চিংড়ি উৎপাদন কমছে

চিংড়ি

বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, দুর্বলতাসহ নানা কারণে রফতানিযোগ্য চিংড়ি চাষ ক্রমান্বয়ে কমছে। ‘হিমায়িত চিংড়ি চাষবৃদ্ধি এবং আনুষাঙ্গিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, দেরি না করে সরকারকে এদিকে নজর দিতে হবে। অন্যথায় চিংড়ি রফতানির ক্ষেত্রে ধস নামতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তারা।

মঙ্গলবার (২৬ জুন) রাজধানীর হোটেল পূর্বানীতে বিএফএফইএ এর সভাপতি আমিল উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্যমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দসহ খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও কক্সবাজার-২ এর এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, নৌ পরিবহন সচিব আব্দুস সামাদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী সফিউল হক বক্তৃতা করেন। 

সেমিনারে বক্তারা গত চার বছরের হিমায়িত চিংড়ি রফতানির নিম্নমুখী চিত্র তুলে ধরেন। তাতে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের ৪৭ হাজার ৬৩৫ মেট্রিক টন চিংড়ি রফতানি হলেও ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ সালে তা কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৫১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪৪ হাজার ২৭৮ মেট্রিক টন, ৪৭২ মিলিয়ন ডলারের ৪০ হাজার ২৭৬ হাজার মেট্রিক টন ও ৪৪৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৩৯ হাজার ৭০৬ মেট্রিক টন।

সংকট কাটাতে বাংলাদেশেও বিশ্বখ্যাত ভেনামি নামের সাদা চিংড়ি চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করে বাগদা চিংড়ির পাশাপাশি তার পরীক্ষামূলক চাষের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের পর মাছ ও মাংসেও বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন,খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা বলতে আমরা চাল ও ভাতকে বুঝালেও আসলে মাছ,মাংস, দুধ, ডিম, শাকসবজিও খাদ্যের অংশ। তাই রফতানিযোগ্য চিংড়ি মাছেও আমাদের অগ্রগতি অর্জন করা জরুরি। আমরা ইতোমধ্যে দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কাছাকাছি এগিয়েছি, ডিমেও আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে।

সেমিনারে চিংড়ি চাষের ওপর দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মৎস্য অধিদফতরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক অফিসার চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস ও সাবেক উপপরিচালক প্রফুল্ল কুমার সরকার। দেশি বাদামি চিংড়ির চেয়ে ভেনামি চিংড়ির উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম থাকায় তারা দুনিয়ার অন্যান্য  দেশের মতো এটিকেও ব্যাপকভাবে চাষাবাদের ওপর জোর দেন।