ভারতের টাইমস্ গ্রুপ আয়োজিত ইকোনমিক টাইমস্ এশিয়া ব্যবসায়ী সম্মেলনে সম্মানিত অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বুধবার (২৯ নভেম্বর) এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ নাজিব বিন আব্দুল রাজাক এবং ভিডিওবার্তার মাধ্যমে শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহ যৌথভাবে সম্মেলন উদ্বোধন করেন।
সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী মোস্তপা মোহামেদ, ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী সুরেশ প্রভু, শ্রীলংকার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণা বিষয়কমন্ত্রী সুশীল প্রেমাজয়ান্তা, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত আতিকুল্লাহ আত্ফামাল, তাইওয়ানের বহিঃবাণিজ্য উন্নয়ন কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ড. চুয়াং সু হং, কম্বোডিয়ার প্রেসিডেন্টের উপমন্ত্রী ওউক প্রেচিয়া ও মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত চার্লস জোসে বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনে বিশ্বের ২০টি দেশের ব্যবসায়ী নেতা, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, ব্যাংকার, শিক্ষাবিদ, থিঙ্কট্যাংক, বিশ্বব্যাংক, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের চার শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধির প্রায় ৮০ ভাগ উৎপাদনমুখী ও সেবা শিল্পখাত দখল করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ছাপ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তৈরি পোশাক শিল্পখাত বাংলাদেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিলেও সরকার একইসঙ্গে অন্যখাতের গুণগত মানোন্নয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশি ওষুধ ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের শতাধিক দেশে রফতানি হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান দেশগুলোতে বাংলাদেশে তৈরি জাহাজ বিক্রি হচ্ছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে এ দেশের সফ্টওয়্যার শিল্প বিলিয়ন ডলার শিল্পে পরিণত হবে।’ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিনিয়োগের জন্য বর্তমানে বাংলাদেশে সবচেয়ে উপযোগী পরিবেশ বিরাজ করছে বলেও জানান শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে জিডিপি, রফতানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগে দেশি-বিদেশি সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।’ বর্তমান সরকার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী বলে উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের উদীয়মান জাহাজনির্মাণ ও রিসাইক্লিং, রাসায়নিক সার, অটোমোবাইল, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ, সিরামিক, প্লাস্টিক, আইসিটি, সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ, পর্যটন, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং টেলিযোগাযোগখাতে বিনিয়োগে বিদেশি ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।