শ্রীলঙ্কা সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) কলম্বোয় দেশটির ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড মিনিস্টার মালিক সামারা উইকরামার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বকসী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ মনে করে, শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের তৈরি ওষুধ, কাগজ, সিমেন্ট, টিন, এমএস রড ও কৃষিপণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। শ্রীলঙ্কার আরোপিত ট্যারিফ ও প্যারা-ট্যারিফের হার অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি হওয়ার কারণে বাংলাদেশ থেকে এসব পণ্য রফতানি করা যাচ্ছে না।
মন্ত্রী বলেন, বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও দু’দেশের বাণিজ্য খুবই কম। এ মুহূর্তে উভয় দেশের বাণিজ্য ৮০ থেকে ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে। এ বাণিজ্য অনেক বেশি হতে পারতো। বাংলাদেশ আশা করছে, এফটিএ স্বাক্ষর হলে উভয় দেশের বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রফতানি বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য রফতানি পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তিতে ২০২১ সালে বাংলাদেশের রফতানি ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে।
মালিক সামারা উইকরামা শ্রীলঙ্কার ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির প্রেসিডেন্ট। তিনি বাংলাদেশের বিষয়ে খুবই আন্তরিক। বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়নের প্রশংসাও করেন তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি আগামী শীতে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ সময় শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ ও শ্রীলঙ্কার ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড মন্ত্রণালয়ের সচিব উপস্থিত ছিলেন।