সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে ধারণা নেই অর্ধেকের বেশি ব্যাংক কর্মকর্তার

কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী

ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে অর্ধেকের বেশি ব্যাংক কর্মকর্তার কোনও ধারণা নেই। তারা এ বিষয়ে পুরোপুরি অজ্ঞ। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, দেশে ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে ২৮ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তা খুবই অজ্ঞ এবং ২২ শতাংশ অজ্ঞ। এছাড়া সামান্য ধারণা রয়েছে ২০ শতাংশ কর্মকর্তার।

মঙ্গলবার (১৬ মে) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে  ‘ব্যাংকিং খাতে সাইবার নিরাপত্তা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। 

কর্মশালার প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ কর্মশালায় সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। ব্যাংকিং খাতে সাইবার নিরাপত্তা শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাজডাক টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজ আহমেদ। ‘ অ্যান এক্সপ্লোরেশন অব দ্য ডিজিটাল ব্যাংকিং রেভ্যুলুয়েশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম।

বিআইবিএম-এর গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকগুলোতে সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে খুবই ভালো ধারণা রয়েছে চার শতাংশ, ভালো ধারণা ১০ শতাংশ এবং মোটামুটি ধারণা রয়েছে ১৬ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তার। ২১টি ব্যাংকের ওপরে এ জরিপ চালায় বিআইবিএম। এর মধ্যে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১৪টি, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক তিনটি এবং বিদেশি ব্যাংক তিনটি। গ্রাহকদের মধ্যেও একই জরিপ চালিয়েছে বিআইবিএম। এতে দেখা গেছে, ৫৪ শতাংশ গ্রাহক সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে অজ্ঞ।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ৯০ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাংকিং খাতে সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে এবং এ খাতে তথ্য নিরাপত্তা বিঘ্নের আরও কিছু কারণ রয়েছে। কারণগুলো হলো- নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অজ্ঞতার অভাব, গ্রাহকদের অসচেতনতা, বাইরের আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরে ব্যাংকের অতি নির্ভরশীলতা, ব্যাংকিং খাতে আইটি এক্সপার্টের অভাব, প্রশিক্ষণ না থাকা এবং বাজেটের স্বল্পতা থাকার কারণে ব্যাংকিং খাতে সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে।

কর্মশালায় এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তার পেছনে গত কয়েক বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিবছর আইটি নিরাপত্তার রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ আরও দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এরপরও দেশের  অনেক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গাইডলাইন অনুযায়ী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মানসম্মত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। এ কারণে ব্যাংকিং খাতে সাইবার ঝুঁকি এখনও রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপরে সাইবার আক্রমণ প্রায়ই ঘটছে এবং সেগুলো খুব বড় ধরণের  ও জটিল। আর্থিক খাতের পুরো ব্যবস্থাকে নষ্ট করে ফেলেছে। এ অপরাধীরা সাইবার আক্রমণ করে বড় অংকের তহবিল  হাতিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে এটিএম জালিয়াতির মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে ।’

বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী বলেন, ‘সাইবার ঝুঁকিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এ ধরনের একটি বড় ঝুঁকি ব্যাংকিং খাতে থাকলেও দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে। তাই ভারতের মতো আলাদা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এটি করতে না পারলে আরও ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক দেবদুলাল  রায় বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে গাইডলাইনে বেশকিছু পরিবর্তন আনা হবে। আইটি নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।’

পূবালী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ আলী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংককে আইটি নিরাপত্তা খাতে আরও জোর দিতে হবে। কোনও সংকেত আসলেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ ব্যাংকে অ্যালার্ট ম্যাসেজ দেখলেও ঠেকানোর জন্য দক্ষ জনবল নেই।’

 /জিএম/ এপিএইচ/