বাজেটে হিজড়াসহ সুবিধা বঞ্চিতদের ভাতা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি

জাতীয় সংসদে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতহিজড়া জনগোষ্ঠীসহ সমাজের সবচেয়ে সুবিধা বঞ্চিতদের সুরক্ষা প্রদানের অংশ হিসেবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে হিজড়া জনগোষ্ঠীর বিশেষ ভাতা খাতে বরাদ্দ ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে হিজড়া জনগোষ্ঠীর বিশেষ ভাতা খাতে এখন বরাদ্দ হবে ১১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে সুবিধা বঞ্চিতদের সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়ানো এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বাজেটে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বাজেটে বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩৫ লাখে উন্নীতকরণ করা হয়েছে। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতাভোগীর সংখ্যা ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ১২ লাখ ৬৫ হাজারে উন্নতীকরণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অসচ্ছল  প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৮ লাখ ২৫ হাজারে এবং মাসিক ভাতার পরিমাণ ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা উন্নতীকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষাথীদের শিক্ষা উপবৃত্তির উপকারভোগীর সংখ্যা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ৫ হাজার করে মোট ১০ হাজার বৃদ্ধিকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ভাতার খাতে বরাদ্দ ৬ কোটি ৩২ লাখ বাড়িয়ে ২৭ কোটি টাকায় উন্নীতকরণ করা হয়েছে। ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বরাদ্দ ২০ কোটি বাড়িয়ে ৫০ কোটি টাকায় উন্নীতকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, চা শ্রমিকদের উন্নয়ন কর্মসূচি খাতে ১৫ কোটি বরাদ্দ এবং খাদ্য দ্রব্যাদির পরিবর্তে জনপ্রতি এককালীন নগদ ৫ হাজার টাকা করে প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে নানামুখী কার্যক্রম রয়েছে বাজেটে। এসব কার্যক্রমের বিপরীতে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে মোট এক হাজার ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থ বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি। নতুন করে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য একটি করে ‘রিসোর্স সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা এবং সম্ভব সকল ক্ষেত্রে কোটা সংরক্ষণের বিষয় বিবেচনা করা হবে বলেও অর্থমন্ত্রী জানান।

/সিএ/এসএ/