জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুন-ডিসেম্বর) প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কম। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, জিডিপির আকার বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নয়ন পরিকল্পনা আর জিপিডির আকারের সঙ্গে ট্যাক্স জিডিপি পরিমাণও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেসব দেশে জিডিপিতে ট্যাক্সের অবস্থান ভালো তাদের বিদেশি নির্ভরতা কম থাকে। আমাদের টার্গেটও ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপিতে ট্যাক্সের পরিমাণ ১১ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া। তবে আমরা মানুষকে চাপ দিয়ে, কষ্ট দিয়ে রাজস্ব আহরণ করে ট্যাক্স জিডিপি বাড়াবো না। আমাদের একটা লক্ষ্য থাকবে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট না হলে দেশ এগিয়ে যেত না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো না। দেশে অর্থের প্রবাহ, অর্থনীতির আকার বাড়ছে বলে রাজস্ব আদায় হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া, বকেয়া রাজস্ব আদায়ে যত্নবান হবো। এছাড়া আমাদের আপিল ট্রাইব্যুনাল, জোনকে অনিষ্পন্ন মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি হলে সরকার ৫০ হাজার কোটি টাকা পাবে। তিনি বলেন, সরকারের কাছে কিছু বকেয়া পাওনা রয়েছে। আদায়ের লক্ষ্যে সচিবদের ডিও লেটার দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে দিকনির্দেশনা চাইবো। পেট্রোবাংলার কাছে ২২ হাজার কোটি টাকা, পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কাছে ২৩শ’ কোটি টাকা, ইমিগ্রেশন অথরিটির কাছে রয়েছে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা, বিটিআরসি, মোবাইল অপারেটরসহ বেশ কিছু কোম্পানি।
তিনি আরও বলেন, এনবিআরের মাঠ অফিসগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। জনবল বৃদ্ধি পেলে ট্যাক্স নেট বাড়ানোর সুযোগ হবে। জরিপ কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন নতুন করদাতা চিহিৃত করে কর আদায় করা হবে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, হয়রানি না করে সুযোগ বৃদ্ধি করেন, আমরা সঠিকভাবে রাজস্ব দেবো।
এনবিআরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা ট্রেড ফ্যাসিলেটেড করবো। ট্রেড ফ্যাসিলেটেশনের ফলে যদি ব্যবসায়ীরা ভালো করে তাহলে রাজস্ব বেড়ে যাবে। কর ও শুল্ক অব্যাহতি দেওয়ার সংস্কৃতি রয়েছে। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এ অব্যাহতি দেওয়া হবে। আমরা এখন শিশু না। আমাদের ব্যবসায়ীরাও শিশু নয়। আমাদের সবদিকে ম্যাচিউরিটি আসছে। একজন রেয়াত চাইলে, আরেকজন চাইবে। আমি এখানে কারও মুখ দেখে কাজ করবো না। কোনও বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেব না।