মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ওই কর্মকর্তার কী অপরাধ ছিল?

 

ব্যাংক কর্মকর্তার ক্ষমা চাওয়ার এই ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েমিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার ছবি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। মাথা নিচু করে হাঁটু গেড়ে বসা ওই কর্মকতাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, নাকি তিনি কোনও অপরাধ করে ক্ষমা চাচ্ছেন, ছবি দেখে তা বোঝা যায় না। তবে বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে প্রকৃত তথ্য।

জানা গেছে, হাঁটু গেড়ে বসে থাকা ওই ব্যাংক কর্মকর্তা সাড়ে চার বছর ধরে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের মতিঝিল প্রিন্সিপাল শাখায় (ক্যাশ) চাকরি করতেন। ১০ লাখ টাকার একটি লেনদেন করা কেন্দ্র করে গত ২৮ আগস্ট তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরি ফিরে পেতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে মাথা নিচু করে হাঁটু গেড়ে বসে করজোড়ে ক্ষমা চান। ওই সময় ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা তার ক্ষমা চাওয়ার ওই ছবি মোবাইলে ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেন।

যে কর্মকর্তার সামনে মাথা নিচু করে, হাঁটু গেড়ে বসে করজোড়ে ক্ষমা চেয়েছেন, তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যিনি অপরাধ করেছেন, তিনি আমার কাছে এসেছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই কর্মকর্তা ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ন করার মতো অপরাধ করেছেন। অর্থ আত্মসাতের মতো ঘটনায় ঘটিয়েছেন। এ কারণে ব্যাংকের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগ তাকে অব্যাহতি চিঠি দেয়।’

ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে এই ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই সময় দরজার বাইরে থেকে যিনি ছবি তুলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তিনি ঠিক কাজ করেননি।’

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক মতিঝিল শাখা

এ প্রসঙ্গে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাংলা ট্রিবিউনকে জানানো হয়েছে, একজন গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন ক্ষমা চাওয়া কর্মকর্তা।  ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন। পরে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপরাধে তাকে প্রথমে সাসপেন্ড করা হয়। তবে অর্থ-আত্মসাতের বিষয়টি  স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় তাকে প্রধান কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ব্যাংকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আত্মসাৎ করা ওই টাকা ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ব্যাংকটির প্রিন্সিপাল শাখার ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনও কর্মকর্তাকে নিয়মের বাইরে কোনও ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়নি।’

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খানের কাছে এ বিষয়টি জানতে তার মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে তিনি একটি এসএমএস পাঠিয়েছেন। এসএমএসে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি মিটিংয়ে আছেন, পরে কল ব্যাক করবেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি আর কল ব্যাক করেননি এবং এই প্রতিবেদকের কলও রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে ক্ষমা চাওয়া ওই ব্যাংক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যাংকের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি আমি মেনে নিয়েছি।’ এ বিষয়ে তিনি আর কোনও কথা বলতে রাজি হননি।