কনডেনসেট আমদানি ও পরিশোধনে আসছে নীতিমালা





বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সম্পদ বিভাগ

নীতিমালার আওতায় আসছে গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট আমদানি ও প্রক্রিয়াকরণ। সরকারের বেঁধে দেওয়া এই নিয়মের মধ্যেই কনডেনসেট আমদানি ও পরিশোধন করে জ্বালানি উৎপাদন (ফ্রাকশনেশন) করতে হবে। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নীতিমালা তৈরিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মতামত নেওয়া হয়েছে। খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারের নিয়মের বাইরে গিয়ে ব্যবসা করলে জরিমানা করা হবে। এমনকি উদ্যোক্তাদের অনুমোদনও বাতিল করা হবে।
নীতিমালায় আমদানি নির্ভর কনডেনসেট প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্টের বিষয়ে বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। বলা আছে, আমদানিকারকদের অবশ্যই ৩০ হাজার টনের সংরক্ষণাগার বা স্টোরেজ ট্যাংক থাকতে হবে। এছাড়া তাদের নিজস্ব জেটিও থাকতে হবে।এছাড়া যেসব কনডেনসেনট রিফাইনারিংয়ের রিফাইনাররা আন্তর্জাতিক মানের পণ্য, যেমন, পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, এমটিটি এবং কেরোসিন ইত্যাদি উৎপাদনে সক্ষম শুধু তাদেরকেই গ্যাস কনডেনসেট আমদানি বা স্থানীয়ভাবে গ্রহণের জন্য অনুমোদন দিতে হবে। অন্যদিকে কনডেনসেট রিফাইনারি হতে উৎপাদিত পণ্যসমূহ অবশ্যই বিএসটিআই মানের হতে হবে।
আমদানির বিষয়ে নীতিমালায় বলা আছে, পেট্রোবাংলা থেকে স্থানীয় হেভি কনডেনসেট সরবরাহ করা সম্ভব নয় মর্মে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে। কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্ট স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হেভি কনডেনসেট আমদানি করতে পারবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্ল্যান্ট কনডেনসেটের প্রতিটি পার্সেল আমদানির আগে বিপিসি’র কাছে আবেদন করবে। বিপিসি যাচাই বাছাই করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠাবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে বিপিসি’র অনাপত্তিপত্র অনুযায়ী অনুমোদিত পরিমাণ কনডেনসেট সংশ্লিষ্ট প্ল্যান্ট আমদানি করতে পারবে। কনডেনসেট আমদানির ক্ষেত্রে এর আগেই স্থানীয়ভাবে বা আমদানির মাধ্যমে প্রাপ্ত কনডেনসেটের ব্যবহার বিষয়ক তথ্য বিপিসিকে দিয়ে প্রতি পার্সেলের জন্য বিপিসি’র কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
নীতিমালায় আরও বলা আছে, অনুমোদিত কনডেনসেটের সালফারের পরিমাণ পরিবেশ অধিদফতরের নির্ধারিত বা অনুমোদিত মাত্রার মধ্যে থাকতে হবে। দেশে ডিজেলের চাহিদা বেশি থাকায় ন্যূনতম ৩০ শতাংশ ডিজেল পাওয়া যাবে এমন মানের কনডেনসেট আমদানি করতে হবে। পণ্যের মান পরিবেশ অধিদফতর নির্ধারিত মানের মধ্যে থাকতে হবে। এমন কনডেনসেট আমদানির করা যাবে না, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য কনডেনসেট আমদানি, ব্যবহার, মজুত, বিভাজনের মাধ্যমে প্রাপ্ত পণ্য এবং সরবরাহ বিষয়ের সব তথ্য তিন মাস পরপর বিপিসি’র কাছে পাঠাতে হবে। তথ্য না পাঠালে বিপিসি তাদের আমদানির অনুমোদন বাতিল করতে পারবে। এছাড়া বিপিসি’র অনুমোদিত পণ্য ছাড়া অন্য কোনও পণ্য উৎপাদন করতে পারবে না। উৎপাদিত পণ্য বিপিসি’র কাছে বিক্রি করতে হবে এক্ষেত্রে প্রতিবছর অক্টোবরের মধ্যে এবং গ্রেডভিত্তিক পণ্য প্রক্রিয়াকরণের বিষয়টি বিপিসিকে জানাতে হবে। ওই সরবরাহের বিষয়ে বিপিসি’র চাহিদা থাকলে অনাপত্তিপত্র দেবে। অর্থাৎ উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান বছরের শুরুতেই কী পরিমাণ কনডেনসেট প্রক্রিয়া করবে তার একটি ধারণা পাবেন। কোনও কারণে উদ্যোক্তা প্রক্রিয়াকরণে ব্যর্থ হলে তিন মাস আগেই তা বিপিসিকে জানাতে হবে। উদ্যোক্তা কোনও অবস্থাতেই উৎপাদিত পণ্য দেশের ভেতরে বাজারজাত করতে পারবেন না।
জ্বালানি বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। খুব শিগগির এটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘কনডেনসেট আমদানির বিষয়টি একটি নীতিমালার মধ্যে আনা হচ্ছে। এতে সচ্ছতা নিশ্চিত হবে।’
বিপিসি’র কর্মকর্তারা বলছেন, কনডেনসেট গ্যাস ক্ষেত্রের উপজাত। এই উপজাত দিয়ে জ্বালানি তেল তৈরি করলে তা নিম্নমানের হয়ে থাকে। বিপিসি যে পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন বা আমদানি করে তার থেকে দেশে উৎপাদিত কনডেনসেটের তেলের মান খারাপ। তারপরও যেহেতু দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উপজাত তাই কনডেনসেট থেকে উৎপাদিত তেল দেশে ব্যবহার করা হয়।
এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে যে কনডেনসেট পাওয়া যায় সেটি আমরা রিফাইন করে ব্যবহার করছি। এটি ঠিক আছে। এতে যে পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যায় তা দিয়ে দেশের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে। নীতিমালাটি যাতে কনডেনসেট আমদানিকারকদের সুবিধা দিতেই করা না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আমদানিকারকদের যদি সত্যিই নীতিমালার মধ্যে আনা যায় তাহলে কিছুটা হলেও জবাবদিহি তৈরি হবে।’