স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত জাপানের

তোফায়েল আহমেদবাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করবেন জাপানের ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল নিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় এ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোনের যে কোনও একটিতে জাপানের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করবেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বুধবার (০২ আগস্ট) সচিবালয়ে তার অফিসকক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দশ বছর আগে ইপিজেডে জাপানের ৩৫টি কোম্পানির বিনিয়োগ ছিল।এখন সেখানে ৩৫০টি কোম্পানি বিনিয়োগ করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশকে অস্ত্র ও হ্যান্ড গ্লোভস ছাড়া সব পণ্য রফতানিতে জাপান ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা দিয়েছে। গত বছর জাপানে এক দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে বাংলাদেশ সেদেশ থেকে আমদানি করেছে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘তৈরি পোশাক,চামড়া ও চামড়াজাতসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে জাপানে। কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল জাপান সফর করবে।’ জাপানকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা করেছে জাপান। দেশটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও উন্নয়নের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। জাইকা বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।’

বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে শতভাগ মূলধন বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিনিয়োগকারী মূলধন ও লাভ ফিরিয়ে নিতে পারবেন। সরকার আইন করে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করেছে।’

এ সময় জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন,‘বাংলাদেশ জাপানের ভালো বন্ধু। আগামীতে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। জাপানের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ করবেন তারা।’

এ সময় বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসু ও ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

/এসআই/এএম