দেশে ২৪০ ধরনের পাটপণ্য উৎপাদন হচ্ছে: পাট প্রতিমন্ত্রী

সেমিনারে বক্তারাবর্তমানে বাংলাদেশে ২৪০ ধরনের পাটপণ্য উৎপাদন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। বুধবার (৭ মার্চ) ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। ‘পাট শিল্পের উন্নয়নে পাটের বহুমুখীকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

সেমিনারে মির্জা আজম বলেন, ‘বাংলাদেশের চার কোটি মানুষ সরাসরি পাট খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে বাংলাদেশের উদ্যেক্তারা ২৪০ ধরনের পাটপণ্য উৎপদান করছে। সরকারও ‘জুট প্যাকেজিং অ্যাক্ট’র মাধ্যমে প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। এ কারণে দেশে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পাটচাষীরা ভালো মূল্যে পাট বিক্রি করতে পারছেন।’ তিনি জানান, ২০১৪ সালে দেশে পাটের উৎপাদন ছিল ৬৫ লাখ বেল, ২০১৫ সালে ৭০ লাখ বেল, ২০১৬ সালে ৮৫ লাখ বেল এবং ২০১৭ সালে ছিল ৯২ লাখ বেল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পাট খাতে দক্ষ জনবলের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উপলব্ধি করে সরকার ইতোমধ্যে ৬টি টেক্সটাইল কলেজ এবং ১২টি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন করেছে।’ তিনি পাটপণ্যের বহুমুখীকরণের জন্য পাটবিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাট প্রতিমন্ত্রী স্বল্পমূল্যে পাটের তৈরি ব্যাগ উৎপাদন করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্ববান জানান।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সুপ্রাচীন কাল থেকে পাটের মাধ্যমেই কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ হয়েছে। পাট শুধুমাত্র আমাদের সোনালী অতীতই নয়, সোনালী ভবিষ্যৎও বটে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক দশক ধরে তৈরি পোষাক খাত এবং প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালক হিসেবে কাজ করেছে; এখন সময় এসেছে নতুন চালক খুঁজে বের করার। এক্ষেত্রে পাটের সম্ভাবনা খুবই বেশি।’ তিনি বলেন, মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য আমাদের অর্থনীতির জন্য নতুন একটি শক্তিশালী চালক প্রয়োজন; যা পাটের মাধ্যমে সম্ভব।’

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্য রফতানির মাধ্যমে বাংলাদেশ ৯৬২ দশমিক ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। তবে পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ, বাণিজ্যিক সৃজনশীল জ্ঞান স্বল্পতার জন্য পাটের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের ব্যাপক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে।’ তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের মোট পাটের ৩৩ শতাংশ উৎপাদন করে এবং কাঁচাপাটের প্রায় ৯০ শতাংশ রফতানি করে। তিনি বলেন, ‘পাট খাতকে এবং দেশে-বিদেশে পাটের বাজার পুনরুজ্জীবিত করতে “জুট পাল্প পেপার অ্যাক্ট” এবং “পাট আইন” প্রণয়ন একান্ত আবশ্যক।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইয়ের পাটের বহুমুখীকরণ বিষয়ক বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক মো. রাশেদুল করিম মুন্না। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, ‘পরিবেশ সচেতনতা ও সবুজ পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পাটের তৈরি শপিং ও ফুড গ্রেড ব্যাগ, কম্পোজিট, জিও-টেক্সটাইল, পাল্প ও কাগজের বিশাল বাজার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল জুট স্টাডি গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব বাজারে শপিং ব্যাগের বার্ষিক চাহিদা ৫০ বিলিয়ন পিস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০১৯ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; যা আমাদের পাট শিল্পের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি বিষয়।’

নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের উপদেষ্টা (গবেষণা) বাবুল চন্দ্র রায়, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. এ এফ এম আকতারুজ্জামান এবং পাটকল করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মাহমুদুল হাসান অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও সেমিনারে ডিসিসিআই পরিচালক এস এম জিল্লুর রহমান, ডিসিসিআইর সাবেক ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এম এস সেকিল চৌধুরী, সাবেক পরিচালক আহম্মদ হোসেন মজুমদার, এ কে ডি খায়ের মোহাম্মদ খান, আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী, পাট অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শামছুল আলম, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (জিটিপিডিসি) পরিচালক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ এবং বাংলাদেশ জুট গুডস্ এক্সপোরটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক পাটোয়ারী প্রমুখ অংশ নেন।