অনেকেই কর ফাঁকির সুযোগ খোঁজেন: এনবিআর চেয়ারম্যান

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া (ছবি: সংগৃহীত)অনাদায়ী অনেক ভ্যাট ও ট্যাক্স আছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘করদাতাদের অনেকেই কর ফাঁকি দেওয়া ও বিলম্বিত করার সুযোগ খোঁজেন।’ মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘কেউ কেউ আছেন ট্যাক্স ধার্যের অভিযোগে মামলা করে রেখেছেন। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, কর ফাঁকি দিয়ে দেশ ছেড়েও চলে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনাদায়ী অনেক ভ্যাট ও ট্যাক্স আছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এগুলো বছরের পর বছর ধরে আনাদায়ী থাকছে।’ তিনি বর্তমানে যেসব মামলা বিচারধীন আছে বিকল্পবিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বকেয়া সব কর পরিশোধের আহ্বান জানান।

বর্তমানে বকেয়া করের পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনাদায়ী বিপুল এই রাজস্বের সঙ্গে বিভিন্ন মামলা জড়িয়ে আছে।’ সব ধরনের বকেয়া কর আদায়ে আগামী ১৫ এপ্রিল রাজস্ব হালখাতা করার ঘোষণা দেন তিনি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিটি কর অফিসে উৎসবমুখর পরিবেশে এ হালখাতা অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বকেয়া কর পরিশোধকারীদের দেওয়া হবে প্রণোদনা (ইনসেনটিভ)।’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আগামী ১৫ এপ্রিল  সারাদেশে ‘রাজস্ব হালখাতা ও বৈশাখী উৎসব’ পালন করা হবে।’’

প্রাক-বাজেট আলোচনায় গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘এখনই নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা উচিত।’ তিনি সারচার্জ নীতিতে সংশোধন আনার প্রস্তাব দেন। এছাড়া  আগামী বাজেটে করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাবও করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘‘সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমিয়ে তা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ‘ট্রান্সফার প্রাইজিং’-এর মাধ্যমে অর্থপাচার করছে, তা দ্রুতই রোধ করতে হবে। শেয়ার বাজারকে শক্তিশালী করতে বাজেট ইয়ারি সহায়তা করতে হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য বাজেটে করপোরেট কর কমাতে হবে।’’

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মামুন রশীদ বলেন, ‘বাংলাদেশে এ মুহূর্তে বিনিয়োগের মহাযজ্ঞ দরকার। এতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিনিয়োগে সমন্বয় ঘটবে। কর্মসংস্থান বাড়বে, অর্থনীতিতে ভারসাম্য তৈরি হবে। ব্যবসায়ীরা যেন অর্থের পুনঃবিনিয়োগ করতে পারে, সে সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।’