নিম্নমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৬ শতাংশ পোশাক কারখানা: সিপিডি

‘ট্রান্সফরমেশন ইন দ্য আরএমজি সেক্টর ইন পোস্ট রানা প্লাজা পিরিয়ড ফাইন্ডিংস ফরম সিপিডি সার্ভে’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারাদেশের মাত্রা ২১ শতাংশ পোশাক কারখানায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। আর নিম্নমানের প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে ১৬ শতাংশ পোশাক কারখানায়। গার্মেন্টস কারখানাগুলোর মালিকানা পরিবার ভিত্তিক, যেখানে ৬৫ শতাংশ পোশাক কারখানাই দ্বিতীয় প্রজন্ম পরিচালনা করে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ট্রান্সফরমেশন ইন দ্য আরএমজি সেক্টর ইন পোস্ট রানা প্লাজা পিরিয়ড ফাইন্ডিংস ফরম সিপিডি সার্ভে’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সেমিনারে কয়েকটি সেশনে পোশাক খাতের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সেমিনারে ন্যায্য মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের সম্মান করতে মালিকদের পরামর্শ দিয়েছেন সিপিডির চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা পশু নয়, তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করেই তৈরি পোশাক রফতানিতে বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।’

রেহমান সোবহান বলেন, ‘পোশাক খাত অনেক দূর এগিয়েছে। আজকে পোশাক খাতের উন্নয়নের মূল কারিগর শ্রমিক সমাজ। দেশের রফতানি পোশাকের ওপর নির্ভয়শীল। তাই এ খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে।’  তিনি বলেন, ‘রানা-প্লাজা দুর্ঘটনার পর পোশাক খাতে অনেক উন্নতি ঘটেছে। তবে এখনও লিঙ্গবৈষম্য রয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের ৮০ শতাংশই নারী। তাই এ খাতে তাদের অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে কাজের মূল্যায়ন করতে হবে। পাশাপাশি এ খাতে পুরুষের সংশ্লিষ্টতা বাড়ানো দরকার।’

আন্তঃপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতি ও সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘পোশাক খাতে রফতানি আয় ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর এই খাতে রফতানি আয় ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে, যা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এটি অর্জনে আমাদের রফতানির গতি আরও বাড়াতে হবে।’

বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু বলেন, ‘পোশাক খাতে নামি-দামি কোম্পানির প্রবেশ ঘটেছে। শ্রমিকের উন্নয়ন, বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তাসহ গুণগত অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তবে এ উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে হবে।’

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বড় ধাক্কা আসে রানা প্লাজার ট্র্যাজেডি। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় অনেক হতাহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনা আমাদের অনেক কিছু শিক্ষাও দিয়েছে। আর এ থেকে শিক্ষা পেয়ে পোশাক ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের জরিপ, শ্রমিক সেফটি, ফায়ার সেফটি, বিল্ডিং সেফটির মতো উন্নয়ন হয়েছে।’

সিপিডির গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের পোশাক কারখানাগুলোয় পারিবারিক প্রাধান্য রয়েছে। কারখানাগুলোর অধিকাংশই দ্বিতীয় প্রজন্ম দ্বারা পরিচালিত। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এসেছে তৃতীয় প্রজন্মও। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর দেশে গড়ে ওঠা অতিরিক্ত ১৯ শতাংশ কারখানা এখনও ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হচ্ছে। সিপিডির গবেষণা বলছে, ৬৫ শতাংশ গার্মেন্টস দ্বিতীয় প্রজন্ম দ্বারা পরিচালিত। ৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের ৩ জন পরিচালকের মধ্যে দু’জনই একই পরিবারের। একইসঙ্গে ৫৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান একই গ্রুপের ভিন্ন কোনও প্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি দিচ্ছে।

সিপিডির সম্মানীত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘পোশাক কারখানাগুলোর উন্নয়নে প্রযুক্তির অভিমুখী অবশ্যাম্ভাবী। এ উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্মকৌশল ও ব্যবস্থাপনা হতে হবে শ্রমিকদের স্বার্থে। সামগ্রিকভাবে যে নীতি কাঠামো আছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে যেসব প্রণোদনা দেওয়া হয় সেগুলোকে পুনর্বিবেচনা করা দরকার। যে উত্তরণ আমরা চাচ্ছি, সেই রুপান্তরের সঙ্গে এই নীতিগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, সেগুলো আরেকটু ভালো করে বিবেচনা করতে হবে।’