খুলনা-ঢাকা রেলপথের খুলনা থেকে দর্শনা পর্যন্ত ডাবল লাইন নির্মাণের উদ্যোগ অবশেষে আলোর মুখ দেখছে। মঙ্গলবার (৮ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প অনুযায়ী খুলনা থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পর্যন্ত ১২৬ কিলোমিটার রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করা হবে। ভারত সরকারের প্রতিশ্রুত দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, বর্তমান সিঙ্গেল লাইনের কারণে দু’টি ট্রেন চলাচলে দীর্ঘ সময় লাগে। তাই ডাবল লাইন নির্মাণ হলে সময় বাঁচবে ও যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে। প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে তিন হাজার ৮০১ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা থেকে মংলাবন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় খুলনা-দর্শনা পর্যন্ত ১২৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রডগেজ সেকশনে ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া, ১৪ দশমিক ৪০ কিলোমিটার লুপ নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ, একটি মেজর ও ৯টি মাইনর ব্রিজ, ১৩০টি আরসিসি বক্স কালভার্ট, সাতটি স্টেশন বিল্ডিং নির্মাণ, ৯টি স্টেশন বিল্ডিং পুনর্বাসন, ২৫টি প্লাটফর্ম, বিদ্যমান ১২টি স্টেশনের প্লাটফর্ম পুনর্বাসন, ১৭টি ফুট ওভারব্রিজ এবং ১৮টি রেলওয়ে স্টেশনে সিবিআই ইন্টারলকিং সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপন করা হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পে ভারতের অর্থ সহায়তা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। বাকি ৮২১ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।
এ ছাড়াও একনেকের সভায় জামালপুরের মেলান্দহে শেখ হাসিনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনয়ারিং কলেজ স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বস্ত্র খাতে প্রযুক্তিবিদ তথা দক্ষ জনবল সৃষ্টির মাধ্যমে গুণগত মান সম্পন্ন ও যথাযথ মূল্যের বস্ত্র শিল্পপণ্য তৈরি করা; কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ২৮১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতায় বস্ত্র পরিদফতর এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। ২০২০ সালের ৩০ জুন মেয়াদকালে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
একনেকে রংপুর সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটিও অনুমোদন পেয়েছে। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নবগঠিত রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন। সিটি করপোরেশন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরী গড়ে তোলা, সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের মাধ্যমে যানজট নিরসনসহ উন্নতর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রকল্প এলাকার জনগণের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নও এই উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্দেশ্য। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ২১০ কোটি টাকা। এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় রংপুর সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন করবে। ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদকালে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
এ ছাড়া, একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো– ‘জাতীয় জীন ব্যাংক স্থাপন’ প্রকল্প, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ‘পাহাড়তলী ওয়ার্কসপ উন্নয়ন’ প্রকল্প, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘নওগাঁ সড়ক বিভাগাধীন ১টি আঞ্চলিক (আর-৫৪৯) ও ২টি জেলা (জেড-৬৮৫২, জেড-৫২০৭) মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্প, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘জয়পুরহাট (হিচমী)-পুরান আইপল-পাঁচবিবি- হিলি (শহর লিংকসহ) মহাসড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্প, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘নড়াইল-ফুলতলা জেলা মহাসড়ককে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্প, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘উল্লাপাড়া রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ’ প্রকল্প, স্থানীয় সরকার বিভাগের দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনঃনির্মাণ ও পুনর্বাসন’ প্রকল্প, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন (৪র্থ পর্যায়)’ প্রকল্প, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘১৫টি জেলা শিল্পকলা একাডেমি নবায়ন, সংস্কার ও মেরামত’ প্রকল্প, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প এবং জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়ক (এন-৪) ৪-লেন মহাসড়কে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প। একনেক সভায় বিভিন্ন মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।