করদাতাদের অংশ গ্রহণের মধ্যদিয়ে সারাদেশে পালিত হলো আয়কর দিবস। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।এদিন আয়কর পরিচয়পত্রকে কপিরাইট বা মেধাস্বত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) শেষ হলো ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর রিটার্ন দাখিলেরও দিন। এদিন রাতের মধ্যে যারা রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হবেন, তাদের নির্ধারিত করের ওপর মাসিক দুই শতাংশ হারে বিলম্ব সুদ গুনতে হবে। শেষ দিনে রিটার্ন দাখিল ও আয়কর প্রদানের সুবিধার্থে যতক্ষণ পর্যন্ত করদাতা রিটার্ন দাখিল করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কর অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।
প্রসঙ্গত, গতবছর শেষ দিন প্রায় ১২টা পর্যন্ত রিটার্ন জমা পড়ে।
বৃহস্পতিবার রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন হওয়ায় রিটার্ন দাখিল ও করসেবা নিতে সকাল থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশের করদাতাদের ভিড় দেখা যায়।
জানা গেছে, বিলম্ব সুদ পরিশোধ করে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে যেকোনও করদাতা ইচ্ছে করলে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় বাড়িয়ে নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনার বরাবর আবেদন করা হলে তিনি আয়কর দাতার দু’মাস পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দিতে পারেন।
এ প্রসঙ্গে এনবিআরের সদস্য আবদুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) রাত ১০টার মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হবে। এর পর কেউ আয়কর রিটার্ন জমা দিতে চাইলে তাকে বিলম্ব সুদ দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হবে না। নির্ধারিত সময়ে কোনও করদাতা বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিতে ব্যর্থ হলে ওই ব্যক্তির করের ওপর মাসিক দুই শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।’
কয়েকটি কর অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, রিটার্ন দাখিল, ই-টিআইএন বুথসহ সব বুথে করদাতাদের ব্যাপক ভিড়। বিশেষ করে রিটার্ন পূরণে করদাতারা বেশি ব্যস্ত। সাজানো গোছানো প্রতিটি বুথে করসেবা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, করদাতারা বুথে জায়গা না পেয়ে নিচে বসে রিটার্ন পূরণ করছেন। এবার তরুণ ও নারী করদাতার সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। কর কমিশনার, এনবিআর কর্মকর্তা ও এনবিআর সদস্যরা সেবা মনিটরিং করছেন। বুধবার (২৯ নভেম্বর) পর্যন্ত রিটার্ন পড়েছে ১০ লাখ ৫৮ হাজার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি। শেষ সময় পর্যন্ত এ সংখ্যা ১৮-২০ লাখ হয়ে যাবে বলে আশা করছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।
এর আগে সকালে এনবিআরের সামনে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। উদ্বোধন শেষে অভিনেতা-সংগীত শিল্পী ও অতিথিরা ঘোড়ার গাড়ি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন:
তিন লাখ টন আমন চাল কিনবে সরকার