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে ভারত-বাংলাদেশ চেম্বারের প্রতিনিধি এ কে চৌধুরী অভিমত দিয়েছেন, ভ্যাট হার কমানো হলে ব্যবসায়ীরা সঠিক হিসাব প্রদর্শনে উৎসাহিত হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভ্যাট হার সাড়ে ৭ শতাংশ হওয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন। তার কথায়, ‘বর্তমানে ঠিকাদার খাতে ৬ শতাংশ ভ্যাট দিতে হচ্ছে। সবক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হলে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়ে যাবে।’
ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান কর কর্মকর্তা সাইদ আহমেদ খান বলেন, ‘১ জুলাই ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে এপ্রিলের মধ্যে গেজেট নোটিফিকেশন জারি করা উচিত।’ এনবিআরের আয়কর নীতির সদস্য পারভেজ ইকবালের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় আরও ছিলেন শুল্ক নীতির সদস্য লুৎফর রহমান।
/জিএম/জেএইচ/