এফটিএ নেই, তাই তৈরি পোশাকে ডিউটি ফ্রি সুবিধাও নেই: বার্নিকাট

বার্নিকাটযুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রফতানিতে ডিউটি ফ্রি সুবিধা পাওয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া এস. বার্নিকাট। তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যেসব দেশ তৈরি পোশাক রফতানিতে ডিউটি ফ্রি কোটা ফ্রি সুবিধা পায়, সেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) রয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ধরনের এফটিএ নেই, তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে ডিউটি ফ্রি কোটা ফ্রি সুবিধা পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
বুধবার (১৭ মে) ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট (টিকফা) কাউন্সিলের তৃতীয় সভা শেষে বিকালে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের বিদ্যমান শ্রম বিষয়ক জটিলতা নিরসনের ওপর জিএসপির ভাগ্য নির্ভর করছে।’
তবে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব শুভাষীষ বসু সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেন, ‘বৈঠকে জিএসপি নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি। আমরা এ বিষয়টি আলোচ্যসূচিতেই রাখিনি।’
বুধবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ২২ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ও শ্রম সচিব মিকাইল শিপারসহ মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ মার্ক লিন্সকট এতে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রফতানিতে ডিউটি ফ্রি কোটা সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় তোলা হয়েছিল। এর জবাবে মার্কিন টিমের পক্ষ থেকে এফটিএ চুক্তির উল্লেখ করে ওই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
শ্রম সচিব মিকাইল শিপার জানান, শ্রম বিষয়ক আলোচনায় বংলাদেশের রানা প্লাজা ধসের পর সরকারি ও বেসরকারিভাবে নেওয়া সব উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বৈঠকে আমরা বলেছি, ইপিজেডে অবস্থিত কারখানাগুলোতে ট্রেড ইউনিয়নের আদলেই ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন গঠন নিয়ে কাজ করছি। আশুলিয়ায় আন্দোলনকারী কয়েকজন শ্রমিকের নামে মামলা রয়েছে। এগুলো আদালতে বিচারাধীন। এসব মামলা আদালত থেকে তুলে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছে বলেও আমরা তাদের জানিয়েছি।’
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের রফতনি বাড়ানো, ওষুধ আমদানি, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, চুক্তি বলবৎকরণ, সরকারি ক্রয় পদ্ধতি ও লেবার ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা বাংলাদেশের ট্যাক্স পলিসি, উিউটি স্ট্রাকচার, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কোম্পানিসগুলোর ট্যাক্স কাঠামো, সরকারি টেন্ডারিং স্বচ্ছতার বিষয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।’
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যথাসম্ভব সব ধরনের সন্তোষজনক উত্তর ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়ে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের সার্ভিস খাত, টেলিকমিউনিকেশন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, আইসিটি, এনার্জিসহ সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের বৈঠকে বাংলাদেশের গত ২০ বছরের অর্থনীতি ও আগামী ২০ বছরের অর্থনীতি সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি। আমরা তাদেরকে বলেছি, বাংলাদেশের আগামী প্রজন্ম হবে শতভাগ ডায়নামিক। আমাদের দেশের অর্থনীতির চিত্র তাদের সামনে তুলে ধরার পর তারা বিস্মিত হয়েছে।’
/এসআই/টিআর/